বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ০৯:২৪:৪৭ এএম

জাতীয় দলে ফেরার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন লিটল মাস্টার আশরাফুল

খেলাধুলা | সোমবার, ৫ মার্চ ২০১৮ | ০২:০৩:১৭ পিএম

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখালেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আর আসরে জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা দেখা গেল মাত্র দ্বিতীয়বার। গতকাল ঢাকা লীগে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় দেখে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি-৩) মাঠে টস জিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ব্যাটিংয়ে পাঠান কলাবাগানের অধিনায়ক মুক্তার আলী। আর ২৫২/৯ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস শেষ করে অগ্রণী ব্যাংক। জবাবে তাসামুল হক ও মোহাম্মদ আশরাফুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে সহজ জয় দেখে কলাবাগান। আর এভাবে ভালো খেলে জাতীয় দলে ফেরার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন লিটল মাস্টার আশরাফুল।

চলতি আসরে এর আগে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকান খেলাঘর সমিতির অনূর্ধ্ব-১৯ তারকা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও ভারতীয় ব্যাটসম্যান অশোক মেনারিয়া। গতকাল ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস। অগ্রণী ব্যাংকের ইনিংসের শুরুটা ছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে ১২৮ রানের জুটি গড়েন নাফীস ও আজমির আহমেদ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯৯ রানে কলাবাগানের অফস্পিনার মাহমুদুল হাসানের বলে স্টাপড হয়ে যান নাফীস। অপর ওপেনার আজমির করেন ৫৮ রান। তবে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন ব্যাংকের বাকি ব্যাটসম্যানরা। জুনাইদ জাভেদ করেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান। কলাবাগানের বল হাতে ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ৩৪ রানে তিন উইকেট নেন পাকিস্তানি পেসার আকবর উর রহমান। জবাবে শুরুতে ধাক্কা খায় কলাবাগান। দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট খোয়ায় তারা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ম্যাচজয়ী ১৮৮ রানের জুটি গড়েন আশরাফুল ও তাসামুল হক। নিজের উইকেট দেয়ার আগে ১০৬ রান করেন তাসামুল। অল্প ব্যবধানে তিন উইকেট খুইয়ে কিছুটা চাপে পড়ে কলাবাগান।

মিডলঅর্ডারে আবুল হাসান রাজু ৩, আকবর উর রহমান ৪ ও মুক্তার আলী সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৫ রানে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন ম্যাচসেরা মোহাম্মদ আশরাফুল। অগ্রণী ব্যাংকের পাকিস্তানি বাঁ-হাতি স্পিনার রেজা আলীর পর পর দুই বলে চার হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আশরাফুল। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা পেসার পেসার আল আমিন হোসেন ও শফিউল ইসলাম।

চলতি লীগে আশরাফুলের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ব্যাট হাতে এমন কৃতিত্ব রয়েছে আর কেবল লিটন কুমার দাসের। এর আগে প্রাইম দোলেশ্বর-এর বিপক্ষে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন আশরাফুল। যদিও ওই ম্যাচে লিটন কুমার দাসের আসর সেরা ১৪৩ রানের ইনিংসের কাছে হার দেখে আশরাফুলের কলাবাগান। চলতি ঢাকা লীগে সাত ম্যাচে এটি কলাবাগানের দ্বিতীয় জয়। আর সমান ম্যাচে পঞ্চম হার দেখলো অগ্রণী ব্যাংক। এ আসরে সাত ম্যাচে ৪২.১৬ গড়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের সংগ্রহ ২৫৩ রান। ২৪৬ ম্যাচের লিস্ট-এ ক্যারিয়ারে আশরাফুলের এটি সপ্তম সেঞ্চুরি। টেস্টে সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এখনো মোহাম্মদ আশরাফুলের।

২০০১’র সেপ্টেম্বরে কলম্বোর সিংহলিজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে টেস্ট অভিষেকে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৪ রান করেন ১৭ বছর ৬১ দিন বয়সী মোহাম্মদ আশরাফুল। তার আগে দীর্ঘ ৪০ বছর রেকর্ডটি ধরে রাখেন পাকিস্তানের মুশতাক মোহাম্মদ। ১৯৬১’র ভারত সফরে দিল্লি টেস্টে মুশতাক মোহম্মদ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ১৭ বছর ৭৮ দিন বয়সে।
কলম্বো টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৯০ ও ৩২৮। বাংলাদেশ ১৩৭ রানে হার দেখলেও লঙ্কান স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের (৫/১৩ ও ৫/৯৮) সঙ্গে যৌথভাবে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার কুড়ান আশরাফুল। পরে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা পোহান বাংলাদেশ জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কলাবাগান-অগ্রণী ব্যাংক
টস: কলাবাগান, ফিল্ডিং
অগ্রণী ব্যাংক: ৫০ ওভার; ২৫২/৯ (নাফীস ৯৯, আজমির ৫৮, জাভেদ ২০, সায়মন ১৯, আকবর ৩/৩৪, মুক্তার ২/৪৩, মাহমুদুল ২/৫৬)।
কলাবাগান: ৪৮.৪ ওভার; ২৫৬/৫ (তাসামুল ১০৬, আশরাফুল ১০২*, তাইবুর ১৫*, আল আমিন ২/২৭, শফিউল ২/৪৭, রেজা ১/৬৮)।
ফল: কলাবাগান ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ আশরাফুল (কলাবাগান)

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন