বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ০৬:৩৬:৫৩ পিএম

রেকর্ড জয়ে টাইগার সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস

খেলাধুলা | রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮ | ০১:৪৯:৩৪ এএম

ক্রিকেট পাগল জাতি হিসেবে বিশ্বে সমাদিত বাংলাদেশ। গত কয়েক সিরিজে নিজেদের রূপ পাল্টিয়ে ফেলে টাইগার ভক্তরা। জয়ের ধারা অব্যাহত থাকায় হয়তো এমন হতে পারে। আবার মাঝ পথে ছন্দ পতন, হেরেই চলছে মাহমদুল্লাহর দল।

নিন্দুকেরা প্রশ্ন ছুঁড়েছে- তাহলে কি বাংলাদেশ দলের এখনও অনেক কিছুই শেখার বাকি? শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতেও হার দিয়ে শুরু করে সাকিবহীন বাংলাদেশ দল। বলতে গেলে সামর্থের চার আনাও দিতে পারেনি বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। হতাশ হন ভক্তরা। সমালোচনা হয়েছে মিডিয়াগুলোতেও।

কিন্তু নিদাহাস ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে সব সমালোচনার জবাব মেলেছে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে। ব্যাটিং উইকেটে বোলাররা যখন আশা জাগাতে পারেনি, তখনই ব্যাটিংয়ে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। তামিম-লিটনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সূচনা।

এরপর সামর্থের থেকে ঠের বেশি দিয়েই খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। ৩৫ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। আর রেকর্ড গড়ে ২১৫ রানে লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের এমন বিজয়ে হেসেছে ভক্তরা। এতটা উচ্ছ্বাস অন্য সময় প্রকাশ করেছে কি না বলা মুশকিল।

নগর থেকে গ্রামে সব জায়গায় টেলিভিশন পর্দায় নজর দিয়েছে, রেডিওতে কান ফেতেছিল টাইগার ভক্তরা। বরাবরের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, হোস্টেল ও টিএসসির বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের টিভি পর্দার সামনে উপচেপড়া ভিড় ছিল সমর্থকদের। গত কয়েক ম্যাচের থেকে ঢের বেশিই বলা চলে।

গলা ফাটিয়ে সমর্থন জুগিয়েছেন মাহমুদুল্লাদের। যেন ঢাকার আওয়াজ শুনতে পেরেছে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলা বাংলাদেশ দলও। সমর্থনে যেমন কমতি ছিল না, তেমনি সামর্থের ষোলা আনা দিয়ে কার্পণ্য করেনি মুশফিক, তামিম, লিটনরা। ফলাফল অবিশ্বাস্য এক জয়। এরপরই আনন্দে উদ্বেলিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সমর্থকরা।

‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’, ‘মুশফিক-মুশফিক’ স্লোগানে মুখর করে তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবসিক হল, টিএসসির রাজু ভাস্কর্য। হৈ, হুল্লোড়, চিৎকার, চেঁচামেচিতে মাতিয়ে রেখেছে পুরো ক্যাম্পাস। বিশেষ করে প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ চোখে পড়ার মতো। পানির বোতল, বালতিতে বাড়ি দিয়ে তবলার আওয়াজ তুলেছে অনেকে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী ইমরান হোসাইন বলেন, অনেকদিন পর এমন একটি ম্যাচ হয়েছে। সত্যিই খুব ভালো লাগে বাংলাদেশ দলের সাফল্য দেখে। আসলে আমরা যখন জিততে শুরু করেছিলাম, সেই ধারাবাহিকতা থাকলে আজ শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় তেমন উচ্ছ্বাস থাকত না। কিন্তু মাঝে কয়েক ম্যাচ খারাপ খেলার পর ২১৫ রানের টার্গেট টপকে অবিস্মরণীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোতে এত বেশি ভালো লাগা কাজ করছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন