সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ০৩:১৭:৪৬ পিএম

খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকাতে নতুন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

আইন আদালত | সোমবার, ১২ মার্চ ২০১৮ | ০৬:৩৯:৫৬ পিএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া ৪ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে এ জামিন দেন।

জামিন আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তারা আগামীকালই এ জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে আবেদন করবেন।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খানও বলেছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চাইবেন।

এছাড়া, আজ রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাৎক্ষণিকভাবে রায়টি দুই দিনের জন্য স্থগিত রাখার আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করে দেন।

তবে, খালেদা জিয়ার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছার পর মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা রায়ের কপি আগামীকাল মঙ্গলবার ট্রায়াল কোর্ট- ঢাকার বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে নিয়ে যাব। চেষ্টা করবো আগামীকালই সেখান থেকে জামিন আদেশ নিয়ে কারাগারে পৌঁছানোর। এসব প্রক্রিয়া শেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন বেগম জিয়া।

এর আগে গতকাল রোববার বিশেষ আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে না পৌঁছায় আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। পরে গতকালই দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে পুলিশ পাহারায় বড় একটি ট্রাংকে করে মামলার নথি হাইকোর্টে আসে।

গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন আবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে এনে বলেছিলেন, বিচারিক আদালত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার কথা, সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। তারা জামিনের আদেশ দেয়ার আবেদন জানান। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন আদালত রোববার জামিন আবেদনের আদেশের জন্য কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।

এ ছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া মামলায় অন্য চার আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিসুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন