শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ ০৪:৫৭:০৫ পিএম

রুয়েট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি

মো: নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮ | ০৭:১২:০৫ পিএম

গত ৮ মার্চ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হলো জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, আবাসিক হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ৮ মার্চ সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সশস্ত্র হামলাকারীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, সংঘর্ষ চলাকালে আবাসিক হল থেকে লুট হওয়া ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে তদন্ত কমিটি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৮ মার্চ রাতে শহিদ আবদুল হামিদ হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার সময় বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই রাতে হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৩৪টি ল্যাপটপ, ৩০টি মোবাইল ফোন, ৫টি ডিএসএলআর ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নগদ অর্থসহ ৫০ লক্ষাধিক সমমূল্যের মালামাল লুট করে।

এছাড়া ১০টি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং হলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। যার মূল্য আনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকা।

এমন ঘটনায় আমরা ভীত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছি না। এমন অবস্থায় সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ রাতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রুয়েটের শহীদ আবদুল হামিদ হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নিবিড় ও সাধারণ সম্পাদক তপু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এর মধ্যে এনামুল কবির রাজন নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

সংঘর্ষের পরদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্লাস বন্ধ করে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আর ওই রাতেই রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এদিকে, ছুটি শেষে রবিবার ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন