শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০২:১২:৪৯ এএম

তাহলে কি এই কারণের জন্য ঝরে গেল ৫১ প্রাণ!

জাতীয় | বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮ | ১২:৪৫:৩৯ এএম

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তজার্তিক বিমানবন্দর (টিয়া)র রানওয়ে একটাই। এই রানওয়েকে উড়োজাহাজ ওঠানামার সুবিধার্ধে দুটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সেটি মূলত কোনও আলাদা রানওয়ে বা স্থান নয়, একই রানওয়ের স্রেফ দুটি আলাদা দিক।

যার একটিকে ‘২০’ আরেকটিকে ‘০২’ দিয়ে কোডেড কিংবা নামকরণ করা। গ্রাউন্ডে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) থেকে যখন যেটি যে ফ্লাইটের জন্য সুবিধাজনক কিংবা সঠিক মনে করে সেটিকেই গ্রিন সিগন্যাল দেয়। আর সে অনুযায়ী সেটি নামে কিংবা ওঠে।

তবে ত্রিভুবনে যারা নিয়মিত যাতায়ত করেন, তারা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন অধিকাংশ সময়ই অবতরণে বাঘমতি করিডোর কিংবা কাঠমাণ্ডু ভ্যালির দিকটি দিয়ে উড়োজাহাজ গুলো নামে। এটি ‘রানওয়ে ২০’ কোডে চিহ্নিত।

আর যেদিকটা কটেশ্বর মহাদেবস্থান মন্দিরের ওপর দিয়ে সেটি ‘রানওয়ে ০২’ নামে চিহ্নিত। এদিকটা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। তার প্রধান কারণই হচ্ছে এই অংশটি খাড়া খাড়া পাহাড়ে ঘেরা। সুতরাং উড়োজাহাজগুলো ওঠা নামায় চূড়ান্ত সতর্কতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রকৃতির সহযোগিতাও খুব দরকার।

যেমন শীতকালে কুয়াশার, কিংবা ঘণ বর্ষার দিনগুলোতে এই রানওয়ে ব্যবহার করা কোনওভাবেই সম্ভব হয় না। গ্রীস্মে এই রানওয়ে ব্যবহার করা যায়, তার একটাই কারণ ভিজিবিলিটি। এ দিক দিয়ে অবতরণে উড়োজাহাজগুলো মেলে দেওয়া আকাশটা পায় না। ফলে আল্টিটিউড থেকে অনেকখানি খাড়া হয়ে নিচে নেমে আসতে হয়।

তারপরে ল্যান্ডিং অ্যাপ্রোচে যেতে হয়। যা ঝুঁকির, তা মানতে দ্বিধা থাকার কথা নয় কোনও বিশেষজ্ঞেরই। আমরা দেখেছি ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি এই রানওয়ে ০২ তে নামতে গিয়েই বিধ্বস্ত হয়েছে।

তবে গ্রীষ্মে উড়োজাহাজ অবতরণের ক্ষেত্রে টেলউইন্ড একটা বড় ফ্যাক্টর। টেলউইন্ড যদি বেশি থাকে তাহলে এই অংশ দিয়ে অবতরণ হয় পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ সেক্ষেত্রে অনেক সময়ই দিক পাল্টে বাতাসের চাপের বিপরীতে অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই টেলউইন্ডেরও রয়েছে মাত্রার হিসাব। ‘নট (Knot)’ যার পরিমাপের একক।

মঙ্গলবার এটিসি ও বিএস-২১১ এর ক্যাপ্টেনের মধ্যে কথপোকথনের যে টেপ এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তাতে এই কটি শব্দই বার বার শোনা গেছে- ‘রানওয়ে ২০, ০২, ভিজিবিলিটি, টেলউইন্ড, ডাউনউইন্ড, নট’।

ইউএস-বাংলার বোম্বারডিয়ার কিউ-৪০০ এর পাইলটের সঙ্গে এটিসির কথপোকথনকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অস্বাভাবিক বলেই উল্লেখ করেছেন। ফ্লাইট গ্লোবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান এমন মত দিয়ে কথপোকথনের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেছে।

তাতে বলা হয়েছে- কিউ-৪০০ (ফ্লাইট নং বিএস-২১১) কে প্রথমে ০২ রানওয়েও অবতরণের জন্য বলা হয়। বলা বলা হয় ২২০ ডিগ্রি কৌনিক থেকে ৭ নট বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আর টেলউইন্ড ৬ নটে রয়েছে। ততক্ষণে কন্ট্রোল রুম থেকে অপর একজন বিএস-২১১ কে রানওয়ে ২০তে অবতরণের জন্য ক্লিয়ার করা হয়েছে বলে জানায়।

কিন্তু তার এক মিনিটের মধ্যেই আরেকটি এয়ারক্র্যাফট অবতরণের অ্যাপ্রোচে চলে আসে। তখন টাওয়ার থেকে বিএস-২১১ কে জানতে চাওয়া হয় কোন রানওয়েটি ব্যবহার করতে চান ০২ নাকি ২০।

এতে পাইলট বিভ্রান্ত হন। বিভ্রান্তি আরও বাড়ে যখন তাকে প্রথমে ডাউনউন্ড প্যাটার্নে রানওয়ে ২০’র জন্য নামতে বলে পরক্ষণেই তা আবার পাল্টে ডাউনউইন্ড প্যাটার্নে ০২ রানওয়েতে নামার জন্য বলা হয়। একই সাথে অপর যে ফ্লাইটটি ছিলো তাকেও ০২ রানওয়েতে নামার জন্য ক্লিয়ার করা হয়।

পরপরই বিএস-২১১কে ল্যান্ডিং না করে রানওয়ে ২০’র জন্য স্থিত অবস্থায় থাকতে বলা হয়। কিন্তু পাইলট তার উত্তরে জানান, তিনি রানওয়ে ০২ এর দিকে যাচ্ছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন