রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:৩২:১৪ এএম

বিজিবি-বিজিপি বৈঠক: সীমান্তে গুলির কথা অস্বীকার

জাতীয় | শুক্রবার, ২ মার্চ ২০১৮ | ০৬:০৮:৪২ পিএম

সীমান্তে ফাঁকাগুলি ছোড়ার ঘটনা অস্বীকার করে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনাসমাবেশ ছাড়াও নো ম্যানসে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ফের আশ্বাস দিয়েছে মিয়ানমার।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) মধ্যে বৈঠকে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে।

বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বৈঠক শুরু হয়। দেড়ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের হয়ে তমব্রু ও ঘুমধুম নিয়ন্ত্রণকারী ৩৪ ব্যাটেলিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।

শুক্রবার সকালে লে.কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সকালে মিয়ানমার সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা আজ বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুমধুম পয়েন্টে পতাকা বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে দেড়শ গজের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়, এ ধরনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি সীমান্তে বিভ্রান্তির পাশাপাশি উত্তেজনা ছড়াবে। তাই ওই এলাকা থেকে সামরিক সরঞ্জামাদি সরিয়ে নিতে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেন তিনি। এ ব্যাপারে তার কাছে একটি কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিজিবি সেখানে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশের ভেতরে এসে কেউ বিশৃঙ্খলা করবে, এটা অসম্ভব। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামে বিজিবির ৯১তম ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। ২০১৭র' ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন শুরু করে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। ফলে অন্তত ছয় হাজার মুসলমান নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হন। এ সময়ের মধ্যে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন