বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:২৩:৪৫ এএম

অটিজম চিকিৎসার উল্লেখযোগ্য উন্নতি

স্বাস্থ্য | মঙ্গলবার, ৬ মার্চ ২০১৮ | ০৮:৪৩:৫২ পিএম

অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অনেকেই হয়ত এই রোগের নাম শুনেন নি। তারপরও আশংকার কথা হলো, আধুনিক বিশ্বে অটিজম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অটিজম নিয়ে ইউরোবিডিনিউজ.কম এর সাথে কথা বলেছেন, কানাডা প্রবাসী অটিজম বিশেষজ্ঞ, জনাব জাহাঙ্গীর CMB (Australia), CHM (USA), CHMCC (CANADA), B.E.(BUET), MBA (UK), CCP (USA),PMP (USA) ।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্মৃতি আজাদ।


‘অটিজম’, শিশুদের মস্তিস্কের জৈবিক বিকাস সংক্রান্ত একধরনের ক্ষতিকর বৈকল্য বা ডিজ-অরডার (Neuro-Biological disorder)। ইউরোপে প্রতি ৯০ জন শিশুর মধ্যে একজন, আমেরিকা/কানাডা তে প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন, ভারতে এবং বাংলাদেশে প্রতি ১৩০ জনে একজন শিশু অটিজমে আক্রান্ত । ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার’ সম্পর্কে শিশুর মা – বাবা সহ সামাজের সকলের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ।

মা-বাবাই শিশুর উৎস। তাই,‘অটিজম’ আক্রান্ত শিশুর কারন ও সূত্র মা-বাবার মধ্যেই অনেকখানি পাওয়া যেতে পারে । প্রকৃতি ও জীবন একই সূত্রে গাঁথা । তাই প্রাকৃতিক ও অলটারনেটিভ পদধতিতে ‘অটিজম’ এর উন্নয়ন সম্ভব । শিশুর বয়স ‘অটিজম’ আক্রান্ত শিশুর উন্নয়ন এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ । শিশুর ৪ বৎসর বয়সের মধ্যে তার ‘মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পন্ন হয়ে থাকে। অটিজম’ এর বৈশিষ্ট সমূহ সাধারনতঃ ১৫ -৩৬ মাস বয়সের মধ্যেই প্রকাশ পায়। সঙ্গত কারনেই এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, গবেষণা ও চিকিৎসা বেশি ফলদায়ক।

জনাব জাহাঙ্গীর ডাটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ এর পর তার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর বাবা–মা কে পরিস্কার ভাবে বাখ্যা করেন যে, তাদের শিশুটি কতখানি অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে । তার চিকিৎসায় অটিজম আক্রান্ত ২-৬ বৎসরের শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০% ক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ করা গেছে। তিনি আমেরিকাতে (নিউ ইয়র্ক, মেরিল্যান্ড ও পেনিসাল্ভানিয়া এলাকায়) এবং বাংলাদেশে অনেক অটিজম আক্রান্ত শিশুকে পরামর্শ প্রদাণ করেছেন।

প্রতিটি ‘অটিস্টিক’ শিশুই “বিশেষ শিশু”, প্রতিটি শিশুকে একটি প্রোজেক্ট হিশেবে গ্রহন করা বিধেয় । একটি প্রোজেক্ট এর যেমন নির্ধারিত লক্ষ থাকে, জনাব জাহাঙ্গীর গ্রহন কৃত প্রতিটি শিশুর উন্নতির লক্ষ নিরধারন করেন।

নিয়মিত একটি (DCF–Developmental Communication/tracking Form) উন্নয়ন পরযবেক্ষন ফর্ম এর মাধমে বাবা-মা শিশুর অগ্রগতি আপডেট করেন । উন্মনয়ের পরিমাপ পদধতি ৩-৪ পাতায় দেয়া হোল।

‘অটিস্টিক’ এর অগ্রগতি নিরভর করে মা-বাবার সচেতনতা ঐকান্তিকতা দ্রুত ‘অটিজম’ লেভেল নিরধারন, চিকিতসা, শিশুর যথাযত শিক্ষা এবং সামাজিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার উপর।

বিশদ জানার জন্য www.autism-nsfaglobal.com ওয়েব সাইট পরিদর্শন করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন কানাডা তে + 1-306- 341-1346 ; +1-416- 580-0377; লন্ডনে + 44-7958- 334767

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
কেমন আছেন ? আপনি তো অনেকদিন ইংল্যান্ডে (লন্ডনে) ছিলেন, অনেকদিন পরে এলেন। কেমন লাগছে?

জনাব জাহাঙ্গীর: ধন্যবাদ, ভাল আছি । London এ বেশ কিছুদিন পরে এসে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আরো ভালো লাগছে ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: আমাদের ও খুব ভালো লাগছে । আমরা জানতে পেরেছি, যে আপনি শিশুদের একটি জটিল রোগ বা Disorder ‘অটিজম’ নিয়ে চিকিৎষা ও গবেষনা কোরছেন । আমাদেরকে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার (ASD- Autism Spectrum Disorder) সম্পর্কে যদি কিছু বলেন!

জনাব জাহাঙ্গীর:
ধন্যবাদ । ‘অটিজম’ সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ি ইউরোপে প্রতি ৮৮ জন শিশুর মধ্যে একজন, আমেরিকা তে প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে একজন, ভারতে ও বাংলাদেশে প্রতি ১৩০ জনে একজন এই মস্তিস্কের জৈবিক বিকাস সংক্রানত জটিলতায় আক্রান্ত ৷ এটা অত্যানত উদবেগ এর বিষয় ৷ স্বল্প কথায় - ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার’ শিশুদের মস্তিস্কের জৈবিক বিকাশ সংক্রান্ত এক ধরনের ক্ষতিকর বৈকল্য বা ডিজ-অরডার (Neuro-Biological disorder) যা কিনা শিশুর ১৫-৩৬ মাস বয়স এর মধ্যে প্রকাশ পায় । কোন কোন শিশুর ক্ষেত্রে তা পরবর্তী পর্যায়েও প্রকাশিত হতে পারে। অটিজম প্রতিকার এর জন্য সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অটিজম সম্পর্কে সমাজের সকলের জানা এবং সকল মা বাবার সচেতনতা ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: আমরা জেনে খুশি যে আপনার পরামর্শে বেশ কিছু অটিজম আক্রান্ত শিশু উন্নতি লাভ করেছে। আপনার চিকিৎসাতে যে শিশুদের উন্নতি হয়েছে তাদের বাপারে আমাদের কিছু বলবেন কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: ধন্যবাদ, অবশই। আমার এবারের আগমন উদ্দেশ এই বিষয় এ সবাই কে অবগত করান। হা, বেশ কিছু শিশুর আমার পরামর্শে উন্নতি লাভ করেছে। যার বিশদ বিবরন (মাতা – পিতার উধৃতি প্রদান করা হলো।

আমেরিকার কিছু সফল শিশুর বাবা-মা দের সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি দেয়া:
-

১। Philadelphia এর একটি অটিস্টিক শিশুর মা (একজন Business Analyst) বলেন “ আমার ছেলের severe অটিজম ছিল যা আমরা কোনদিন ভাবিনি যে উন্নতি হতে পারে। আমরা অন্ধকারে ছিলাম। এখন আমি জনাব জাহাঙ্গির চিকিৎসাতে অনেক উন্নতি দেখতে পেয়েছি। আমার ছেলের সাধারন মানবিক বুদ্ধি আসা শুরু করেছে। সে নির্দেশ নিতে এবং পরিস্কার কথা বলতে শুরু করেছে, ক্যালকুলেটর ব্যবহার করছে। ছোট ছেলে দ্বিত্ব অবস্থাণ দূর হয়ে গেছে। তবে, জনাব জাহাঙ্গীর এতা পরিস্কার করে বলেছিলেন, যে আপনার ছেলেদের বয়স ৪ এর বেশি। এটাতে একটু সময় লাগবে। আমি ১০ মাসের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ করেছি যেটা আমি ভাবতে-ই পারিনি। আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এখন আমি আমার ছেলের চিকিৎসা চলিয়ে যাব যতদিন প্রয়োজন”

২। নিউ ইয়র্ক এর ১০ বৎসর বয়স এর একজন অটিস্টিক শিশুর মা বলেন, “আমার ছেলে কথা বলতে পারত না। শরীরে একেবারে কোন জামা কাপড় রাখতে পারত না। বাংলাদেশি (কানাডিয়ান) এই অটিজম বিশেষজ্ঞ জনাব জাহাঙ্গির আমাকে বলেছিলেন – আপনার ছেলের এই দুইটি বিষয় উন্নতি হবে। তার কথা তিনি রেখেছেন” তিনি বলেছিলেন অন্যান্য বিষয় সময় সাপেক্ষে উন্নতি সম্ভব, যেহেতু ছেলের বয়স ৫ এর উপর। বর্তমান উন্নতি হতে ১৮ মাস লেগেছে। আমি আরও চিকিৎসা চলিয়ে যাব ।

৩। নিউ ইয়র্ক এর অপর একজন অটিস্টিক শিশুর মা বলেন – “আমার ছেলের ৩২ মাস বয়সে অটিজিম নির্ধারিত হয় । সে কোন খাবার খেত না। তাকে যা বলা হত তারই প্রতি উত্তর দিত। চক্ষুর সংযোগ ছিল না। জনাব জাহাঙ্গীর ২০১৪ সালের ১৫ ই সেপ্টেম্বর আমাকে বলেছিলেন, তোমার ছেলে কথা বলবে, নিয়মিত খাবে, চক্ষু সংযোগ এবং শিশু সুলভ দুষ্টুমি করবে। অনেক কিছু উন্নতি হবে তবে অনেক সমস্যাও দেখা দেবে। আমি তার পরামর্শ মেনে চলছি ।এখন আমার ছেলে অনেক কথা বলে যা যুক্তি সঙ্গত। সে ৮-১০ শব্দের বাক্য তৈরি করতে পারে। যে ছেলেকে খাওয়ানো যেত না সে এখন স্বাভাবিক ভাবে খায়। তবে এখনো সে স্কুল থেকে এসে ফিড ব্যাক দায় না। এখনও সামাজিক হয়ে ওঠেনি। দুষ্টু বুদ্ধি তার বেড়েছে। আমি এখনও জনাব জাহাঙ্গীর এর পরামর্শ নিয়ে চলেছি এবং আমার ছেলে নিশ্চিত ভাবে উন্নতি লাভ করা পর্যন্ত আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাবো ”।

৫ । একই সংসার এর ৮ ও ১৪ বৎসর বয়স এর দুইটি অটিস্টিক শিশুর বাবা (আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক) বলেন, "আমার ছেলেদের সিভিআর অটিজিম ছিল। কোনদিন ভাবিনি যে এটার উন্নতি হতে পারে। জনাব জাহাঙ্গীর এর চিকিৎসাতে আমি উন্নতি দেখতে পেয়েছি। সাধারন মানবিক বুদ্ধি, নির্দেশ নেওয়া, (বড় ছেলে) অঙ্ক করতে শুরু করেছে। ক্যালকুলেটর ব্যবহার করছে। ছোট ছেলের দ্বিত্ব অবস্থাণ দূর হয়ে গেছে। তবে, জনাব জাহাঙ্গীর এটা পরিস্কার করে বলেছিলেন, যে আপনার ছেলেদের বয়স ৫ এর বেশি। সময় লাগবে। আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এখন আমি আমার শিশুদের চিকিৎসা চলিয়ে যাব যতদিন প্রয়োজন”

এই সফলতার পরিমাপ ও পদ্ধতির নমুনা নিচে সকলের অবগতির জন্য দেয়া গেল।

শিশুর অটিজম স্পেকট্রাম রিকভারির (উন্নতির) পরিমাপ  এই শিশুর অটিজম স্পেকট্রাম এ নয়টি রিকভারি পরিমাপ-সূচক নির্ধারন করা হয়েছিল। ১৮ মাস এঁর মধ্যে “০- Baseline” হতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির পরিমাপ । জনাব জাহাঙ্গীর শিশুর উন্নয়ন উপরোক্ত পদ্ধতিতে পরিমাপ, বিচার ও বিশ্লেষণ করেন।

শিশুর সামগ্রিক উন্নয়ন নিম্নোক্ত পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো:

একটি শিশুর অটিজম রিকভারি সামগ্রিক (Overall) ট্রেন্ড (শিশুটি বেঞ্চ মার্ক ৭% হতে চিকিৎসা শুরু হয়। ২০ মাস পরে ৭০% উন্নতি লাভ করে শিশুটি। টার্গেট রিকভারি নির্ধারন করা হয় ৮০%। ইউরোবিডিনিউজ.কম: ‘অটিজম’ এর মুল কারন কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: আপাত ভাবে বিষয়টিকে ইংরাজি ভাষায় এই ভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে-
1. Autism is a neurobiological disorder caused by degenerations inflicted with in CNS (Central Nervous System) of the children.

“Autism may result when a child with a genetic susceptibility and/ or abnormal Omega-3 fatty acid profile in CNS (Central Nervous System’s) cell membranes are exposed to one or more environmental intrusions (heavy metal exposure, virus or bacteria) resulting in malfunctioning cells (often in the gut and brain). This can happen “in utero” (during pregnancy) or after birth (post-partum) - http://www.autism.net.au/Autism_causes.htm).

2. Reasons of ASD degeneration can also include genetic correspondence, metabolic imbalances, viral overloads, insufficient mobilization of nutrients, minerals and vital amines to all support system’s nourishment (Pls. visit www.nsfaglobal.com).

3. Congenital Dysfunctionality/deformation may be reflected as Autism in some cases as well.

অটিজম শিশুদের মস্তিস্কের জৈবিক বিকাস সংক্রান্ত ব ডিজ-অরডার বা বৈকল্য যা মস্তিস্কের স্নায়ু কেন্দ্রে সংঘটিত হয়।

সম্ভাব্য কারন -

১। যখন কোন শিশুর মস্তিস্কের স্নায়ু কেন্দ্র গঠন কালিন সময়ে মস্তিস্কের কোষ-মেম্ব্রেনে এ্যাবনরমাল ফ্যাটি-এসিড প্রোফাইল এবং সম্ভাব্য জেনেটিক স্পরশকাতরতার প্রভাব বিদ্দমান থাকে, তখন যদি উক্ত কোষ মেম্ব্রনে কোন ভারি ধাতু বা ভাইরাস এর অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন মস্তিস্কের কোষ সমুহের ডিজ- অরডার বা বৈকল্য ঘটে যেতে পারে। এই ডিজ- অরডার মায়ের পেটে গড়ে ওঠা কালিন সময়ে অথবা শিশুর জন্মের পরেও ঘটতে পারে।

২। জেনেটিক লিঙ্কেজ ও পুরবসূরিতা সহ মস্তিস্কের স্নায়ু কেন্দ্র গঠন কালিন সময়ে পুষ্টিহিনতার (ভিটামিন, মিনারেল ও অনান্য প্রয়জনিয় পুষ্টির অভাব) কারনে শিশুর মস্তিস্কে এই বৈকল্য ঘটতে পারে

৩। জন্মগত নানান ত্রুটির Congenital Dysfunctionality/deformation কারনেও শিশুর মস্তিস্কে এই বৈকল্য হতে পারে ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
কিভাবে একটি শিশুর মধ্যে ‘অটিজম’ এর অবস্থান নির্ধারন করা যাবে?

জনাব জাহাঙ্গীর: ‘অটিজম’ এর সাধারন উপসর্গ:
শিশুর ভাষা অনুধাবন করার অক্ষমতা, বাকরোধ বা শব্দ উচ্চারণ করার অক্ষমতা, ধারনা করার অক্ষমতা, অনুকরণের অক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞানের অভাব, সরাসরি দৃষ্টি সংযোগের অক্ষমতা, যথাযত প্রতিউত্তর করার অক্ষমতা (শিশুকে বলা কথাকে বা প্রশ্নকে সে সরাসরি ফিরিয়ে দেয়), প্রচণ্ড অস্থিরতা, ধীর ভাবে বসে থাকা বা ইস্কুলে ক্লাস অনুসরন করার অক্ষমতা, তীব্র মানসিক উৎকণ্ঠা, প্রচণ্ড রাগ, নতুন পরিবেশে ভীত বা অস্থির, অকারন ক্রন্দন, অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যাবহার, শবদ সংক্রানত আতিসাজ্জ, অঙ্গ-প্রতঙ্গ এর অসঙ্গতিপূর্ণ ও বারংবার একই ভাবে ব্যবহার করন, হাত তালি বা হস্ত কমপন, শিশুর টো-তে হাটা, গ্রস ও ফাইন মটর সংক্রানত গোলযোগ, চোখের কোনা দিয়ে তাকানো, নানান ধরনের সেনসরি/অনুভুতি, কগনিটীভ অ-দক্ষতা, লেখা-পড়া করার অসক্ষমতা, সাধ, গনধ, শবদ, ঘ্রান, এবং ছোয়া সংক্রানত গোলযোগ, পুনঃ পুনঃ দরজা খোলা ও বনধ করা, নিজের মাথায় নিজে আঘাত করা , অকারনে চিৎকার করা, নুতন মানুষ নুতন পরিবেশে বিরক্ত হওয়া ইত্যাদি।

এটা সম্পূর্ণ তালিকা নয়। বিশদ জানার জন্য www.nsfaglobal.com দেখতে এবং ‘অটিজম’ উন্নয়নে সফল কেস গুলি অধায়ন করার অনুরধ করছি ।

সাধারনতঃ শিশুর জন্মের ১৫-২০ মাস বয়সের মধ্যেই ‘অটিজম’ এর মুল উপসর্গ সমূহ পরিলক্ষন শুরু হয় ৷ পিতা-মাতার এ-বিষয়ে অতি সতর্ক থাকার প্রয়োযন ৷ আমার অভিজ্ঞতায় লক্ষ ক্করেছি যে যত দ্রুত শিশুর এই সিনডরম নিরধারিত হয়, উননতির সমভাবনা ততই বাড়ে ৷ লক্ষনিয় যে বাবা-মা এরা প্রাথমিক পর্যায়ে খানিকটা উপেক্ষা করার কারোনেই অনেক শিশুর ‘অটিজম’ উপসর্গ সমূহ বেড়ে যায় এবং উননতির সমভাবনা কমে যায় ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র মতে ‘অটিজম’ এর কি কোনো থিরাপিউটিক সমাধান আছে ?

জনাব জাহাঙ্গীর: ‘অটিজম’ এর সমাধান আধুনিক চিকিৎশা শাস্ত্র খুজে চলেছে ৷ গবেষনা সংশথা গুলে এ বিষয়ে দিবারাত্র গবেষনায় রত ৷ আমার বিশৰাস আধুনিক চিকিৎশা শাস্ত্র একদিন এর রহস্য উদঘাটন করতে পারবে৷ তবে জানামতে, আজও পর্যন্ত এর কোনো সঠিক থিরাপিউটিক সমাধান মেলানো সম্ভব হয় নাই ৷

ইউরোবিডিনিউজ.কম: তাহলে, আপনি কোন পদ্ধতিতে ‘অটিজম’এর উন্নতির জন্য চিকিৎসা করে থাকেন ?

জনাব জাহাঙ্গীর: আমি প্রাকৃতিক, অলটারনেটিভ ও হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতি প্রয়োগ এর মাধ্যমে ‘অটিজম’ এবং এর সকল সিনডরম এর চিকিৎসা করি । প্রয়োজনে বায়োকেমিক ওষুধও প্রয়োগ করা হয়। ন্যাচারাল খাদ্য তালিকাও প্রদাণ করা হয়।

আমি ২-৬ বৎসর বয়স এর শিশুদের মধ্যে সর্বাধিক উন্নতি পরিলক্ষন করেছি। সেজন্য আমি ২-৬ বৎসর বয়স এর শিশুদের চিকিৎসা করতে তুলুনামুলক ভাবে বেশি আগ্রহি। তবে বেশকিছু ৬-১২ বৎসর বয়স এর অটিজিম আক্রান্ত শিশুদের ও চিকিতসাতে উন্নতি হয়েছে। এক্ষেত্রে তুলুনামুলক ভাবে বেশি সময় ধরে চিকিৎশার প্রয়োজন হয় । প্রতিটি মা-বাবার মনোযোগ এখানে খুবই জরুরী। এ-বি-এ এবং আই-বি-আই ও স্পীচ থিরাপি - জাতীয় প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমার চিকিতশা গ্রহণ কৃত শিশুদের শিক্ষার উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: অল্প বয়সের শিশুদের মধ্যে সর্বাধিক উন্নতির কারন কি, ব্যাখ্যা করবেন কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: বস্তুতঃ শিশুর মস্তিষকের বিকাশ ৪-৫ বৎসরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সঙ্গত কারনেই এই সময়ের মধ্যে অনুষনধান, গবেষণা ও চিকিৎশা বেশি ফলদায়ক । আমার আভিজ্ঞতা তাই বলে ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: আপনি বলেছেন যে প্রতিটি অটিজিম আক্রান্ত শিশুই বিশেষ। তাহলে প্রতিটি শিশুর উন্নতি পরযবেক্ষন কি ভাবে করেন ?

জনাব জাহাঙ্গীর: যেহেতু প্রতিটি ‘অটিজম’ আক্রান্ত শিশুই বিশেষ, প্রতিটি শিশুকে একটি প্রোজেক্ট হিশেবে গ্রহন করি। একটি প্রোজেক্ট এর যেমন নির্ধারিত লক্ষ থাকে, তেমনি গ্রহন কৃত প্রতিটি শিশুর উন্নতির লক্ষ নিরধারন করা হয়। প্রতিটি প্রোজেক্ট এর যেমন নিরদিষ্ট টাইম লাইন থাকে, মাইলস্টোন থাকে, প্রতিটী গ্রহন কৃত শিশুর জন্য একটি টাইম লাইন ও লক্ষ প্রদান করা হয় । এক্ষেত্রে গ্রহন কৃত শিশুর বয়সটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ । একটি (DCF –Developmental Communication/tracking Form) উন্নয়ন পরযবেক্ষন ফর্ম এর মাধমে তা আপডেট করা হয় ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
তাহলে আপনি অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার’ হতে উন্নতির একটা শুখবর জানাচ্ছেন ? কোন বিষয়টিকে আপনি প্রাধান্য দিচ্ছেন?

জনাব জাহাঙ্গীর:
আমি প্রচেষ্টায় রত । এটি একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । কম বয়সের মধ্যে (১৫ মাস হতে ৬০ মাস) অটিজিম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা ।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: তাহলে জন্মের ৬০ মাস পরবর্তি বয়স এর পরবর্তী শিশুদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: আমি বেশ কিছু ৭-১২ বৎসর এর শিশুদের চিকিৎসা করেছি । উন্নতি সাধন করাও সম্ভব হয়েছে । এক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় এর প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে, মা-বাবা দের প্রচুর পরিশ্রম ও ধৈর্য্য ধারন প্রয়োজন। যদি দুর্ভাগ্য জনক ভাবে শিশুটি case of absolute congenital deformation হিসাবে প্রতীয়মান হয়, তাহলে সেটির উন্নয়ন দুরুহ। আমার জানামতে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রতেও এর কোন নিরাময় আছে বলে মনে হয় না।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
আপনার প্রয়োগকৃত চিকিৎসাতে ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার’হতে উন্নতির কারন কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: ১। ‘অটিজম’ শিশুর অপেক্ষা চিকিৎসার মুল সূত্র খুঁজতে আমি মা-বাবাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি । কারণ, মা-বাবাই শিশুর জন্মের উৎস, অতএব আমি তাদের সহযোগিতায় এই ডিজঅরডার কারন ও উৎস খুঁজি।

২। আমি বিশ্বাস করি প্রকৃতি এবং জীবন একই সুত্রে গাথা । সেই সূত্রই এর সমাধানের চেষ্টা ।

৩। শিশুটিকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅরডার’ (ASD – Autism Spectrum Disorder) এর মধ্যে পরতে হবে এবং ২-৭ বৎসরের মধ্যে বয়স হলে উন্নতির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

৪। অবশ্যই, মা-বাবার প্রচুর মনোযোগ ও নিষ্ঠা শিশুর উন্নয়নের পূর্বশর্ত্।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
‘অটিজম’ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া সম্ভব কি ?

জনাব জাহাঙ্গীর: আমি আগেই বলেছি ‘অটিজম’ একটি ডিজ-অরডার (Neuro-Biological disorder) বা বৈকল্য। এটা কোন ডিজিজ নয়। এটার উন্নতি সম্ভব। আমার চিকিৎসাতে সর্বচ্চ ৯০% পর্যন্ত উন্নতি লাভ করা সম্ভব হয়েছে। তবে তা নির্ভর করে কত কম বয়েসে শিশুটিকে চিকিশার মদ্ধে আনা গেছে, এবং বাবা – মা কতখানি ঐকান্তিক। তবে, আমি এটা আমি উল্লেখ করতে চাই যে একবার চিকিৎসাতে Breakthrough হলে তার একটা নিদিষ্ট উন্নত অবস্থায় উপনিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালান উচিৎ। কারন যে উন্নতি গুলি সম্পন্ন হয় তাকে পূর্ণতায় না নেয়া গেলে সেটা আসল লক্ষে পৌছাতে নাও পারে।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: বাংলাদেশে ‘অটিজম’ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি ?

জনাব জাহাঙ্গীর: বাংলাদেশে ‘অটিজম’ সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বর্তমানে একটি চমৎকার কাজ চলছে। বাংলাদেশ এর মত নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে ‘অটিজম’ শিশুদের উন্নতি, পুনর্বাসন ও তাদের সম্পর্কের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকার এর প্রধানমন্ত্রী এবং তার কন্যা মিসেস সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন। তারা শুধু মাত্র বাংলাদেশই নয়, সারা পৃথিবীতে এই আন্দলোন ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমি তাদের এই প্রচেষ্টা সারা দুনিয়াতে একটি চমৎকার উদাহারন হিসাবে মনে করি।

প্রথমত, ‘অটিজম’ সংক্রান্ত বিষয় সচেতনতার উপরে আমি খুবই গুরুত্ব দেই। ‘অটিজম’ আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোন প্রোগ্রাম বা প্রকল্পে আমার কোন প্রয়োজন থাকলে সাধ্যমত আমার সহজোগিতার প্রচেষ্টা থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আমার নিজের ‘অটিজম’ চিকিৎসামূলক একটি সংস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে।

ইউরোবিডিনিউজ.কম: আপনার সাথে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে...

জনাব জাহাঙ্গীর: ফোন/ ইমেইল/স্কাইপ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন আমার সাথে। আমি লন্ডন এ আবার আসবো দ্রুতই। কানাডা তে যোগাযোগ – 1-৩০৬-৩৪১-১৩৪৬ (1-306-341-1346); ১-৪১৬-৫৮০-০৩৭৭(1-416-580-0377)। লন্ডনে যোগাযোগ + 44-7958-334767 ইমেল যোগাযোগ ঠিকানা: winautism@gmail.com, info@nsfaglobal.com, jahanx_7@hotmail.com (please copy all)

ইউরোবিডিনিউজ.কম: আপনার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন, আপনার ব্যাক-গ্রাউন্ড, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার উপরে কিছু আলকপাত করবেন কি?

জনাব জাহাঙ্গীর: আপনার প্রশ্ন এর জন্য ধন্যবাদ । আমি বুয়েট, ঢাকা হতে ডিগ্রী প্রাপ্ত একজন প্রকৌশলী (মেকানিকাল)। আমি ১৯৯০-৯২ সালে ইংল্যান্ড এর মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় হতে MBA (Managing in Europe) ডিগ্রী নেই ও পরে MPhil (মালয়েশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর) গবেষণা করি । একই বিশ্ববিদ্যালয় আমি প্রায় ৫ বৎসর শিক্ষকতা করেছি। পরবরতিতে আমি সৌদি সরকারেরে উপদেষ্টা (প্লানিং) হিসেবে তেল ও খনি মন্ত্রণালয়ে পেত্রকেমিকাল কর্পোরেশনে যোগদান করি। পরে আবার একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাইনিং কর্পোরেশন এ পরিকল্পনা উপদেষ্ট/বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করি। কানাডতে আমি প্রায় ৪ বৎসর শিক্ষকতা করি। সর্বশেষে কানাডা তে ইউরেনিয়াম মাইনিং, নিউকিলিয়ার প্লান্ট ও কানাডিয়ান অয়েল ও গ্যাস সেক্টর এ উচ্চপদে কাজ করি । আমি একজন সার্টিফাইড প্রোজেক্ট ম্যানেজার এবং সার্টিফাইড কষ্ট কনসালটেন্ট। একজন ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট হিসাবে বরতমানে কাজ করি। এর সাথে একজন ‘অটিজম’ সংক্রান্ত বিশশজ্ঞ হিসাবে আমি প্রায় ২০ বৎসর ধরে গবেষণা ও চিকিৎসা করে চলছি। ‘অটিজম’ আমার আবেগ ও নেশা।

ইউরোবিডিনিউজ.কম:
এটা একটি চমৎকার বৈপরীত্য ! আপনি কিভাবে ‘অটিজম’ সংক্রান্ত বিষয়ে চিকিতশাতে জড়িত হলেন খুব জানতে ইচ্ছে করছে।

জনাব জাহাঙ্গীর: আমি তরুন বয়স থেকেই হেমেওপাথিক মতে শিশুদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে আগ্রহি ছিলাম। আমার বাবা ও একজন বিশেষ ভাবে পরিচিত ডাক্তার জনাব গাজি আব্দুল্লাহ সাহেবের কাছ থেকে আমি হোমিওপ্যাথি তে পড়াশুনা ও পাশাপাশি প্রাকটিস করতে থাকি । আমি দু-একটি শিশুর চিকিৎসা করি এবং অনেক উন্নতি পরি লক্ষণ করি। পরবর্তীতে আমি কর্ম–উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করি। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির উপরে বেশ পড়াশুনা করি, সবচেয়ে বেশি করি বাক্তিগত পড়াশুনা ও গবেষণা । অস্ট্রেলিয়া, ও আমেরিকার হোমিওপ্যাথিক ইন্সিটিউট হতে ডিপ্লোমা/সার্টিফিকেট অর্জন করি । কর্ম উপলক্ষে আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে যেতে হয়েছিল । বিভিন্ন দেশে আমাদের কমিউনিটির বেশ কিছু ‘অটিস্টিক’ শিশুকে দেখি এবং চিকিৎসা প্রদান করি। তাতে ঐ শিশুদের অনেক উন্নতি হয়। তারা আজ প্রায় স্বাভাবিক শিশুর মতই আচারন করে। “কথা বলতে অসক্ষম একটি শিশুর মুখে চিকিৎসার মাধমে কথা ফোটাতে পারা একটি অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা, সফলতা ও তৃপ্তি ” । এ রকম উদাহরন একটি নয়, অনেক। সারা পৃথিবীতে অন্তত ৫০এর অধিক শিশু এ যাবৎ আমার চিকিৎসাতে উন্নতি লাভ করেছে। আর এই অভিজ্ঞতাই আমাকে এই চিকিৎসাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি যখন অবসর গ্রহণ করবো তখন অবসর জীবনে আমার অর্জিত এই বিশেষ অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাতে নিবিষ্ট থাকতে চাই।অবশ্য আমার প্রফেশন এর সাথে একজন অভিজ্ঞ ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হিসেবে সব-সময় যোগাযোগ থাকবে।





খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন