শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:৫৭:০১ এএম

ঢাকা সিটি নির্বাচনের কী হবে?

জাতীয় | সোমবার, ৫ মার্চ ২০১৮ | ০২:১১:৪০ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের ভোটের কী হবে, তা নিয়ে নগরজুড়েই চলছে আলাপ-আলোচনা। ভোটাররা বলেছেন, উত্তর সিটিতে নির্বাচিত মেয়র না থাকায় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রার্থীরাও ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ভোট হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা বলছেন, সামনে পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হবে। তার আগে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম হাতে নিতে হবে ইসিকে। এক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সমাধান হলেও ইসি ঢাকায় ভোট করতে পারবে বলে মনে হয় না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, জটিলতা সমাধান হলে ভোট করতে পারব। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আটকে আছে উচ্চ আদালতে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পৃথক তিনটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্টে স্থগিত হয়ে আছে এই নির্বাচন।

এই আবেদনগুলোতে জারি করা রুল দ্রুত নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগ আদেশ দিলেও এখনো হাই কোর্টে শুনানি শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিগগিরই এই রুল নিষ্পত্তি হয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই তিন রুল নিষ্পত্তিতে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ বিষয়ে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল হক বলেন, আপিল বিভাগ থেকে আদেশ হলেও এখনো আমাদের কোর্টে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আসেনি। আমার জানামতে কেউ বিষয়টি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেনি। রুলগুলো শুনানির জন্য কার্যতালিকায়ও আসেনি বলে জানান এই আইন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, এই মামলাটি মূলত নির্বাচন কমিশনের। তারাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি করবে। তবে আমরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে এখানে পক্ষভুক্ত হয়েছি।

তিনি বলেন, যে ভিত্তিগুলোর ওপর নির্ভর করে মেয়র পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, তার কোনো যুক্তিকতা নেই। আমরা চাই নির্বাচন অতিদ্রুত সম্পন্ন হোক। আমরা আদালতে এসব বক্তব্যই তুলে ধরব। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বিষয়টি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেবেন বলেও আশা করেন তিনি।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটিতে (উত্তর ও দক্ষিণ) নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের বিষয়ে দেওয়া পৃথক তিনটি রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনের পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি করে ওইদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ফলে রুল নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই সিটির নির্বাচন স্থগিতই থাকল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন নিয়ে হাই কোর্টের দুটি বেঞ্চে দেওয়া পৃথক রুল নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আপিল বিভাগের আদেশে।

গত ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান ডিএনসিসি মেয়র পদে উপনির্বাচন ও নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন। পরদিন দুটি রিটের শুনানি নিয়ে পৃথক রুল জারির পাশাপাশি নির্বাচন সংক্রান্ত তফসিলের কার্যকারিতায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট।

রুলে নির্বাচনের বিষয়ে ৯ জানুয়ারি ইসির জারি করা তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়াও দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনে (ডিএসসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া ১৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে পৃথক রিট করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। ওই রিটে ১৮ জানুয়ারি ডিএসসিসি নির্বাচন চার মাসের জন্য স্থগিত করে হাই কোর্ট।

পাশাপাশি নির্বাচনের বিষয়ে ৯ জানুয়ারি ইসির জারি করা তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশ দেয়। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তরে ভোট হয়েছিল।

প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পরে গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মেয়র আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১ ডিসেম্বর থেকে মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করে। ফলে আইন অনুযায়ী ৯০ দিন তথা গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই হিসাবে গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই সিটিতে নতুন যুক্ত ৩৬ ওয়ার্ডের ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর সিটির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ভোট হওয়ার কথা ছিল। এমনকি প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও আদালতের আদেশে ওই নির্বাচন আটকে আছে। -বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন