বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ০১:০০:১৯ এএম

কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক

মীর মেহেদী হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | রাজনীতি | বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮ | ১০:২২:০৭ পিএম

সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এই দুই নেতার অনুগত ছাড়া অন্য কেউই তাদের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও এই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফোন করলেও পাওয়া যাচ্ছে না তাদের।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, একক আধিপত্য বজায় রাখা এবং ক্ষমতার জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন যাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় এই দুই নেতা নিজ থেকেই সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

এদিকে, শিগগির কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দাবি জানিয়ে ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মী জানান, ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতেই এই দুজন সম্মেলন না করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের যখন তারুণ্য থাকে এবং যৌবন থাকে তখন তার গতি থাকে। আর যখন বার্ধক্য হয় তখন কিন্তু শরীর আর কাজ করে না, মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। আমাদের বর্তমান কমিটি ঠিক সে রকম অবস্থা।

কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২৫ জুলাই শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তারা একেবারেই বিচ্ছিন্ন।

ছাত্রলীগের এই নেতা আরও বলেন, আমি সহসভাপতি হয়েও কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না। সেখানে তৃণমূলের কর্মীরা কিভাবে যোগাযোগ করবে। বিকেন্দ্রীকরণ আমাদের সংগঠনের মূল বিষয় হলেও তারা এর বিরোধী। ছাত্রলীগের সকল সিদ্ধান্ত তারা দুজন নেন। এটাকে তো রাজনীতি বলে না। এটা তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব। আমাদের কিছুই জানায় না। মিটিং ছাড়াই সব সিদ্ধান্ত নেন।

ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, ২৯তম সম্মেলন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বর্তমান কমিটির প্রতি সারাদেশের নেতা-কর্মীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নতুন কমিটি না হলে সেটা ফিরিয়ে আনা যাবে না। তিনি বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এর আগে নতুন কমিটি না করলে তৃণমুলে হতাশা বাড়বে। এর প্রভাব নির্বাচনেও পড়বে।

তিনি আরও জানান, সভাপতি এবং সেক্রেটারি সব বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেয়। কমিটির কাউকে জিজ্ঞেস করারও প্রয়োজন মনে করে না। এ জন্য সংগঠনের আজকের এই নাজুক অবস্থা। কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। সম্মেলন যাতে নির্বাচনের আগে না হয়, এমকি সব ক্ষমতা তাদের দুই জনের হাতে থাকে, এ জন্যই তারা সকল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে। তৃণমুলের কর্মীরা এমনটাই মনে করছে। দলের প্রযোজনের চাইতেও ব্যক্তির প্রয়োজন বড় হয়ে উঠছে। এ দুজন সব বিষয় এড়িয়ে গিয়ে গন্ডারের চামড়া গায়ে বেঁধে কিভাবে সম্মেলন পিছিয়ে নেওয়া যায় সে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এসব অভিযোগ বিষয়ে কথা বলার জন্য সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মোবাইল নাম্বারে একাধিক চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এমনকি মোবাইলে মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

দলের একাধিক নেতা জানায়, ছাত্রলীগের ১৯৯০ সাল-পরবর্তী কোনো কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই চার বছরের আগে ক্ষমতা ছাড়েননি। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর গত ৭০ বছরে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছে ২৮ বার। এর মধ্যে গত ৩০ বছরে মাত্র ৭টি নতুন কমিটি পেয়েছে ছাত্রলীগ, যেখানে গঠনতন্ত্র মানলে অন্তত ১৫টি কমিটি হতো।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১ (খ) ও (গ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যকাল দুই বছর। এরমধ্যে সম্মেলন না হলে সংসদের কার্যকারিতা থাকবে না। বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে বর্ধিত সভায় অনুমোদনের মাধ্যমে কমিটি তিন মাসের জন্য সময় বাড়াতে পারে। অথচ সেই সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সারাবাংলা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন