মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৬:১৫:০৮ পিএম

এবার নাট্যকর্মীকে মারধর করলো রাবির সেই ছাত্রলীগ নেতা

মো. নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮ | ১১:২০:১৯ পিএম

সাংবাদিককে পেটানোর দায়ে বহিস্কার হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুর রহমান কাননের বিরুদ্ধে এবার এক নাট্যকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মইনুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং অনুশীলন নাট্যদলের কর্মী।

তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওর্য়াডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরদিকে, মারধরকরীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন ও কলা অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ- সম্পাদক ঝলক সরকার।

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে মইনুলসহ কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কানন ও ঝলকসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাদেরকে উঠে যেতে বলেন। এসময় মইনুল সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাক- বিত-তা হয়। একপর্যায়ে ঝলক ও কানন মইনুলকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে মইনুল মাথা ও চোখে প্রচ- আঘাত পায়। পরে মইনুলের কয়েকজন বন্ধু তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত মাহমুদুর রহমান কানন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে দিয়ে যাবার সময় দেখি ঝলকের সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। সেখানে গিয়ে কি হয়েছে তা নিয়ে কথা বলতে মইনুলের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তাহলে মইনুল হাসপাতালে গেলো কিভাবে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানেন না বলে জানান। এর আগে গতবছর ১০ জুলাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ডেইলি স্টার পত্রিকার রাবি প্রতিনিধি আরাফাত রহমানকে মারধর করেন কাননসহ কয়েকজন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কানন ও আইন বিষয়ক সম্পাদক বিজয়কে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

তবে সম্প্রতি তাদের বহিস্কারাদেশ তুলে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বহিস্কারাদেশ তুলে নেবার কিছুদিনের মাথায় আবারো মারধর করলো মাহমুদুর রহমান কানন। বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পরপরই আমরা কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি মইনুলের অসুস্থতার খোঁজ নিতে এবং তার ভাষ্য নিতে। আমরা কাননের সাথেও কথা বলেছি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সাংগঠনিকভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ‘মারধরের বিষয়টি শুনেছি। মইনুলের অবস্থা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’

তবে এ বিষয়ে অনুশীলন নাট্যদলের উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পরপরই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা একটু অপেক্ষা করবো। যদি তেমন ফলাফল না দেখি তাহলে আমরা আমাদের মতো আন্দোলনে যাবো।’

এদিকে নাট্যকর্মীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছন থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গ্রন্থাগারের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

এতে বক্তারা মইনুলের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন দিনের আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি তাসবিরুল ইসলাম কিঞ্জল, ছাত্রমৈত্রির সভাপতি ফিদেল মনির প্রমূখ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ০৭ মার্চ ২০১৮

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন