রবিবার, ২০ মে ২০১৮ ০৪:১৯:১৪ পিএম

এই হামলাকারীরা কখনোই বেহেশতে যাবে না, দোজখের আগুনে পুড়বে

জাতীয় | রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮ | ০২:৩৩:৪৭ পিএম

ধর্মান্ধরাই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়েছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই বলে আবারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এমন হামলা করেছে তারা বেহেশতের আশায় করছে, কিন্তু এরা কখনোই বেহেশতে যাবে না।

রোববার (৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ও বিশেষ গবেষণা অনুদান দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার বিকালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়। ছুরি দিয়ে এই লেখক-অধ্যাপকের মাথায় আঘাত করে হামলাকারী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে আমাদের একজন শিক্ষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে একটি অনুষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় ছুরি মারা হয়েছে। আমি সাথে সাথে এয়ার ফোর্সকে বলে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দিয়ে ঢাকা সিএমএইচে নিয়ে এসে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে তার অবস্থা এখন অনেকটা স্ট্যাবল, ভালো। কিন্তু এই যে আঘাতটি করলো…এরা কারা? আমরা দেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসমুক্ত করতে চাই, মাদকমুক্ত করতে চাই।

এখানে আমরা দেখেছি তার পিছন দিক থেকে আঘাত করা হয়েছে। তার মাথায় এবং পীঠে। যারা এই ঘটনাগুলো ঘটায়, এরা ধর্মান্ধ হয়ে গেছে। তারা মনে করে যে, একটা মানুষ খুন করলেই তারা বেহেশতে চলে যাবে। তারা কোনওদিন বেহেশতে যাবে না, তারা দোজখের আগুনে পুড়বে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করলে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না।

এরা অন্ধত্বে ভুগছে। কেন? প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ আমরা চলতে দেবো না, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

মাদকের বিরুদ্ধে তার সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমামসহ অন্য ধর্মের যারা রয়েছেন, তাদের সকলকে আমি বলেছি, আমি যখন পাবলিক মিটিং করি তখনও এই আহ্বান জানাই যে, সকলে মিলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ থেকে ছেলেমেয়েকে মুক্ত রাখতেই হবে। তার জন্য যা যা করণীয় সবাইকে করতে হবে।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক আমাদের মেধাবী ছেলেমেয়ের সর্বনাশ করে দেয়, কাজেই এ ধরনের সর্বনাশের পথে যাতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আর না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

এই সভার মাধ্যমে আমি সকলকে আহ্বান করবো, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আমাদের দেখতে হবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে? কার সাথে যাচ্ছে? কার সাথে মিশছে? কী করছে? এটা জানতে হবে। ছেলে-মেয়েরা যাতে বাবা-মায়ের সাথে তাদের সমস্যা শেয়ার করতে পারে, সে দিকটি দেখতে হবে, পরামর্শ দিতে হবে। আর এই ধরনের মানসিক যোগাযোগ থাকা একান্ত প্রয়োজন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বাবা-মাকে সহণশীল হয়ে ছেলে-মেয়েদের কথা শোনারও পরামর্শ দেন তিনি। ছেলে-মেয়েদের মানসিকতাকে চিন্তায় রেখেই সেভাবে ব্যবহার করতে হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন