রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ ০২:০৪:০৩ এএম

মিয়ানমারের ফাঁদে পা দেওয়া ঠিক হবে না বাংলাদেশের

জাতীয় | শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮ | ০৩:১৮:৫৬ এএম

সীমান্তে বাড়তি সৈন্য সমাবেশ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে মিয়ানমার বাংলাদেশকে এক ধরনের ফাঁদে ফেলতে চাইছে বলে মনে করেন মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারকে পাল্টা সামরিক জবাব দেওয়া উচিত হবে না বলেও মনে করেন বেসরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিবিসির বাংলা বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এই সতর্কতার কথা জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার চিন্তা না করে সেজন্য তাদের মনে ভীতি ছড়ানোর মহড়া দিয়েছে সেদেশের বাহিনী। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রথমে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বলেছিল বাংলাদেশ।

যেহেতু যেসব রোহিঙ্গা এখনো বাংলাদেশের ভিতরে ঢোকেনি সেজন্য তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই। সেজন্যই তাদের প্রথমে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে মিয়ানমার বুঝিয়ে দিল প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারা কতটা অনাগ্রহী।

এমটাই মনে করছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের এ ধরনের পদক্ষেপ অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা এমনিতেই মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ভীত।

তার ওপর এ ধরনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি তাদের মনে আরও ভয় তৈরি করবে। মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান মনে করেন, সীমান্তে বাংলাদেশ যদি কোনো পাল্টা জবাব দিতে চায় তাহলে পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। মিয়ানমারের ফাঁদে পা দেওয়া বাংলাদেশের উচিত হবে না। সীমান্তে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থে যাবে না।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে মিয়ানমারের দিক থেকে সীমান্তে সামরিক উসকানি ছিল বলে বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে। মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সীমান্তে সংঘাত তৈরির জন্য উসকানি দিয়েছিল মিয়ানমার কিন্তু সংযম দেখিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

কিন্তু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কতটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেটি তাদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়। ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের গণমাধ্যমকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা ‘জিরো লাইন শব্দগুলো ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিবিসির বার্মিজ ভাষা বিভাগ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন