মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৩৯:২৩ এএম

নানা সমস্যায় জর্জরিত রাবির লতিফ হল

মো: নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮ | ০৫:৪৫:০৬ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হল। জরাজীর্ণ, অপরিচ্ছন্ন ও ভুতুড়ে পরিবেশ ছাড়াও নানান সমস্যায় জর্জরিত। হলের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত ভুগছেন স্বাস্থ্যকর পানির সংকট, খাদ্য সমস্যা, নষ্ট ইন্টারনেট সংযোগ, মশা-মাছির উৎপাতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হল কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবেই শিক্ষার্থীরা এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে হল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, শিক্ষার্থীরা কোন সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে গেলে তা সমাধান করা হয়।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- অন্যান্য হলের তুলনায় নবাব আব্দুল লতিফ হল নানা সমস্যায় জর্জরিত। ডাইনিংয়ে যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা একদমই নি¤œমানের। অন্যান্য হলে ডাইনিংয়ের পাশাপাশি ক্যান্টিনের ব্যবস্থা থাকলেও এখানে সেই ব্যবস্থাও নাই। রাত ৮টার পরে ডাইনিংয়ে খাবার পাওয়া যায় না। ফলে যারা টিউশনিসহ বিভিন্ন কাজ সেরে একটু রাতে রুমে ফেরেন তাদের খাবার জন্য ছুটতে হয় অন্য কোথাও। এ ছাড়া ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ওয়াইফাই রাউটারগুলো সংযোগই পায়না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাশের শাহ শখদুম হলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টার ব্যবস্থা থাকলেও এই হলে পর্যাপ্ত টিউবওয়েলও নাই। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইটি টিউবওয়েল রয়েছে। যার একটি আবার বিকল। এতে বিশুদ্ধ পানির জন্য শিক্ষার্থীদের রীতিমতো চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জানা যায়, হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী হলের ট্যাপের পানি পান করে দীর্ঘদিন যাবৎ জন্ডিস রোগে ভুগছেন। এ ছাড়াও ডাইনিংয়ের পরিবেশও একদমই স্যাঁতসেঁতে।

হলের টিউবওয়েলের ব্যাপারে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘দুটি টিউবওয়েলের মধ্যে একটির পানি সুস্বাদু হওয়ায় অন্যটি তেমন ব্যবহার হয়না। ফলে বারবার নষ্ট হয়। আমরাও মেরামত করে দেই। তবে নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের অনুমোদন লাগে। আমরা সে বিষয়ে কথা বলছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে ক্যান্টিন আছে। আমাদের হলে ক্যান্টিন নাই। ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত না হওয়ায় প্রায়ই আমাদের বাইরে খেতে হয়। অনেকে আবার রান্না করেও খান। এতে আমাদের যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি পড়ালেখারও ক্ষতি হচ্ছে।’

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তৌহিদ মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা হল ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হয়ে প্রাধ্যক্ষ স্যারের নিকট অসংখ্যবার সকল সমস্যার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বরং তিনি শুধু হল ফান্ডে টাকা নেই, বাজেট পাচ্ছি না এসব কথা বলে আমাদের অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না।’

সার্বিক বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেসব অভিযোগ করছে তার সবগুলো সত্যতা নেই। স্বাভাবিকভাবেই হলে মাত্র তিনশত জন শিক্ষার্থী হওয়ায় ডাইনিংয়ের পাশাপাশি ক্যান্টিন চালানো দুষ্কর। যারা চালাবে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছে। আর হলের ইন্টারনেট সংযোগ অন্য হলগুলোতে যেমন, আমার হলেও তেমন আছে। এরপরও কোন সমস্যা হলে তা দ্রুত সংস্কার করা হয়।’

হলের পরিবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী লোকবলের কিছু অভাব রয়েছে। তারপরও কম জনশক্তি প্রচুর পরিশ্রম করে হলের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা যখনই কোন সমস্যা বা অভিযোগ নিয়ে আসে তা আমরা দ্রুতই সমাধানের চেষ্টা করি।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন