সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৪:৪২:৩৮ পিএম

আজ একটি জয়ের জন্য চেয়ে থাকবে ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি চোখ

খেলাধুলা | শনিবার, ১০ মার্চ ২০১৮ | ০২:২২:২৭ পিএম

কেবল ক্রিকেটেই নয়, জীবনে যেমন খেলাতেও তেমন। উত্থান-পতন থাকবেই, এর বাইরে সমানতালে চলার নজির কমই। তবে আপনিও মানবেন, ক্রিকেটে ওঠা-নামার মাত্রাটা একটু বেশিই। সকালে আমির বিকালে ফকির- ক্রিকেটে এমন হয় হর-হামেশাই। আবার অনেক নামি খেলোয়াড়ও হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলেন। মনে হবে তিনি যেন খেলতেই পারেন না। আজ একটি জয়ের জন্য চেয়ে থাকবে ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি চোখ।

নায়ক থেকে খলনায়ক হতে সময় লাগে না। ক্রিকেটের পরিভাষায় ব্যাড-প্যাচ। কিছুতেই যেন কিছু হয় না। খারাপ সময় কাটতেই চায় না। দর্শকরাও মানতে নারাজ। ভালোবাসার তারকাকে ছুড়ে ফেলতে সময় লাগে না।

এক বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশ- মানে ক্রিকেট দলের কথা বলছি। কতটা উল্টোমুখী। উড়তে উড়তে ধপাস! যেন কখনো দাঁড়াতেই শেখেনি। সাকিব আল হাসানের ছুটি যেন কুফা হয়ে এলো। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্টের জন্য গেলেন না তিনি। কোচ-ক্যাপ্টেন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলো। এরপর তামিম হলেন অসুস্থ। টি-২০ নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি আগেই। সাকিবের নেতৃত্বে টি-২০ সিরিজ খেলা হলো। টানা ব্যর্থতার পরে দল ফিরলো দেশে। এরপর নেতৃত্ব হারালেন মুশফিক। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশ দল যেন হঠাৎ পথহারা নৌকা।

নতুন করে দায়িত্বে এলেন সাকিব। কোচ নিয়োগ হলো না। জোড়াতালি দিয়ে সামলানোর প্রয়াস। তবুও নতুন বছরে ত্রিদেশীয় সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবার স্বপ্ন। প্রথম তিন ম্যাচে উড়ন্ত সূচনা। এরপর ফের চোটের কারণে দলের বাইরে চলে গেলেন সাকিব। দলের অবস্থাও নড়বড়ে হয়ে গেল। খাদের কিনারায় ঠেকা শ্রীলঙ্কা নতুন কোচের অধীনে দুর্বল বাংলাদেশকে পেয়ে জেগে উঠলো। হারের পর হারে পাল্লা ভারি হলো ব্যর্থতার। বিদেশ থেকে ফিরে ক্ষত সারাতে দাওয়াই দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধান।

বুঝলেন প্রধান কোচ না থাকাতেই এ হাল। আরেক কোচ রিচার্ড হালসলকে ছুটিতে পাঠিয়ে বোলিং কোচ ওয়ালশকে প্রধান বানিয়ে বাংলাদেশ দলকে পাঠানো হলো শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ খেলতে। সাকিব পুরো সুস্থ না হতেই দলে রাখা হলো। কিন্তু কাজ হলো না। শেষ মুহূর্তে সরে গেলেন তিনি। দলকে সাহস জোগাতে বিসিবি প্রধান সদলবলে গেলেন লঙ্কা জয়ের মিশনে। বৃহস্পতিবার ছিল প্রথম পরীক্ষা। তাতে ফেল ভারপ্রাপ্ত কোচ ও অধিনায়ক। দ্বিতীয় সারির ভারতের কাছে অসহায় হার। মাত্র ১৩৯ রান তুলে বোলারদের ঠেলে দেয়া হয় ম্যাচ বাঁচাতে। তারা চেষ্টা করলেন বটে, লাভ হলো না। তিন পেসার চার উইকেট নিলেও শিখর ধাওয়ান দলকে পথ দেখান ৬ উইকেটের জয়ে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় পরীক্ষা আজ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। যাদের অবস্থান এখন বিপরীত মেরুতে। তিনমাস আগেও ব্যর্থতার গ্লানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল যে দল তারা এখন উড়ছে। প্রথম খেলাতে কী দাপটের সঙ্গেই না হারালো ভারতকে। এক সঙ্গে তিন তারকা মাহেলা জয়বর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারা-দিলশান তিলকারত্নের বিদায়। চোটের কারণে দলে টিকতে পারছেন না অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। এতে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল তারাও। দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের কাছেও হারলো সিরিজ।

বাংলাদেশেও জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম খেলায় হারে তারা। হারে বাংলাদেশের কাছেও। এরপর ঘুরে গেল বাতাস। কুসাল আর পেরেরাদের দাপটে নতুন প্রাণ পেলো সিংহলীরা। এখন যেন তারা নবযৌবনা সিংহ। ভারতও কাবু হলো দুই পেরেরারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। আর আজ তাদের ডেরাতেই লড়বে নখদন্তহীন দুর্বল বাঘ।

কী হবে আজকের ফল! পারবেন কি তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা। প্রথম খেলায় তাদের ব্যাটিং নিরাশার। আশার আলো ছড়ালেও তা যথেষ্ট প্রমাণ করতে পারেননি লিটন দাস আর সাব্বির রহমান। তবে তিন আর ছয় নম্বরে তারা আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন বলা যায়। পরে ভালো বল করেছেন রুবেল, মোস্তাফিজ, তাসকিন। উইকেট না পেলেও সমীহ আদায় করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু কম পুঁজিতে ভারতকে আটকানো যায়নি। কোহলি-ধোনি না থাকলেও রোহিত-ধাওয়ান-রায়না কিন্তু অবহেলার পাত্র নন।

কতটা পারেন দেখালেন মনীশ পান্ডেও। আইপিএলের সুবাদে ছোট ফরমেটে বড় তারকার অভাব নেই ভারত দলে। টি-টোয়েন্টিতে নাকি যে কোনো দল যখন তখন জিততে পারে। একে জুয়ার সমান বলেন অনেকে। কিন্তু কই। বাংলাদেশ তো পারছে না। ওয়ানডেতে পারলে টি-২০তে কেন নয়? এ ফরমেটে গত ১৪ খেলার ১৩টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। সত্যি বলতে, দলের এ অবস্থায় বাংলাদেশের উৎসাহী দর্শকরাও নেতিয়ে পড়েছেন। এখন তাদের চাওয়া যেন জয় নয়, সাহসী মোকাবিলাতেই খুশি।

আপনি হয়তো বলবেন হতাশ হয়ে লাভ কি? একদম ঠিক। আশার জোরেই এগিয়ে যাওয়া যায়, নয়তো নয়। আমরাও আশাবাদী- দল জিতবে, ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। লড়াকু ক্রিকেটারের প্রতীক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, একটি জয়ই বদলে দেবে সব। একই কথা তামিম ইকবালেরও। আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর কথায়, আমরা যদি সেরাটা খেলতে পারি তবে হারানো সম্ভব যে কোনো দলকেই। গতি কি, অপেক্ষায় আমরাও।

সেই দিনটি হতে পারে আজই। লঙ্কার আকাশে মেঘ। বৃষ্টি হতে পারে আজ। তবে বিকালে আকাশ নাকি পরিষ্কারই থাকবে। পিচের রিপোর্ট হলো- ক্রমেই তা স্পিন সহায়ক হবে। তারপরেও বাংলাদেশের পেসার তাসকিন বলেছেন আমাদের আরো ভালো বল করতে হবে। তবে গত খেলায় আমাদের আরো রান করা দরকার ছিল। এ পিচে ১৭০-১৮০ রান করা সম্ভব। তামিম-সৌম্যর দুরন্ত ও সাহসী সূচনা চাই।

তামিম গত ১২ টি-২০তে ৫০ করতে পারেননি একবারও। বাঁ-হাতি ওপেনার তামিম সর্বশেষ ৫০-ঊর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেছেন তাও দুই বছরের পুরনো ঘটনা। ২০১৬’র মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ওই ইনিংসে হার না মানা সেঞ্চুরি (১০৩*) হাঁকান তামিম ইকবাল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন