বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:১০:২৫ পিএম

হাতিরঝিলের সৌন্দর্য খেল খাবার দোকান, দোটানায় কর্তৃপক্ষ

ইমদাদুল হাসান রাতুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | নগর জীবন | শনিবার, ১০ মার্চ ২০১৮ | ০৬:৩২:৫৬ পিএম

বিনোদনের পাশাপাশি আধুনিক রাজধানীর রূপ দেখা যায় হাতিরঝিলে। সম্প্রতি হাতিরঝিলের মূল নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বরাদ্ধ দেয়া হয় কিছু খাবারের দোকান। ঝিলের সৌন্দর্য অনেকটাই গিলে নিয়েছে দোকানগুলো।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এ দোকানগুলো হাতিরঝিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। সমালোচনার মুখে দোকানগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কিংবা দোকানবিহীন হাতিরঝিলকে মূল নকশায় আনা নিয়ে দোটানায় পড়েছে কর্তপক্ষ।

উদ্বোধন হওয়ার চার বছর পর ২০১৭ সালে হাতিরঝিলে ২৯টি দোকান বরাদ্ধ দেয় রাজউক। এতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হয়। নকশায় না থাকলেও পরে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভ্রাম্যমাণ কিছু খাবার দোকান দেয়া যেতে পারে বলে মত দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

হাতিরঝিল প্রকল্পে দোকান বরাদ্ধ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জামাল আখতারের সঙ্গে কথা হয় । তিনি বলেন, আমরা ভ্রম্যমাণ দোকানের জন্যই বরাদ্ধ দিয়েছি। তবে তারা অনেকেই শর্ত মানছেন না। এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। প্রকল্পের সমন্বিত ওই সভায় দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয় বলে সূত্রে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, মূল নকশায় না থাকলেও পরে চাহিদা ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কিছু খাবার দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়। তবে কিছু কিছু দোকান সৌন্দর্য নষ্ট করছে। মূল নকশা দেখে সেই সকল দোকান সনাক্ত করে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে।

এক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে লেকের মধ্যে যে সকল খাবারের দোকান বসানো হয়েছে তা উচ্ছেদ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রকল্প পরিচালক বলেন, আমাদের কাছ থেকে খাবারের দোকান বসানোর অনুমতি নিয়েছে সবাই। তবে কিছু কিছু দোকান সৌন্দর্য নষ্ট করছে। মূল নকশা দেখে সেই সকল দোকান সনাক্ত করে তাদের অন্যত্র (হাতিরঝিলের মধ্যেই) সড়িয়ে নেওয়া হবে।

জামাল আক্তার বলেন, মূল নকশা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

৭৫ হাজার টাকা ভাড়া দেয়া দোকানগুলোর শর্তে বলা হয়েছে, দোকান হবে ভ্রাম্যমাণ। দুপুরের পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে পারবে। এরপর নিজ ব্যবস্থাপনার পিকআপ ভ্যানে করে চলে যাবেন। তবে অনেকেই স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করেন।

হাতিরঝিলে দোকান থাকছে নাকি উচ্ছেদ হচ্ছে, এ বিষয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দোকান থাকবে আবার উচ্ছেদও হবে। এরইমধ্যেই যার বেশ কয়েকটি চিহ্নিত হয়েছে। তবে যেগুলো থাকবে কেমনভাবে থাকবে তা চূড়ান্ত হয়নি।

এতে দোকানবিহীন হাতিরঝিল প্রকল্পটির মুল নকশায় ফিরে আসা দোটানায় পড়়েছে।

-নতুনসময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন