রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ১০:৩৪:৩৭ এএম

বিএনপির খালেদা জিয়া নয় জোবাইদা, আ’লীগে নতুন মুখের ছড়াছড়ি

মো. নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া ব্যুরো | রাজনীতি | মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮ | ০১:১৬:২১ পিএম

গাবতলী উপজেলা শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় বগুড়া-৭ আসনটি বিএনপির দুর্গ। গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে বগুড়া-৭ আসন থেকে খালেদা জিয়া বারবার বিপুল ভোটে এমপি হওয়ায় এটিকে জিয়া পরিবারের সংরক্ষিত আসন মনে করা হয়। সেনা সমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠার আগে অর্থাৎ ২০০৭ সালের একতরফা নির্বাচনে তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। এছাড়া ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে খালেদা জিয়া বিজয়ী হন। প্রতিবারই বিএনপি চেয়ারপারসন আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের ভোটে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আলতাব আলী এমপি হন।

এদিকে এমপির ডিও ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তার প্রতি নাখোশ আ’লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তবে তিনি সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। এদিকে বিএনপির এ দুর্গে ভাগ বসাতে তৎপর আওয়ামী লীগ। আর জাতীয় পার্টি চায় আসন ধরে রাখতে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। মোড়ে মোড়ে ঝুলছে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন। গণসংযোগের পাশাপাশি আ’লীগ প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ডের দিকে চেয়ে থাকলেও বিএনপি প্রার্থীরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

নব্বইয়ের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে এমপি হন। এছাড়া ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের ভোটেও খালেদা জিয়া বড় জয় পান। প্রথম তিন বারের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। ২০০৮ সালের উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা তাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে চান। তবে কোনো কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিকল্প হিসেবে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে চান। আর বিএনপি থেকে যাকেই প্রার্থী করা হোক না কেন জনগণ চোখ বন্ধ করে ধানের শীষে ভোট দেবেন।

তবে খালেদা জিয়া ও জোবাইদা রহমানের বিকল্প হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন, জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও শাজাহানপুর শাখা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশার এবং শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদলের নাম শোনা যাচ্ছে।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, বগুড়া-৭ আসন জিয়া পরিবারের। এখান থেকে কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন না। আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী কখনও ছিলাম না, এখনও নেই। ম্যাডামের নির্দেশে তিনবার উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কোনো কারণে জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ না নিলে এবং হাইকমান্ড বললে নির্বাচনে অংশ নেব।

মোরশেদ মিল্টন বলেন, জিয়া পরিবার অবশ্যই নির্বাচন করবে। পরে আসনটি যদি ছেড়ে দেয়া হয় সেখানে দল উপনির্বাচনে অংশ নিতে বললে নেব।

আবুল বাশার বলেন, যদি কোনো কারণে জিয়া পরিবারের কেউ নির্বাচনে আসতে না পারেন সেক্ষেত্রে তৃণমূল ও দলকে ধরে রাখার জন্য ও দলের স্বার্থে প্রার্থিতা চাইব। অপর সম্ভাব্য প্রার্থী সরকার বাদল বলেন, যে কোনো মূল্যে জিয়া পরিবার এ আসনে ভোট করবে। সরকার যদি নির্বাচনে অযোগ্য করতে চায় তাহলে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনে আনব। তবে কোনো কারণে জিয়া পরিবার যদি ভোটে অংশ নিতে না পারে সেক্ষেত্রে যাকে দেবেন তার পক্ষেই কাজ করব।

আ’লীগ বলছে, আসনটিকে এখন আর বিএনপির দুর্গ বলা যাবে না। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কারণে ভোটাররা এখন বিএনপিবিমুখ। তাই আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই আসনে তাদেরই জয় হবে।

এদিকে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা, সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একেএম আসাদুর রহমান দুলু, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, সংরক্ষিত বগুড়া-জয়পুরহাট আসনের সাবেক এমপি কামরুন নাহার পুতুল,শহর আ’লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইমারত আলী, গাবতলী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এএইচ আজম খান, শাজাহানপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলাম ও জেলা মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক হেফাজত আরা মিরা।

জানতে চাইলে টি জামান নিকেতা জানান, ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আ’লীগের রাজনীতিতে আসি। নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় হবে। আর মানুষের সেবায় কাজ করে যাব।

আসাদুর রহমান দুলু বলেন, তিনি আগে থেকেই এলাকার অলিগলি চষে বেড়াচ্ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আ’লীগের রাজনীতিতে আসেন। মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনাকে প্রথমবারের মতো আসনটি উপহার দেব।

ডা. মোস্তফা আলম নান্নু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি। এলাকাবাসীকে চিকিৎসাসেবাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব। রফি নেওয়াজ খান রবিন জানান, দলের জন্য অনেক কিছু করেছি। এলাকায় গণসংযোগ করছি। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইব।

তালেবুল ইসলাম বলেন, এ আসনে নৌকার জনসমর্থন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এলাকা সামলাতে হয় আমাদের। মাঠে আমরা সব সময় থাকি। রাজনীতির দীর্ঘ জীবনে দলে আমার কোনো দুর্নাম নেই। সাধারণ মানুষ আমাকে সব সময় কাছে পায়। তিনি বলেন, দল যোগ্য মনে করলে প্রার্থী হব। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

এদিকে এমপি অ্যাডভোকেট আলতাব আলী ছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা লুৎফর রহমান সরকার স্বপন ও শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) আবদুল হান্নানের নাম শোনা যাচ্ছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম সরকার পিন্টু ও আবদুল মজিদ সরকারের নাম আলোচনায় রয়েছে।

কথা হয় এমপি অ্যাডভোকেট আলতাব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, যে যাই বলুন না কেন? গত কয়েক বছরে এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনেও মহাজোটের প্রার্থী হতে চাই। আমার বিশ্বাস জোট মনোয়ন দেবে এবং নির্বাচিত হব। কোনো কারণে মহাজোট প্রার্থী না করলে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশ মেনে নেবেন।

অপর প্রার্থী লুৎফর রহমান সরকার স্বপন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। সংগঠনের জন্য অনেক কিছু করেছি। বর্তমান এমপির ডিও ব্যবসার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী হতে চাই। স্বপন সরকার ও আবদুল হান্নান এ আসনে প্রার্থী হতে চান।-যুগান্তর

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন