মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৫২:৪৫ পিএম

রাবিতে নাট্যকর্মীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বহিস্কার দাবি

মো. নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮ | ০৬:৫৬:১৪ পিএম

‘রাজনৈতিক পরিচয়ে যারা নাট্যকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির উপর হামলা করে তাদের পরিচয় জানার প্রয়োজন নেই। এই হামলাকারীরাই রাজনৈতিক ছায়াতলে সাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষে কাজ করছে। এদেরকে ক্ষমা করা যায় না। এরাই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।

এদের কঠোর শাস্তির প্রয়োজন।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকর্মী মইনুল ইসলামকে ছাত্রলীগ কর্তৃক মারধরের ঘটনায় জড়িতদের ক্যাম্পাস থেকে বহিস্কারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের ক্যাম্পাস থেকে দ্রুত বহিস্কারের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশীলন নাট্যদল এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বিশিষ্ট নাট্যজন ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলাকারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিরা সবসময় ঘাপটি মেরে বসে থাকে। যারা অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে সুযোগ পেলেই এই সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হিং¯্রতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও এর কোন বিচার হচ্ছে না। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা একসময় বড় ঘটনার জন্ম দেবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ও অনুশীলন নাট্যদলের পরিচালক মলয় ভৌমিকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামাল উল্লাহ সরকার, রাজশাহী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ ঘোষ, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি ম-লির সদস্য আবুল কাশেম প্রমুখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় শতাধিক নাট্যকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের সামনে ড. জাফর ইকবাল ও মইনুলকে মারধরে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী পথনাটকের উদ্বোধন করেন নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। এদিকে একই দাবিতে বিভাগের সামনে সকাল সাড়ে ১২টায় মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগের সভাপতি প্রদীপ কুমার পান্ডে, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, মশিহুর রহমান, আব্দুল্লাহ হিল বাকী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন ও কলা অনুষদের যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক ঝলক সরকার বিশ্ববিদ্যালয় অনুশীলন নাট্যদলের কর্মী মইনুল ইসলামকে মারধর করে। এর আগেও এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় কাননকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করে পুনরায় তার বহিস্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন