মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ ০৫:৩৪:৩৬ পিএম

‘তুমি জেনেও কেন আমার বুক থেকে সারাজীবনের জন্য আকাশে লুকালে’

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮ | ০৩:৪৪:২৯ পিএম

নেপালে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিলকিস বিলকিস আরা মিতু নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া ও মনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে।

গোলাম কিবরিয়া বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত নায়েক সুবেদার। তাঁর মেয়ে বিলকিস আরা মিতু নিউইয়র্ক প্রবাসী ছিলেন। সেখান থেকে ঢাকায় এসে তিনি নেপাল ভ্রমনে গিয়েছিলেন; কিন্তু নেপাল ভ্রমন আর করা আর হয়নি তাঁর। গত সোমবার মর্মান্তিক ওই বিমান দুর্ঘটনায় তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

মিতুর স্বামী আজিজুল হক। প্রিয়তমা স্ত্রীর অকাল মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান। এরইমধ্যে তিনি দেশের পথে রওয়ানা দিয়েছেন। বুধবার বিমান থেকে প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ইংরেজিতে লেখা হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

আজিজুল হক লেখেন, ‘আমার জান, আমার কলিজা, কেন তুমি আমাকে ভীষণ একা করে দিয়েছ? তুমি ছিলে আমার জীবনের সেরা পাওয়া। তুমি সবসময়, প্রতিটি দিন, প্রতিটি সেকেন্ড আমাকে পরিপূর্ণ করেছ। তুমি প্রতিমুহূর্ত আমার বেঁচে থাকার কারণ। তুমি তো জানতে, তা হলে কেন আমার বুক থেকে সারাজীবনের জন্য আকাশে লুকিয়ে গেলে।’  ‘তোমাকে বলেছিলাম- আমি এতিম-অনাথ এবং তুমিই একমাত্র যে আমার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছ।’

ফেসবুক পোস্টটির সঙ্গে আগের একটি জন্মদিনের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার কলিজা, আজ তোমার জন্মদিন। কিন্তু আমি কীভাবে সবসময়ের মতো আজ তোমার জন্মদিনটি উদযাপন করব। কীভাবে আমি কেকের টুকরো তোমার নাকে লাগিয়ে দেব, কীভাবে আমি দুষ্টুমি করে কেক খাইয়ে দেব?’

‘বেহেস্তে তুমি শান্তিতে থাক। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া কিছুতেই আমি থাকতে পারছি না। কোনোভাবে বোঝাতে পারছি না’।

উল্লেখ্য, বিলকিস আরা মিতুর ২০০৯ সালে রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার ইমরান হোসেন ডন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। ডনের সঙ্গে চার বছর সংসার করার পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ২০১৩ সালে। এরপর মিতু ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে নিউইর্য়ক প্রবাসী আজিজুল হকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মিতু। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই মিতু নিউইয়র্কে পাড়ি জমান।

গত ১২ মার্চ (সোমবার) কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ৭১ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় ইউএস বাংলার-‘বিএস টু ওয়ান ওয়ান’ বিমানটি। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপ ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫০ জন মারা গেছেন। এই বিমান দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি মারা যান।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন