শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ০৪:৫৩:২৪ এএম

ক্রিকেট উন্মাদনায় মেতেছিলো রাবি শিক্ষার্থীরা

মো. নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | শনিবার, ১৭ মার্চ ২০১৮ | ০৪:৪৫:৫১ পিএম

সন্ধ্যা হতেই হলের টিভি রুমগুলোতে শত শত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা। কখন টস হবে আর কখন খেলা শুরু হবে? কারা আগে ব্যাট করবে আর কারা পরে? হলগুলোতে যেন একটা উৎসবের আমেজ চলছে। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে চলছে ‘ঊষা’পাবনা আঞ্চলিক সমিতির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

গান গেয়ে মিলনায়তনের মঞ্চ মাতাচ্ছেন দেশবরেণ্য বাউল সঙ্গীতশিল্পী সাজু। অন্যদিনের সঙ্গীতানুষ্ঠানে মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। শিল্পীদের সাথে শিক্ষার্থীরাও নাচে-গানে মুখরিত করে তোলে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন।

কিন্তু গতকাল ছিলো সম্পূর্ণ তার বিপরীত। সবাই সঙ্গীতানুষ্ঠান বাদ দিয়ে যে যার হলে বা ছাত্রাবাসে রয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হয় এরা কখনো গানের আসরে যায় না। সঙ্গীতানুষ্ঠান এদের জন্য না, এগুলো অন্য কোনো জাতির জন্য।

আসলে ঘটনা তা নয়, গতকাল সন্ধ্যায় যে নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনাল বলা চলে, এ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এরা যে সঙ্গীতের তুলনায় দেশকে এবং দেশের ক্রিকেটকে বেশি ভালোবাসে তাই মিলনায়তনের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে সকলে টিভির সামনে অপেক্ষা করছে। প্রিয় দলের সাথে উন্মাদনায় মাততে তারা সবাই একত্রিত হয়েছে।

খেলা চলাকালীন সকলে হাত-তালি দিয়ে, চেঁচামেচি করে আর খেলা নিয়ে বিশ্লেষণ করে পুরো টিভিরুমকে মাতিয়ে রেখেছে। দলের সুসময়ে উল্লাস আর দুঃসময়ে হতাশা প্রকাশ করছে। দেখে মনে হয় যেন এরাই মাঠে খেলছে তাই তাদের এতো হতাশা।

খেলার শেষের দিকে বাংলাদেশ দলের যখন বিপর্যয়কর অবস্থা অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন, জেতা ম্যাচটা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম কেউ যেন মেনে নিতে পারছেন না। আবারো একটা হারের হতাশা নিয়ে রুমে ফিরতে হবে। কিন্তু অনেকে বিশ্বাস রেখেছিলো বাংলাদেশ এবং মাহমুদুল্লাহ পারবে। তাইতো টিভির সামনে বসেই ছিলো।

শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে মোস্তাফিজ কোনো রান নিতে না পারায় সবাই নিশ্চুপ! অতপর তৃতীয় বলে মাহমুদুল্লাহ’র বাউন্ডারি, হবে হবে! বলে সবাই একসাথে লাফিয়ে উঠলো। তখনো দুশ্চিন্তা ৩ বলে দলের জন্য ৮ রান দরকার। এরপর ২ রান নিলেন, আরও একটু স্বস্তি।

২ বলে ৬ রান দরকার, তখন মাহমুদুল্লাহ উড়িয়ে বল মারলেন। বল কোথায় গিয়ে পড়লো তার দিকে কারোর নজর নেই তার আগেই লাফালাফি আর জয়োল্লাসে টিভিরুম থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় আনন্দমিছিল শুরু করে দিয়েছে। একটি হল থেকে বের হতেই দেখা যায় আশেপাশের সকল হল ও ছাত্রাবাস থেকে শত শত শিক্ষার্থীরা বিজয়োল্লাস করতে রাস্তায় নেমেছে।

এ চিত্রটি ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)। নিদাহাস ট্রফির বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচের রাত্রির গল্প।

বাংলাদেশ জয় লাভ করায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী মেতেছিলো জয়োল্লাসে। থালা-বাটি, ঢোল-তবলা বাজিয়ে আনন্দমিছিল করেন তারা। সকল হল ও আশপাশের ছাত্রাবাস থেকে যারা আসেন সকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমপাড়ায় গিয়ে একত্রিত হন। সেখানে একসাথে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী দেশের ক্রিকেট জয় লাভ করায় দেশের নামে স্লোগান দিয়ে গোটা পশ্চিমপাড়া মুখরিত করেন। দেখে মনে হয়েছিলো গোটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বুঝি মেতেছে ক্রিকেট উন্মাদনায়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন