সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৩৯:৪৪ পিএম

রাঙ্গাটুঙ্গির মেয়েরা কভু পাবে কি স্বীকৃতি?

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন | জেলার খবর | ঠাকুরগাঁও | বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮ | ১০:০৪:৫৯ পিএম

আমাদের মতো দেশে নারী জাগরণ অতোটা সহজ না। বাংলাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে। তার জন্ম ১৮৮০ সালে আর মৃত্যু ১৯৩২ সালে।

আপনি বলতে পারেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছরের ২৪ বছরই দেশ শাসন করেছেন দু'জন নারী।

এটা কি নারী জাগরণ? এটাকে যদি আপনি নারী জাগরণ বলেন, তাহলে আপনি একটা কালপ্রিট।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যেদিন মারা গেলেন সেদিন বাংলাদেশের নারী জাগরণেরও মৃত্যু হয়েছে।

আমি সরাসরি চলে আসতে চাই উত্তরের অবহেলিত জনপদ ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙ্গাটুঙ্গি ফুটবল একাডেমীর বিষয়ে।

আপনি বলতে পারেন, বাংলাদেশে তো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং জেলা পর্যায়ে অনুর্ধ্ব জাতীয় কিশোরী ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু রয়েছে।

এটা কি নারী জাগরণ? এটাকে যদি আপনি নারী জাগরণ বলেন, তাহলে আপনি একটা কালপ্রিট।

এসব টুর্নামেন্ট তো চলতেই থাকবে। এসবের মাধ্যমেও নারী জাগরণ সম্ভব। যখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বল নিয়ে ছুটতে ছুটতে কিছু শিশু যখন তার জেলা, তার বিভাগ এমনকি তার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, তখনই সম্ভব নারী জাগরণের।

এ দেশের মেয়েরা ক'বছর আগেও প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পেরোনোর আগেই স্বামীর সংসারে চলে যেতো। খেলাধুলা তো দূরের কথা বাড়ির বাইরে বের হতেও হাজারটা অনুমতি লাগতো।

কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে। এটা কি নারী জাগরণ?

হ্যাঁ, এটাকে আমি নারী জাগরণ বলবো। কারণ, আমরা অবহেলিত জনপদের বাসিন্দা হয়েও আমাদের মেয়েরা সারাদেশ দাপিয়েছে, কুড়িয়েছে ভালোবাসা, পেয়েছে সম্মান। শুধু পায়নি একটা স্বীকৃতি।

সেটি অর্জনের সময় অবশ্য এখনো ফুরোয়নি। তবে জাতি হিসেবে আমাদের অভ্যেস রয়েছে সময়ের কাজ সময়ে না করার। স্বীকৃতি প্রদানের কথা উঠলে হয়তো স্বীকৃতি প্রদান করা যাবে কিনা- এই বিতর্ক চলবে কয়েক বছর।

তাই, বিষয়টাকে ভাবনার স্রোতেই ভাসিয়ে দিলাম।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন