সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:২৪:০১ এএম

আজ শাকিব-অপুর চুড়ান্ত বিচ্ছেদ : কোটি টাকার কাবিন কাহিনী

বিনোদন | সোমবার, ১২ মার্চ ২০১৮ | ০১:৪৪:১০ এএম

বন্ধ হচ্ছে ‘কোটি টাকার কাবিন’-এর খাতা। শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের দাম্পত্য সম্পর্কের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটলেও অপু পাচ্ছেন না কাবিনের কোটি টাকা। মানে অধরাই রয়ে গেল কোটি টাকার কাবিন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব-অপুর বিবাহবিচ্ছেদের তৃতীয় ও শেষ শুনানি আজ। যথারীতি ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে অটল শাকিব আজও আসবেন না শুনানিতে। সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই দেখে অপুও বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছেন।

২০০৬ সালে এই জুটির প্রথম ছবির শিরোনাম ছিল ‘কোটি টাকার কাবিন’। তাদের বিয়েতেও কোটি টাকার কাবিন ছিল বলে অপুর দাবি। যদিও শাকিব বলছেন, কাবিনের অঙ্ক সাত লাখ এক টাকা।

কাবিন যত টাকারই হোক শেষ পর্যন্ত অপু বলছেন কাবিনের টাকা হিসেবে তাকে কোটি টাকাই দিতে হবে। না হলে এক পয়সাও নেবেন না তিনি। গত বছরের ২২ নভেম্বর অপুকে বিবাহবিচ্ছেদের চিঠি পাঠান শাকিব। শাকিব-অপুর কোটি টাকার কাবিনের গল্প তুলে ধরা হলো—

শাকিব-অপুর প্রথম দেখার গল্প : ১৩ বছর আগের কথা, শাকিব তখন ঢাকাই ছবির ব্যস্ত নায়ক। আর অপু তখনো শুধুই দর্শক। নাচের অনুষ্ঠান করতে বগুড়া থেকে মাঝে-মধ্যে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় আসতেন অপু। ২০০৬ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান অপু বিশ্বাস।

তখনো অপু জানতেন না, ছবিটিতে তার সহশিল্পী তারই প্রিয় নায়ক শাকিব খান। মায়ের পছন্দের নায়ক রাজ্জাক ছবিটিতে কাজ করছেন জেনে সানন্দে রাজি হয়ে যান অপু। ছবির সেটে শাকিবের সঙ্গে অপুর প্রথম দেখা হয়। শাকিবের সঙ্গে প্রথম দেখার সেই গল্প শোনালেন অপু।

বললেন, ‘আমি তখনো স্কুলের ছাত্রী। শাকিব খানের ‘সুভা’ ছবিটি দেখি। এই ছবিতে নায়ক শাকিব খানকে দেখে বেশ ভালো লাগে। এরপর ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ ছবিটি দেখে শাকিব খানের ভক্ত হয়ে যাই। তখনো ভাবিনি তার সঙ্গে অভিনয় করা হবে। অবশেষে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিটি সেই সুযোগ করে দেয়।

প্রিয় নায়কের সঙ্গে অভিনয় করার সেই সময়কার অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’ অপু বললেন, ‘প্রথম দেখাতেই আমি তাকে সালাম দিই। ভাইয়া বলে ডাকি। কিছুদিন পর আমরা আউটডোর শুটিংয়ে ঢাকার বাইরে যাই। একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য ধারণের কাজ করা হবে।’

কথা প্রসঙ্গে সে সময় শাকিব আমাকে বলে, ‘এই, আমাকে ভাইয়া বলে ডাকবে না। হয় শাকিব বলে ডাকবে, না হয় আমার একটা ডাকনাম আছে রানা, সে নামেই ডাকবে। আমার পরিবার এবং খুব কাছের মানুষেরাই আমাকে রানা নামে ডাকে। তাই তুমি আমাকে রানা নামেই ডাকবে।’

সেই থেকে শুরু। কখনো শাকিব, কখনো রানা নামে তাকে ডাকি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের কাজের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বলা যায়, আমার প্রায় সব ছবির নায়কই শাকিব খান। আমাদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও চমৎকার।’

ভালোবাসি হয়নি বলা, তবুও ভালোবাসি : ‘কোটি টাকার কাবিন’। প্রথম ছবিতেই এই জুটির বাজিমাত। ছবিটির সফলতা তাদের ঢালিউডে সফল জুটির আসন গড়ে দেয়। তারপর একাধারে একসঙ্গে পথচলা। মানে স্থায়ী জুটির তকমা পেয়ে যান তারা। একসঙ্গে জনপ্রিয় জুটিও হয়ে ওঠেন।

এই পর্দা জুটি যখন পর্দার প্রেম নিয়ে এমনই সফলতায় ভাসছিলেন তখন সেই ভালোবাসার রং তাদের মনেও এসে লাগে। যতই রুপালি পর্দায় হাঁটা ততই ভালোবাসার রংধনু দুজনের মনকে আরও রাঙিয়ে তুলতে শুরু করে। কে কাকে আগে ভালোবাসার কথা বলেছিলেন।

এমন প্রশ্নে চোখেমুখে লজ্জার আবির মেখে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি তাকে ভালোবাসলেও তা বলতে পারছিলাম না। অপেক্ষায় প্রহর গুনতাম কখন সে আমাকে আমার সবচেয়ে প্রিয় ভালো লাগার কথাটি শোনাবে।’

অপুকে যেভাবে শাকিবের প্রপোজ : অপু বলেন, ‘২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল। আমরা আশুলিয়ার প্রিয়াঙ্কা শুটিং স্পটে সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির কাজ করলাম। কাজ শেষে শাকিব বলল, তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে, সন্ধ্যায় অবশ্যই দেখা করতে হবে। তার মুখ থেকে যে কথাটি শোনার জন্য এতদিন অধীর হয়ে ছিলাম।

এক সময় ও বলল আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই এবং তা আগামীকালই। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার আনন্দে মনটা আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে নেচে উঠল। নিঃসংকোচে তার হাতে হাত রাখলাম। শাকিব বুকে টেনে নিল আমাকে। আমরা দুজন মুহূর্তেই এক হয়ে গেলাম। মনে হলো এ বাঁধন কখনো যাবে না ছিঁড়ে। হাজির হলাম মিরপুরের শাহআলী মাজারে। সেখান থেকে দোয়া নিয়ে নতুন দিনের মহানন্দে চলে গেলাম যার যার বাড়িতে।’

অতঃপর বিয়ের সানাই : ‘১৮ এপ্রিল শুক্রবার। সকাল সাড়ে ১০টায় ঘর থেকে বের হলাম। যেতে যেতে গাড়িতে বোন আর জামাই বাবুকে আসল কথা বললাম। বোন তো রেগেমেগে আগুন। তার কথায় এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধর্ম। অনেক কেঁদে-কেটে বোনকে বোঝালাম। শেষ পর্যন্ত ওর মন গলল।

পথে বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে থেকে প্রযোজক মামুনুজ্জামান মামুনকে গাড়িতে তুলে নিলাম। তার হাতে দুটি মালা। দিদি ডায়মন্ডের একটি ফিঙ্গার রিং কিনে নিলেন শাকিবের জন্য। শাকিবের গুলশানের বাসায় এসে হাজির হলাম। এখানেই বিয়ে হবে আমাদের।’

অপু আরও বলেন, ‘বাসা থেকে শার্ট-প্যান্ট পরেই বিয়ে করতে রওনা দিই। মামুন মালা ও শাকিবের পক্ষ থেকে আনা একটি ডায়মন্ড ফিঙ্গার রিং শাকিবের হাতে তুলে দেন। শাকিব নিজেই পছন্দ করে নজরকাড়া লেহেঙ্গা কিনে রাখে। সেই লেহেঙ্গা পরেই বিয়ে করলাম আমি। শাকিবের পরনে ছিল সাধারণ পায়জামা পাঞ্জাবি। বিকাল সাড়ে ৩টায় বিয়ে পড়ানো হলো।

শাকিবের চাচাতো ভাই মনির শাকিবের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে কাজী নিয়ে এলেন। কাজীর নাম মুজিবুর। বিয়ে পড়াতে গিয়ে কাজী বললেন ধর্ম আর নাম পাল্টাতে হবে। ধর্ম পাল্টালাম। এবার নামের পালা। অপু নামটি রেখে এর সঙ্গে ইসলাম আর খান যোগ করা হলো। অপু বিশ্বাস থেকে হয়ে গেলাম অপু ইসলাম খান।’

বিচ্ছেদের দুই কারণ : অপু বলেন, ‘একজন হিরোইনকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তাকে বলেছিলাম, একটা জুনিয়র আর্টিস্ট আমাকে নিয়ে কথা বলবে আর তুমি সেখানে চুপ করে থাকবে? সে আমার কথায় পাত্তা দেইনি। তার মানে সে আমাকে সম্মান করেনি।

তার প্রতি আমার অনুরোধ ছিল সে যেন বুবলীর সঙ্গে আর অভিনয় না করে। কিন্তু ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল যখন একটি পত্রিকায় দেখলাম ওরা জুটি বেঁধে ‘রংবাজ’ ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছে তখন আর রাগ সংবরণ করতে পারিনি। ওই দিন বিকালেই টিভি চ্যানেলে লাইভে গিয়ে দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসি।

এরপর থেকেই আমাদের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।’ অপুর কথায়, ‘বিচ্ছেদের দ্বিতীয় কারণ হলো সন্তান জয়। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় আবরাম খান জয়ের। অপু বলেন, শাকিব চায়নি আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসুক। এজন্য অ্যাবরশন করাতে প্রথমে ব্যাংকক পরে কলকাতার একটি ক্লিনিকে শাকিব তার চাচাতো ভাই মনিরকে দিয়ে আমাকে পাঠায়।

চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন অ্যাবরশন করার স্টেজ আর নেই। তাই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আর এই সিদ্ধান্তই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শাকিব জানিয়ে দিল সন্তানের জন্ম হলে সে আমাকে ডিভোর্স দেবে। যখন কলকাতার ক্লিনিকে জয়ের জন্ম হচ্ছিল তখন শাকিব কলকাতায় ‘শিকারি’ ছবির শুটিং করছিল।

বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও একটিবারের জন্যও সে আমাকে বা বাচ্চাকে দেখতে আসেনি। এরপর ৮ মাস তার অনুরোধে বাচ্চা জন্মের খবরটাও গোপন রাখলাম। বুবলীর সঙ্গে কাজ না করার অনুরোধ না রাখায় বাধ্য হয়ে গোপন বিয়ে আর সন্তানের খবর আমাকে প্রকাশ্যে আনতে হলো। আর এই দুইয়ের পরিণতি হলো ডিভোর্স।’ -বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন