বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ ০৯:৪৬:১৯ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল পরিচয় গবেষণায়: ইউজিসি চেয়ারম্যান

মো. নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | শনিবার, ১০ মার্চ ২০১৮ | ০৩:৩৭:৪৯ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন কতটুকু তার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় নির্ভর করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল পরিচয় হলো, প্রতিবছর কতটা জার্নাল এবং গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো। প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল পরিচয় তার গবেষণা।’

আজ শনিবার দুপুর বারোটার দিকে ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) এলামনাই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি ।

আইবিএস সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, আইবিএস’র পরিচালক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফয়জার রহমান প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন, এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ও আইবিএস’র প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি অধ্যাপক এম জয়নূল আবেদীন।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রতিবছর দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ বিদ্বান বের হচ্ছে কিন্তু শিক্ষিত বের হচ্ছে না। বিদ্বান হলো তারা যারা শুধুই সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। আর শিক্ষিত হলো সে ব্যক্তি যে মানুষ, দেশ ও অন্যের স্বার্তে কাজ করে। অর্থ থাকলেই সবকিছু করা যায় না, তার জন্য দরকার চিত্ত। কেবল চিত্ত থাকলেই যেকোনো কিছু করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সমস্যা ও সমাধান শীর্ষক আলোচনার সময় অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আরাকান রাজ্য কখনোই বার্মার অংশ ছিলো না। এটি সবসময় স্বাধীন রাজ্য ছিলো। বার্মার মুসলমানদের ওপর নির্যাতন নতুন নয়। যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত। ১৯৬২ সালে প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হয়। এর মুল কারণ হলো- আরাকান সম্পদশালী একটি রাজ্য। এ জন্য বর্তমানে অং সান সূচি সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেখানে ভারত,চীন, রাশিয়ার মত দেশগুলো বাণিজ্য করবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার মানবতার পরিচয় দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্যেও ব্যবস্থা করছেন। তাই আজ তিনি বিশ্বে ‘মানবতার মা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। অপরদিকে, সুচি ক্ষমতাকে ভালোবাসেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। কিন্তু তিনি তো ক্ষমতাহীন। কিন্তু সকল ক্ষমতা তো সেনাবাহিনীর, তিনি শুধু সেনাবাহিনীর চাওয়া বাস্তবায়ন করছেন মাত্র। মিয়ানমারে তালিকাভূক্ত ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক জাতি রয়েছে তাদের মধ্যে রোহিঙ্গ একটি। আমরা চাই বাংলাদেশে আগত সকল রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের পুর্ণবাসন করা হোক।

অনুষ্ঠানে ত্রিশ জন পিএইডি গবেষককে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন