শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ০২:৪৫:৪৫ পিএম

আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | শনিবার, ৩ মার্চ ২০১৮ | ০৭:০১:০০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুলনার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আজকে ১০০টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৮টি উদ্বোধন ও ৫২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছি। আমরা যা ওয়াদা দিয়েছিলাম তার বাইরে যে সমস্ত কাজ করলে জনগণের কল্যাণ হয় সেগুলোও করেছি। আমাদের লক্ষ্য উন্নয়ন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় মংলাবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তা চালু করে দিয়েছে।

শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভোলায় অনেক গ্যাস পাওয়া গেছে। সে গ্যাস পাইপলাইনে করে বরিশাল ও খুলনা যেন আসে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেউ কুঁড়েঘরে থাকবে না। নিদেন পক্ষে একটা টিনের ঘর হলেও করে দেয়ার ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে এবং বিএনপি শাসনামল এবং তাদের আন্দোলনের সময় সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করে আর বিএনপি করে ধ্বংস।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার জিতে ক্ষমতায় আসবে বলে আত্মপ্রত্যয়ী দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে নৌকায় ভোট দেয়ার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকার জয় হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সাল উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।’

‘গত নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছেন, উন্নয়ন হয়েছে’ এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা কি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চান? যদি চান, তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। আপনারা কি চান, দুই হাত তুলে ওয়াদা করেন’- শেখ হাসিনার এমন আহ্বানে দুই হাত তুলে উপস্থিত হাজারো জনতা জানিয়ে দেন তারা আগামীকেও নৌকায় ভোট দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন। মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন জনগণের হাতের মুঠোয়ে পৌঁছেছে কৃষিসেবা, চিকিৎসাসেবা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে সাজা পেতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছে। আদালতের রায়ে তিনি এখন কারাগারে আছেন। এখানে আওয়ামী লীগের কিছুই করা নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সে ধারাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত হবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে দেশে কোনো অন্ধকার ঘর থাকবে না, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন চায়। বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে বিভাগীয় শহরটিতে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে খালিশপুরে নৌবাহিনীর ঘাঁটি তিতুমীরে অবতরণ করে। এ সময় নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

এরপর সেখান থেকে বেলা ১১টায় খালিশপুর বায়তুল ফালাহ ঈদগাহ মাঠে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৮তম কনভেনশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন