সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪২:১৮ এএম

শামির আগে পাড়ার ছেলেকে পালিয়ে বিয়ে করেন হাসিন

খেলাধুলা | রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮ | ০৫:১১:৩০ পিএম

হাসিন জাহানের তোলা পরকীয়ার অভিযোগে অপরাধীর কাঠগড়ায় ভারতীয় জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামি। সংসারে বইছে ঝড়। কয়েকদিন ধরেই ক্রিকেটাঙ্গনের আলোচিত বিষয় এটি। ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন কলকাতার মডেল হাসিন। তবে এটি তার প্রথম প্রেম ও বিয়ে নয়। এর আগে শেখ সাইফুদ্দিন বাবু নামে এক ব্যবসায়ীকে ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসার টিকে ছিল ১০ বছর। ওই সংসারে হাসিনের রয়েছে দুটি সন্তান।

সিউড়িতে এখন মনোহারি দোকান রয়েছে সাইফুদ্দিনের। আট বছর আগে ভেঙে গেছে সেই সংসার; প্রথম ভালোবাসা। ছয় বছর আগে তিনি আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষে এক ছেলে রয়েছে তার। তবে সাবেক স্ত্রী হাসিনকে ভুলতে পারেননি বাবু। তাই তো হাসিনের নতুন সংসারে ঝড়ের খবর শুনে মন খারাপ তার। হাসিনের পক্ষ নিয়ে বাবু বলেছেন, হাসিন যেসব অভিযোগ তুলেছে, সেগুলো সত্যি হলে শামির শাস্তি অনিবার্য।

তিনি জানান, পাড়ার মেয়ে হাসিনের সঙ্গে তার আলাপ ২০০০ সালে। পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেন ২০০২ সালে। পরে উভয় পরিবারই তাদের মেনে নেয়। তাদের দুটি মেয়ে সন্তান হয়। এর মধ্যে ২০০৩ সালে বড় মেয়ে ও ২০০৬ সালে ছোট মেয়ে জন্ম নেয়।

মূলত ছোট মেয়ে হওয়ার পরই বাবু-হাসিনের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। কিন্তু কেন? ৩৭ বছরের বাবু বলেন, হাসিন আরও পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল। মধ্যবিত্ত পরিবার। বাড়ির বউ বাইরে গিয়ে পড়াশোনা-চাকরি করার বিষয়ে আমার পরিবারের অমত ছিল। এ নিয়ে অশান্তির জেরে ২০১০ সালে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ওই সময় আদালতের নির্দেশে দুই সন্তানকে লালনপালনের সুযোগ পান হাসিন।

পরে কলকাতায় গিয়ে মডেলিং শুরু করেন হাসিন। একসময়ে ‘চিয়ারলিডার’-এর কাজ পান। তখনই ক্রিকেটার শামির সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

বাবু জানান, ২০১২ সালের শেষের দিকে তিনি হাসিনের নতুন সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এরপর তিনি মেয়েদের নিজের কাছে রাখতে চাইলে হাসিনও রাজি হয়। এর জন্য ওর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

বাবু-হাসিনের বড় মেয়ে এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। গত জানুয়ারিতে হাসিনের ইচ্ছায় ছোট মেয়েকে মায়ের কাছে পাঠান বাবু।

এদিকে স্ত্রীর অভিযোগের তোপে হুমকিতে হাসিনের বর্তমান স্বামী শামির ক্রিকেট ক্যারিয়ার। শামি বলেছেন, ভালোবাসা থাকলে ঝগড়া হবেই। আমি পরিবারে ফিরতে চাই। হাসিনের সব অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার যাদবপুরের বাড়িতে গিয়ে শামির বিভিন্ন মেসেজের স্ক্রিন শট এবং অডিও ক্লিপিংস নেন গোয়েন্দারা। শামি দাবি করেছেন, ওই অডিও ক্লিপিংসের ফরেনসিক পরীক্ষা হোক।

শনিবার কলকাতা পুলিশ সদর লালবাজারে যান হাসিন। সেখানে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। গোয়েন্দারা জানান, আপাতত প্রমাণ জোগাড়ে জোর দিচ্ছেন তারা।

এদিকে হাসিনের প্রতি এখনো বাবুর রয়েছে সহানুভূতি। বাবুর কথায়, অনেক লড়াই করে এতটা পথ পেরিয়েছে হাসিন। ভাবতে খারাপ লাগছে, আবার একটি লড়াই ওর সামনে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন