শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৫৭:২৬ পিএম

চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ডিন নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আন্দোলনের হুশিয়ারী

নুর হাছান নাঈম | শিক্ষাঙ্গন | বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮ | ০৮:৩৪:৫৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিন নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ভিসিবিরোধী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্চে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিসিবিরোধী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এ ডাক দেন ।

এই সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিন নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। এ সময়ে মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের নির্বাচিত ডিন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আমির হোসেনকে এবং আইন অনুষদের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হককে ডিন পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভর্তি পরীক্ষার জন্য উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ হবার পরও তাদের দুজন ডিনের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম এখনও চলছে এবং তৃতীয় পর্যায়ে ভর্তি কয়েকদিন পরে শুরু হবে। যদি ভর্তি কার্যক্রমের জন্যই তাদেরকে রাখা হয়ে থাকে তাহলে এখনও ভর্তি চলাকালীন কেন তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হলো?’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘প্রথা অনুযায়ী নির্বাচিত ডিন প্রয়োজনে পদত্যাগ করতে পারেন। তাকে অব্যাহতি দেয়ার প্রথা নেই। কিন্তু ভিসি তা করেননি। ভিসি অধ্যাপক মো. আমির হোসেন এর উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বহু পদে আসীন অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতারকে ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। অন্যদিকে আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মো. রবিউল ইসলামের পদোন্নতি আটকে রেখে তাঁর ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অধ্যাপক বশির আহমেদ কে ডিন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।’

অধ্যাপক আবুল হোসেন আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আগামী মে মাসে ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়াও ভিসি একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের মতো নীতি-নির্ধারণী নির্বাচিত পর্ষদকে অকার্যকর রেখে দীর্ঘদিন সভার আহবান করেননি ভিসি।’

এমন অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ অসমাপ্ত রেখে রাতের অন্ধকারে স্বল্প সময়ের জন্য ডিন নিয়োগ দিয়েছেন যা অগণতান্ত্রিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার বাসনা স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক আওলাদ হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা, নাজমুল হাসান তালুকদার প্রমুখ।

এসব বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমির হোসেন উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন। আর আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ মনজুরুল হক কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন। তাই এই দুজন প্রেষণে থাকার কারণে দীর্ঘ ৮ মাসের মত এই দুই অনুষদের ডিন পদ খালি ছিল। তাই শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে তাদেরকে গতকাল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ ব্যক্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এ সব প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। ’

প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আখতারকে ও আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে অধ্যাপক বশির আহমেদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এই দুই শিক্ষক পূর্বে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর সাথে ছিলেন। কিন্তু ভিসি প্যানেল নির্বাচন ও শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই দুই শিক্ষক সংগঠনটি থেকে বের হয়ে এসে ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শের শিক্ষক সমাজ’ নামের নতুন সংগঠন এ যোগ দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন