শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৫৮:০৫ পিএম

পিঠের চামড়া অনেক আগেই পুরু হয়ে গেছে : কাদের সিদ্দিকী

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮ | ০৪:০৪:১৮ এএম

লিখতে গিয়ে কেন যেন মন সরে না, হাত নড়ে না। সেদিন এক অনলাইনে মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এক সমর্থকের লেখা পড়লাম। আমাকে অনেক তাচ্ছিল্যের পরও তিনি একটি সত্য কথা বলেছেন, ‘হাসানুল হক ইনু স্বাধীনতার পর যত মানুষ মেরেছে, পাকিস্তান হানাদাররাও তত মানুষ মারে নাই বা মারতে পারে নাই।’

পাকিস্তান হানাদাররা যত মানুষ মেরেছে হাসানুল হক ইনু কেন, তার মতো ১০০ জন একত্র হয়েও অত মানুষ মারতে পারতেন না। কিন্তু কদিন থেকে সে কথাই বলা হচ্ছে যা আমার কথা নয়। মফস্বলের সাংবাদিকরা কখনো কখনো আমাদের কথা ধরতে না পেরে তাদের মতো করে লিখে দেন। যা নিয়ে অনেক সময় বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।

হাসানুল হক ইনুর গণবাহিনী যত মানুষ মেরেছে পাকিস্তানি হানাদাররাও তত মানুষ মারতে পারে নাই— ওটা আমার কথা নয়, ও কথা সাংবাদিকদের। আমার কথা ছিল, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদাররা যত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছে, হাসানুল হক ইনুর গণবাহিনী এবং সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি তার চেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের লোকজন হত্যা করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ-জামালপুর-শেরপুর-সিরাজগঞ্জ-পাবনা-মানিকগঞ্জের যে এলাকা মুক্ত ছিল সেখানে হাজার পঁচিশেক সাধারণ মানুষকে হানাদাররা হত্যা এবং ৪-৫ হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করেছে। আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে অনেক, কিন্তু হাঁস-মুরগির মতো মারতে পারেনি। ১২ জুন কালিহাতীর বল্লায় প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছিল। হানাদারদের ১৫-২০ জন নিহত ও ২৫-৩০ জন আহত হয়েছিল। আমাদের কারও গায়ে ফুলের টোকাও লাগেনি।

১৯ এপ্রিল কালিহাতীতে ভীষণ যুদ্ধ হয়েছিল। সেখানে আমাদের ১০-১২ জন শহীদ হয়েছিল। একেবারে প্রথম ৩ এপ্রিল সাটিয়াচরায় হানাদারদের টাঙ্গাইল প্রবেশের মুখে বাধা দিয়েছিলাম। সেখানে ৮-৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয় এবং প্রায় ২০০ গ্রামবাসীকে তারা হত্যা করে। ১১ আগস্ট মেজর হাবিবের নেতৃত্বে জাহাজমারার যুদ্ধ, যেখানে ৩০ জন হানাদার নিহত হয়েছিল, একজন মুক্তিযোদ্ধার পায়ে গুলি লেগেছিল।

মাকরাই-ধলাপাড়া-দেওপাড়া-পাথরঘাটা-রাঙামাটি-কামুটিয়া। ২১ নভেম্বর পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ঢাকা-টাঙ্গাইল রাস্তায় কালিয়াকৈরের মহিষবাথান থেকে ময়মনসিংহের মধুপুর, টাঙ্গাইল থেকে নাগরপুর, এলেঙ্গা থেকে ভুয়াপুর ৪২টি সড়ক সেতু কালভার্ট উড়িয়ে দিয়েছিলাম। ১০-১২ জন আহত, তিনজন নিহত হয়েছিল। একেবারে সর্বশেষ নাগরপুর থানা দখল— ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর ৫ হাজার যোদ্ধা নিয়ে তিন দিনের ভীষণ যুদ্ধে আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, হুমায়ুন বাঙ্গাল আর শামসু গুরুতর আহত হয়েছিল। কেউ শহীদ হয়নি।

৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে ভারত স্বীকৃতি দিলে প্রায় ৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিকরাইলে সমবেত হয়। সেখান থেকে একদল দক্ষিণ থেকে জামালপুরের দিকে আক্রমণ করে। অন্যান্য দল গোপালপুর-ঘাটাইল-কালিহাতীসহ টাঙ্গাইল মুক্ত করার অভিযানে শরিক হয়। ছত্রীবাহিনী নিরাপদে অবতরণ এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের সময় দিতে পাকিস্তানিদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য কালিহাতী থেকে পুংলীর হানাদারদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। সেখানেও আমাদের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত করার অভিযানে পশ্চিম দিক থেকে ক্যাপ্টেন নিয়ত আলী, ড. আবদুর রাজ্জাক, কমান্ডার আলমগীর; দক্ষিণ দিকে বায়েজিদ আলম, ভিপি শামসু, মতি, সাইদুর; পুব দিকে ব্রি. ফজলু, মোকাদ্দেছ আলী, মেজর লোকমান, ক্যাপ্টেন মোস্তফা; উত্তর থেকে হাকিম, সবুর খান, আমান উল্লাহ, আনিস, ফজলু টাঙ্গাইলের টুঁটি চেপে ধরেছিল। সেই অভিযানে কাদেরিয়া বাহিনীর ১৫-২০ জন আহত, ৩ জন শহীদ হয়েছিল।

জাহাজমারা কমান্ডার হাবিব ও ব্রাহ্মণশাসনের চান মিয়াকে কালিদাসপাড়ায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলের পথ আগলে রাখার দায়িত্ব দিয়ে মোগলাপাড়া থেকে যখন টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহের রাস্তা ধরেছিলাম তখন ৩-৪ হাজার যোদ্ধা আগে পিছে এবং রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই মাইল চিরুনি অভিযান চালাতে চালাতে এগিয়ে চলেছিল। সারা দিনে প্রায় ২০ মাইল এগোতে গিয়ে প্রথম শোলাকুড়ায় বাধা পাই। মেশিনগান, আরআরের প্রচণ্ড গুলি এলেও আমাদের কেউ হতাহত হয়নি।

টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার পথে ১৩ ডিসেম্বর গোড়াইর কাছে রাস্তার পাশ থেকে আচমকা গুলিতে ২ জন ভারতীয় এবং ৪ জন কাদেরিয়া বাহিনীর নিহত ও ৬-৭ জন আহত হয়। কড্ডার দিক থেকে মিত্রবাহিনীর যে দল এগোচ্ছিল তিন দিনে তাদের ৩ জন ছত্রীসেনা এবং কাদেরিয়া বাহিনীর ২ জন শহীদ ও ১৬-১৭ জন আহত হয়। অন্যদিকে নবীনগরে ব্রি. সানসিংয়ের ব্রিগেড সাভার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে প্রচণ্ড বাধা পায়।

সেখানে সর্বশেষ মারাত্মক যুদ্ধ হয়। যে যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ১৫-১৬ জন হতাহত হয়। প্রায় ৩০০ জন হানাদার নিহত হওয়ার পর ৯০ জন আত্মসমর্পণ করে, শতেক-দেড় শ পালিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর হেমায়েতপুর পুলের ওপর থেকে আমরা যে দূত পাঠিয়েছিলাম ৩ জন ভারতীয়, ১ জন কাদেরিয়া বাহিনী। টাইগার নিয়াজি আত্মসমর্পণ করবে এই খবরের আনন্দে তারা জ্ঞানহারা হয়ে রকেট গতিতে ফিরে আসছিল। তাদের গাড়িতে ঝোলানো সাদা শার্ট তীব্রগতির জন্য উড়ে গিয়েছিল। তাই আমাদের সৈন্যরা শত্রুসৈন্য মনে করে গুলি চালিয়েছিল।

তাতে ৩ জন শহীদ এবং ১ জন গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর কারও প্রাণও যায়নি, কেউ আঘাতও পায়নি। সেজন্য বলেছি, পাকিস্তান হানাদাররা নিরপরাধ মানুষের ওপর যত বীরত্বই দেখাক মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর তেমন কিছু করতে পারেনি। ভারতীয় মিত্রবাহিনী আমাদের সাথী হলে লেজ গুটিয়ে পালানো ছাড়া তাদের আর কিছু করার ছিল না। তাই বলেছিলাম, হাসানুল হক ইনুর গণবাহিনী স্বাধীন বাংলাদেশে গুনে গুনে যত মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী হত্যা করেছে হানাদাররাও তা করতে পারেনি।

যা হোক, সমালোচক থাকবেই। নিখাদ সত্য সমালোচনা ইবাদতের মতো। যে সমালোচককে সম্মান করে না, তার চেয়ে নির্বোধ দুনিয়ায় কেউ নেই। তাই সমালোচনা সহ্য করার মতো পিঠের চামড়া অনেক আগেই পুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকার থেকে যখন শুধুই বঙ্গবন্ধুর কথা আসে তখন ভালো লাগে না। নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমাদের মাথার মণি, আমরা ছিলাম তার ছায়া। কিন্তু আমরাও তো ছিলাম।

সেদিন ১৮ তারিখ জননেত্রী আমার প্রিয় বোনের এক লম্বা বক্তৃতা শুনলাম। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলতে গিয়ে আমাদের কারও নাম নেননি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, কামারুজ্জামান, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, কে এম ওবায়দুর রহমান— কারও নাম নেই।

তাদের নামের জায়গায় বলেছেন যারা আন্দোলন করেছেন নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেমন জহুরা তাজউদ্দীনের নাম এখন কোথাও নেই। জননেতা আবদুল মান্নান স্বাধীন বাংলা বেতার গঠন এবং পরিচালনা করেছেন, তার নাম আজকাল কোথাও নেই। সেদিন শাওলি-প্রিতমের মা, মান্না হকের স্ত্রী মিঠু এসেছিল। মান্না হকের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেই, অথচ সে স্বাধীন বাংলা বেতারের উল্লেখযোগ্য নিয়মিত শিল্পী ছিল। কী যে অবস্থা কাকে বলি।

জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর কত মানুষের কত আশা। এইচ টি ইমামের মতো রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপদেশে কী যে হচ্ছে। পাকিস্তান শেষে বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারী। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কিন্তু এইচ টি ইমামকে করেনি। তরকারিতে হলুদের মতো। বঙ্গবন্ধুর লাশ ধানমন্ডিতে পড়ে থাকতেই মোশতাক যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন তার সব ব্যবস্থাপনা করেছিলেন এই এইচ টি ইমাম। তার পরও বোনের পাশে কেমন করে হি হি করে হাসে বুঝতে পারি না।

মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা সরকার থেকে দেওয়া হলো। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের সোনার বাংলা প্রকৌশলী সংস্থা (প্রা.) লি. অগ্রণী ব্যাংকে ১৯ লাখ টাকা প্রকৃত ঋণ জোড়াতালি দিয়ে সেটাকে ৩ কোটি ১৯ লাখ বানিয়েছিল। সেই ৩ কোটি ১৯ লাখ ৯ কোটি ৫৭ লাখ বানিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে দিয়েছিল। কি ভানুমতির খেল!

বোর্ড মিটিংয়ে প্রস্তাবিত ৯ কোটি ৫৭ লাখ কী করে ১ কোটি ৩২ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ কোটি ৮৮ লাখ হলো! অন্যদিকে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক (কৃষকের ব্যাংক) ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা লুট করে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি পেল। কি বিচার! মেয়ের জন্য টাকা পাঠাতে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংক ম্যানেজার বলছিলেন, ‘আমরা তো কদিন পর আর ঋণ দিতে পারব না।’ তাকে বলেছিলাম, ঋণ দিতে না পারলে আপনাদের ডাটফাট চলবে কী করে?

ব্যাংকের ফুটানি তো কাস্টমারের টাকায়। ব্যাংকের তো নিজের চেয়ার-টেবিলও থাকে না। পরের ধনে পোদ্দারি। ম্যানেজার বলেছিলেন, ‘স্যার, সব শেষ হয়ে গেছে।’ শেষ হয়েছে, না কিছু আছে বলব কী করে। আমরা তো বাইরের মানুষ। কেন যেন দুর্নীতি সবকিছু ছেয়ে ফেলেছে। কদিন আগে ১০-১১ হাজার পুলিশ নিয়োগ হয়েছে। কোনো পুলিশ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে সে টাকা খরচ করেনি। ১০ হাজারে দু-এক শ হতে পারে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এসব ছাড়া কারও নিয়োগ হয়নি।

সরকারি অফিস-আদালতে তেমন যাই না। তাই সরকারি আমলা-ফইলাদের রংবেরং বা ক্ষমতার দাপটের খবর রাখি না। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছে এবার পুলিশের নিয়োগ বেশ দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে। জানি না কুয়োর ব্যাঙ সাগরের খবর বলে কী করে। আমার জেলায় এসপি মো. মাহবুব আলম পিপিএম। ভদ্রলোক নাকি টাঙ্গাইলে এএসপিও ছিলেন। আমার মা-বাবার মৃত্যুর সময় দোয়া মাহফিলেও গেছেন। এসপির অফিস না হয়ে আওয়ামী লীগের অফিস হলেই ভালো হতো।

টাঙ্গাইলে বেশকিছু নেতা জেলা সদরে একটি এক্সিবিশন করেছিলেন। শোনা যায় ৬-৭ কোটি টাকা নেতারাই নিয়েছেন। হাউজি, লটারি, নাচ সবই ছিল তাতে। আসলে মানুষের বিনোদনের জায়গা নেই। তাই হাইজ্যাক, চুরি-চামারি ও নেশা খেয়ে পড়ে থাকে। আগে নাটকের জন্য পাড়ায় পাড়ায় দু-তিন মাস রিহার্সেল হতো। বিচিত্রা অনুষ্ঠানের জন্য প্রশিক্ষণ হতো। কত সাংস্কৃতিক দল ছিল। আজকাল সেসবের কিছুই নেই। মানুষ যাবে কোথায়? তাই কোনোখানে চিত্তবিনোদনের কিছু পেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

যখন অনেক অভিযোগ আসছিল তখন তাদের অনেককে বলেছিলাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. রাজ্জাক কাদেরিয়া বাহিনীতে ছিল। অমায়িক মৃদুভাষী। রাজনৈতিক উলট-পালটের পরও প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সম্মান করে। এসপিকে নাকি সে-ই নিয়েছিল। তাকেও বলেছিলাম, এক্সিবিউশন বন্ধ করে দিতে। সে নিয়ে এসপির সঙ্গে কথা হয়েছিল।

ভদ্রলোক আমাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন এক্সিবিউশন কর্তৃপক্ষ জোর করে কিছু দেওয়ায় জেলখানার পাশ থেকে পুলিশ লাইনসের লৌহজং নদীর পাড় ভরাট করে পার্ক করেছে। বলেছিলাম, ভালোই করেছেন। যে নদীতে জাহাজ আসত, আমরাই বড় বড় লঞ্চ দেখেছি আপনি সে নদী বেঁধে এসপি পার্ক করেছেন। নদীকে খাল বানিয়েছেন। কয়েক বছর পর দেখবেন দোকানপাট, বাড়িঘরে ভরে গেছে।

এসপি মাহবুব আলম এআইজির প্রমোশন পেয়ে বদলি হয়েছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার অথবা মন্ত্রণালয়ে শক্ত হাত ছিল বলে বদলি ফিরিয়ে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। তাতে হয়তো ২০-২৫ কোটি টাকা লাভবান হয়েছেন। একজন পুলিশ ভর্তিতে ১২ থেকে ২০ লাখ দর উঠেছিল। নেতারাও যে কিছু পাননি তা নয়। তবে এসপি সাহেব যাকে যা দিয়ে ম্যানেজ করার তা করে সিংহভাগ পকেটস্থ করেছেন। এসব প্রমাণের খুব একটা কষ্ট বা বেগ পেতে হবে না।

টেলিফোন ধরে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দুই বছর জেলে রাখা হয়েছিল। মামলা তো রয়েই গেছে। নিয়োগের দিনগুলোতে কোথায় কত মেসেজ এসেছে, কার সঙ্গে এসপি ও অন্য নেতা-এমপিদের কতবার কথা হয়েছে তা দেখলেই সব বেরিয়ে পড়বে। দুর্নীতির জন্য দুদক খালেদা জিয়ার নামে মামলা করতে পারে। কিন্তু এখানে কেন সংস্থাটি অন্ধ হয়ে বসে থাকে।

প্রমোশন নিয়ে বদলি হয়ে যাওয়া মাহবুব আলম একসময়ের এসডিএসের চারাবাড়ীর বিশাল সম্পত্তি কয়েকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ে নেওয়ার সবকিছু পাকাপাকি করেছেন। এসডিএসের কর্তা ইসমাইল হোসেন সিরাজীরা একসময় বিএ পাস করে শহরে রিকশা চালিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। পরে তারাই ১০০ টাকায় বছরে ২০০ টাকার এক ফাঁদ ফেলে প্রায় ৩-৪ হাজার কোটি টাকা একত্র করে জেলে আছেন।

তার সঙ্গে দেনদরবার করে সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। এই হলো পুলিশ প্রশাসন। ১২-১৫ লাখ ঘুষ দিয়ে পুলিশের কনস্টেবল হয়ে ১৫-১৬ হাজার টাকা বেতন পেয়ে কত দিনে সে তার ঘুষের টাকা তুলবে। তাই অমন পুলিশের কাছ থেকে তেমন কী আশা করা যায়। এখনো সময় আছে কঠোর হাতে পদক্ষেপ নিলে ধাবমান এই দুরবস্থা থেকে হয়তো পরিত্রাণ বা মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। বিডি প্রতিদিন

লেখক : রাজনীতিক।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন