শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:০৮:০৫ এএম

বাংলামোটরে মিছিল থেকে তরুণীর যৌন হয়রানির ঘটনায় বাবার মামলা

আইন আদালত | শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮ | ১২:৪৮:০১ পিএম

৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় যোগ দিতে আসা লোকজনের হাতে রাজধানী ঢাকায় একাধিক নারী শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার রমনা থানায় মামলা করেছেন এক কলেজছাত্রীর বাবা। তিনি বাংলামোটরে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই তরুণীর বাবা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন রাত ৯টায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে জানতে পারেন তার মেয়ে (ভিকটিম) তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেইলি রোড ক্যাম্পাস থেকে ফেরার সময় শান্তিনগর মোড়ে বাস না পেয়ে কাকরাইল মোড়ে হেঁটে যায়। সেখানেও সে বাস না পেয়ে অফিসার্স ক্লাবের আগের সিগন্যালে এসে ফার্মগেটগামী একটি বাসে ওঠে। বাসটি মগবাজার হয়ে বাংলামোটরের দিকে যাওয়ার সময় তীব্র যানজটে পড়ে।

তখন তার মেয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে বাংলামোটরের দিকে যেতে লাগলে আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে ৮৯ নম্বর নিউ ইস্কাটন বাসার সামনের ফুটপাতে সাদা টি-শার্ট পরা আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী অন্তত ১৫ জন ছেলে তাকে ঘিরে ধরে টিজিং করে। তাকে টানাহেঁচড়া করে পরিহিত স্কুল ড্রেসের জামার শোল্ডার ও দুটি বোতাম ছিঁড়ে ফেলে তারা। একজন ট্রাফিক পুলিশ তাকে উদ্ধার করে একটি বাসে তুলে দিলে সে বাসায় আসে।

এজাহারে ওই বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে এ ব্যাপারে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। আমরা মেয়ের শ্লীলতাহানী করার কারণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করলাম।’

এর আগে ওই তরুণী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন, ‘শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাঁড়ায়ে থেকেও কোনো বাস পাইলাম না। হেটে গেলাম বাংলামোটর। বাংলামোটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাঁড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিড়ে গেসে। ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাঁচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এন্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি।’

ওই নারী শিক্ষার্থীর পোস্ট ফেসবুকে ব্যপকভাবে ভাইরাল হয়। অল্প সময়েই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে। পরে অবশ্য স্ট্যাটাসটি প্রাইভেসি দিয়ে আরো লিখেছেন, ‘ভালো আছি, সুস্থ আছি। পোস্টটা অনলি মি করেছি, কারণ পোস্টটা রাজনৈতিক উস্কানিমূলকভাবে শেয়ার করা হচ্ছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোস্টটা দেইনি। প্লাস আমার কলেজকে জড়ানো হচ্ছিল এ ব্যাপারে। ব্যাপারটার সাথে আমার কলেজের কোনো সম্পর্ক নাই।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'ভিকটিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।'

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়েটির পোস্টের সত্যতা রয়েছে। তাকে খুঁজে বের করে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। তার দেয়া বর্ণনা ও ঘটনার সময় অনুযায়ী শাহবাগ, শান্তিনগর, বাংলামটরসহ এর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'একাধিক স্পটে যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে তাদেরগুলোর সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি।'

এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গতকাল (বুধবার) বাংলামোটরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক ছাড় দেয়া হবে না।’

মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ স্থলের বাইরে যদি কোনো যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কেউ ছাড় পাবে না। এটা আমাদের দলের বিষয় নয় তবে সরকারের দায় আছে। সমাবেশের বাইরে ঢাকার রাস্তায় কোথায় কি হয়েছে এটা আমাদের দলের বিষয় নয়। তবে অবশ্যই সরকারের দায় আছে। কোথাও যদি কিছু ঘটে থাকে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন খতিয়ে দেখছেন। এই সরকারের আমলে এ ধরনের ঘটনায় কেউ ছাড় পায়নি এবং গতকাল যদি ঘটে থাকে কেউ ছাড় পাবে না।’-আরটিভি অনলাইন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন