রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:১৪:৩৪ এএম

জুনের পর আন্দোলনের গতি বাড়াবে বিএনপি

রাজনীতি | সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮ | ১২:০২:৫৬ পিএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যদি সরকার সহসা মুক্তি না দিলে আগামী জুন মাসের পর থেকে চলমান আন্দোলনের গতি বাড়াবে দলটি৷

বিএনপি সূত্রের বরাতে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেই বিএনপি তাদের প্রথম টার্গেটে রেখেছে৷ খালেদা জিয়ার মুক্তিকে তারা ‘বার্গেইনিং পিস' হিসেবে সামনে রাখছে৷ আর তা করতে গিয়ে তবে তারা দলকে সহিংস আন্দোলনের পথে নেবে না বলেই সব পর্যায়ে নির্দেশনা আছে৷

খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগের দিন স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেন৷ ওই বৈঠকে দলের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তিনি কিছু নির্দেশনা দেন৷ তাতে আগামী নির্বাচনে দলের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো কথা হয়নি৷

তখন সিদ্ধান্ত হয় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বৈঠক করে আসন ভাগাভাগি এবং জোটগত নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে৷

তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলের নেতাকর্মীদের বলা হয়৷ বলা হয়েছে, কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত দেয়ার পর নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে হবে৷

জানা গেছে, বিএনপি থেকে প্রার্থিতার ব্যাপারে আগাম একটি সিগন্যাল দেয়া আছে অনেককেই৷ কারা প্রার্থী হলে কেমন করবে তা নিয়ে বিএনপি এর আগে অন্তত দুটি জরিপ করিয়েছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে৷ বিএনপি জরিপের কথা স্বীকার করলেও কাদের দিয়ে সেই জরিপ করিয়েছে তা অবশ্য প্রকাশ করেনি৷

বিএনপি এখন আন্দোলন এবং নির্বাচন নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে৷ তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবেই নিয়েছে৷ আর এই আন্দোলনকে তারা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণই রেখেছে৷

জানা গেছে, এর মধ্যে খালেদা জিয়া যদি মুক্তি না পান, তা হলে আগামী জুন পর্যন্ত বিএনপি এ ধারাতেই আন্দোলন চালিয়ে যাবে৷ জুনের পর বিএনপি তাদের আন্দোলনের গতি আরও বাড়াবে৷

তবে ওই আন্দোলনও শান্তিপূর্ণ রাখার নির্দেশনা আছে৷ কারণ বিএনপি চায় বিএনপির নেতাকর্মী যারা বাইরে আছেন, তাদের যেন সরকার আটকের কোনো ‘অজুহাত' না পায়৷

বিশেষ করে সংসদীয় আসনগুলোতে বিএনপির যারা সম্ভাব্য প্রার্থী, তারা যেন মুক্ত থাকতে পারেন৷ তাদের যদি নির্বাচনের আগে কারাগারে যেতে হয়, তা হলে বিএনপির অন্য নেতাকর্মীদের নির্বাচনের মাঠে পাওয়া কঠিন হবে৷ একই সঙ্গে বিএনপি দলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কারা বিদ্রোহী হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখছে৷

বিএনপি মনে করে, নির্বাচনে তাদের ভোটব্যাংক অক্ষুণ্ন থাকবে৷ একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি সহানুভূতির ভোটও বাড়বে৷ কিন্তু নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী দেয়া না যায় তা হলে পরিস্থিতি ভিন্নও হতে পারে৷ তাই এখন বিএনপি চাইছে সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের যেন গ্রেফতার এড়িয়ে কারাগারের বাইরে রাখা যায়৷

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট এবং প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিএনপি এখন সংসদেও নেই৷ আর আগে তারা অন্তত সংসদে ছিল৷ দলটি এক যুগের মতো ক্ষমতার বাইরে৷ তাই নেতাকর্মীরা হতাশ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন৷

এবার নির্বাচনই নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ করে দেবে৷ আর এই ট্রেন মিস করলে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আরও সংকটে পড়বে৷

নির্বাচন বর্জন করলে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে৷ অনেকে স্বতন্ত্র হিসেবে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ৷

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন, আমরা তো ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যেতে পারি না৷ আর কেন্দ্র থেকে এখন ম্যাডামের মুক্তির আন্দোলনের কথাই বলা হচ্ছে৷ তবে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতিই আমাদের আছে৷ কেন্দ্র যে রকম সিদ্ধান্ত দেয় আমরা সে রকম কাজ করব৷

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে৷ আমি সুনামগঞ্জের কথা বলতে পারি৷ এখানকার ২-৩ জন প্রার্থী প্রস্তুত আছেন৷ শেষ মুহূর্তেও যদি কেন্দ্র নির্বাচনের সিগন্যাল দেয় তা হলে আমাদের নির্বাচনে অসুবিধা হবে না এবং বিএনপির প্রার্থী পাস করবে বলে আশা করি৷

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারা দেশেই যারা বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী, তারা নেতাকর্মীদের নিয়া মাঠে আছেন৷ তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ তারা যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছেন৷ যদিও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই এখন টার্গেট৷ তাদের আটকের জন্যই নানা তৎপরতা চলছে৷ তবে এসব কোনো ব্যাপার না৷ নির্বাচনের সিগন্যাল পেলে সবাই মাঠে নামবে৷ সবাই প্রস্তুত আছে৷

বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি মনে করে সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে৷ আর নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে সরকারের প্রভাব ততই কমবে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তত সক্রিয় হবে৷ ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন এবার আর সম্ভব হবে না৷ তাই বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মাঠে নেমেছে নির্বাচনকেই টার্গেট করে৷

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে জুন মাস থেকে চলমান আন্দোলনের গতি বাড়বে৷ আর মুক্তি পেলেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামবে বিএনপি৷ সরকারকে চাপে রেখেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি৷ বিএনপির টার্গেট হল যতটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে নির্বাচন করা যায়৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এটি স্পষ্ট যে বিএনপি যাতে নির্বাচনে আসতে না পারে সে জন্য সরকার নানা নীলনকশা প্রণয়ন করছে৷ আর সে জন্যই একটি ভুয়া মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে৷ জামিন দেয়া নিয়ে নানা টালবাহানা করছে৷

তিনি বলেন, প্রতিদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে৷ তাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে৷ সরকার চায় বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ২০১৪ সালের মতো আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে৷

তা হলে বিএনপি কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আগেই ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছেন৷ তিনি বলেছেন, বিএনপিকে যদি জনগণ ভোট দেয়, বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তা হলে এই ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়ন করবে৷

মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন- আগামী নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে৷ আমরা এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ডের জন্য আন্দোলন করছি৷ আশা করছি খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে মুক্তি পেয়ে একটি রূপরেখা দেবেন৷ আর সেই রূপরেখা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে৷

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি৷ দেশের জনগণ নির্বাচন চায়৷ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়৷ আমরাও জনগণের দল হিসেবে নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছি৷

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন