শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ ০৬:০৫:৪৪ এএম

রাবিতে নাট্যকর্মী মারধর, শাস্তির দাবিতে প্রক্টরকে স্মারকলিপি

শিক্ষাঙ্গন | রবিবার, ১১ মার্চ ২০১৮ | ০৭:০৬:৪৯ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিকর্মী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্র্র্থী মইনুল ইসলামের ওপর আঘাতকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মলয় কুমার ভৌমিক ও দর্শন বিভাগের শিক্ষক এস.এম.আবু বকর । আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

প্রক্টর না থাকায় প্রক্টর দপ্তর এই স্মারকলিপি গ্রহন করেছে বলে জানা যায়। অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক ও এস.এম আবু বকর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ আছে, মইনুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার পদক্ষেপ আসেনি। আপনার আবগত আছেন যে, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আগের দিন যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন সমাগত। আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অভিসন্ধিমূলক করার অভিসন্ধি লুকিয়ে আছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে এক শ্রেণির উগ্রবাদী যুবক মুক্তিমনা মানুষের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছ্ধেসঢ়; এসব ঘটনায় এই ক্যাম্পাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকে জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে অনেকে এবং প্রবণতা ক্রামাগত বেড়েই চলেছে। যুবসমাজের এই মানসিকতার পরিবর্তনে আজ যখন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড প্রধান ভরসা, তখন সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর আঘাত করে কেউ পার পেয়ে গেলে সংস্কৃতি চর্চায় কেউ আর উৎসাহিত হবে না। শিক্ষা মানুষকে সংস্কৃতিমান করে তোলে। সে জন্য শিক্ষা ও সন্ত্রাস হাতধরাধরি করে চলতে পারে না। স্মারকলিপিতে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায় তাঁরা।

এবিষয়ে মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, আমরা অন্য কোনো সংগঠন বা পক্ষ থেকে নয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে প্রক্টর
বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। অভিবাবকরা তাদের সন্তানদের পাঠায় পড়াশোনা করার
জন্য তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা না দিতে পারলে অধ্যাদেশে বর্ণিত
দায়িত্ববোধরই বা দরকার কী?

উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ সন্ধ্যায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অনুশীলন নাট্যদল কর্মী মইনুল ইসলামকে মমতাজউদ্দিন কলাভবনের সামনের চায়ের দোকানে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতা মারধর করে। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) ৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এঘটনার জেরে ৮ মার্চ সকালে অনুশীলন নাট্যদল প্রতিবাদ সমাবে করে। এবং আজ এই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশ করেছে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন