শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:৩৭:৩৩ এএম

থামছে না জাবির র‍্যাগিং সংস্কৃতি

শিক্ষাঙ্গন | শুক্রবার, ২ মার্চ ২০১৮ | ০৭:০১:৪৮ পিএম

র‌্যাগিং এর শিকার হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৪৬ ব্যাচের (২য় বর্ষ) শিক্ষার্থীদের হাতে র‌্যাগিংয়ের শিকার হন তিনি। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম আজওয়াদ রহমান। তিনি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। গতকাল উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই শিক্ষার্থী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ম্যানার শেখানোর (র‌্যাগিং) জন্য রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ৪৬তম ব্যাচের পাবলিক হেলথ এন্ড এনফরমেটিকস বিভাগের মুজতফা পাপ্পু, আইন ও বিচার বিভাগের তুরাগ, ভুতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রাজ্জাক, ইংরেজি বিভাগের রাকিব, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মুন্সি শাহেদ ইভান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাইদ আদনান ধ্রুবসহ ১৫-২০ জন গণরুমে (১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকা রুম) যায়।

রুমে ঢুকেই ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারা। এসময় তারা কান ধরে দাড়িয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে আজওয়াদকে জানালার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। দীর্ঘক্ষণ ঝুলে থাকার পর আজওয়াদ জানালা থেকে মেঝেতে পরে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তার সহপাঠি ও ৪৬ ব্যাচের অভিযুক্তরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিয়ে যায়।

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপ দিতে ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভুক্তোভগী ও তার সহপাঠিদের নির্দেশ দিয়েছে যে, ডাক্তারকে বলতে হবে ‘টয়লেটে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে।’ বুধবার রাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মো. সালেহ (সানি) বলেন, আমাকে বলা হয়েছে টয়লেটে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে। আমি সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়েছি।’ সে কোমড় ও পায়ে আঘাত পেয়েছে। তাৎক্ষণিক ইনজেকশন ও কিছু ঔষুধ লিখে দিয়েছি।

এদিকে ভুক্তোভোগী ও তার সহপাঠিরা র‌্যাগিং এর কথা যাতে স্বীকার না করে সেজন্য ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার দিন উপস্থিত না থাকলেও ওই হলে নিয়মিত র‌্যাগিং এর সাথে জড়িত আছে জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের সাধন বিশ্বাস।

সাধন ও তুরাগ এর অনুমতি ছাড়া হল এবং ক্যাম্পাসের বাইরে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের যাওয়া নিষেধ। র‌্যাগিংয়ের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয় অস্বীকার গিয়ে সাধন বলেন, আমি এমন কোন নির্দেশনা দেইনি। আমি বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাহিরে আছি। এসব বিষয়ে আমি অবগত না।

অভিযোগের বিষয়ে ইভানের কাছে জানতে চাইলে প্রতিনিধির সাথে রেগে গিয়ে বলেন, আমি ওইদিন রাতে হলে ছিলাম না। আপনি কেন আমাকে ফোন দিয়েছেন? আপনি জানেন আমি কে? আমি কেমন? আপনি কি জীবনেও প্রমাণ করতে পারবেন আমি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম? এসব বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বাকিদের কাছে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও কেউ রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু দায়েন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নষ্টামি থাকে তা আমাদের না জানালে এর প্রতিকার করা যায় না। আমি ঘটনাটি শুনেছি। আজ (গতকাল) হলে জরুরী সভার আহ্বান করেছি। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনব।

এর আগে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানকে র‌্যাগিং এর সময় শার্টের হাতের অংশ গুটানো কেন- এমন অজুহাতে বেধড়ক পিটিয়ে লেকে ফেলে দেয় ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তার আগে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র কর্তৃক র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রথম বর্ষের মিজান নামের এক শিক্ষার্থী মানসিক ভারসাম্য হারায়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন