মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৪৭:০৪ পিএম

মাহমুদুল্লাহ-থিসারা পেরেরা এখন ‘বন্ধু’!

খেলাধুলা | মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮ | ০৯:৩১:৫৪ পিএম

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল। পর্তুগাল-ইংল্যান্ড মুখোমুখি। বিশ্বকাপের উত্তাপ তো ছিলই, ওই ম্যাচ নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই সতীর্থ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও ওয়েইন রুনির লড়াই নিয়ে। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার আগে রোনালদোর সঙ্গে কথার যুদ্ধ হয়েছিল ইংলিশ ফরোয়ার্ডের। এমনকি রুনি ধাক্কাও মেরেছিলেন পর্তুগিজ উইঙ্গারকে। জাতীয় দলে হওয়া ওই লড়াইয়ের উত্তাপ নাকি অনেকদিন ছিল দুজনের মধ্যে। মুখ দেখাদেখিও নাকি বন্ধ ছিল তাদের।

সেই সময়টা অবশ্য খুব বেশি ছিল না। তা না হলে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানোর আগে আরও তিন বছর রুনির সঙ্গে খেলতে পারতেন না রোনালদো। ফুটবলে ক্লাব সতীর্থদের একে অন্যের সঙ্গে লড়াইয়ের এমন আরও অনেক উদাহরণ আছে। আবার জাতীয় দলের সতীর্থদের ক্লাব ফুটবলে কথার লড়াই কিংবা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ানোর নজিরও আছে। হালের লুই সুয়ারেস ও ডিয়েগো গোদিনের কথাই বলা যেতে পারে। দুজন উরুগুয়ের জার্সিতে পারফর্ম করলেও বার্সেলোনা-অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচে অনেকবার দেখা গেছে কথার লড়াইয়ে জড়াতে।

ফুটবল দিয়েই সতীর্থদের লড়াইটা বেশি দেখা যায় ক্রীড়াঙ্গনে। ক্রিকেটে যে একেবারে নেই, তা নয়। তবে ক্লাব ক্রিকেট এখনও অত উঁচুতে ওঠেনি বলে সতীর্থদের লড়াই সেভাবে জমেনি। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চ দিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব সেটা দেখেছে বারকয়েক। ডোয়াইন ব্রাভো-কিয়েরন পোলার্ড কিংবা হরভজন সিং-শ্রীশান্তের লড়াই ছিল জমজমাট।

মাঠে যেমন তাদের কথার লড়াইয়ে জড়াতে দেখা গেছে, তেমনি পরক্ষণেই আবার জাতীয় দল কিংবা ক্লাবে তারা দলের সাফল্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের সৌন্দর্যটা এখানেই। কালকের শত্রু আজই হয়ে যেতে পারে বন্ধু। মাহমুউল্লাহ ও থিসারা পেরেরা যার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।

গত কয়েকদিনে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় খবর বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ম্যাচের পর বাংলাদেশের ‘ঘোরতর শত্রু’ এখন লঙ্কানরা। শ্রীলঙ্কার বেলাতেও বিষয়টি একই। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে দর্শকদের ভারত-প্রীতিতেই তা স্পষ্ট। তবে এই ‘শত্রুতা’ সম্ভবত সাধারণ দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। খেলোয়াড়দের মধ্যে তার প্রভাব কই? চার দিন আগে যাদের বিপক্ষে হেরে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলা হয়নি, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে হাতাহাতি হওয়ার জোগাড়, সেই দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গেই থিসারা পেরেরা মাঠে নেমেছেন সতীর্থ হয়ে।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মাহমুদউল্লাহ ও পেরেরা- দুজনেরই দল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরস। নিদাহাস ট্রফিতে খেলতে পিএসএল ছেড়েছিলেন তারা, ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষে আবার পিএসএলে যোগ দিয়েছেন দুজন। আর এখানেই ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য। ‘মাঠেই লড়াই শেষ’- খেলোয়াড়রা যে বাণীটি সবসময় দিয়ে থাকেন, সেটার বড় প্রমাণ পাওয়া গেল মাহমুদউল্লাহ-পেরেরার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তোলা হাসি মুখের ছবিতে।

নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ পায় ২ উইকেটের নাটকীয় জয়। মাহমুদউল্লাহর ছক্কাতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় লঙ্কানদের। ওই ছক্কার আগে ও পরে উত্তেজনাকর ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, তার সবটাই উপস্থিত ছিল আর প্রেমাদাসায়। কুশল পেরেরার সঙ্গে নুরুল হাসানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে খেলাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়!

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শুরু হওয়ার প্রথম বলেই ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচ শেষে বিজয় উল্লাসের সঙ্গে চলে নুরুল-কুশলের কথার লড়াই। এক পর্যায়ে পেরেরোর সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়ান নুরুল। মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর আবার পাওয়া যায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের ভাঙা দরজার কাচ। সব ঘটনা মিলিয়ে ফাইনালে ভারত পায় দ্বিগুণ সমর্থন। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেওয়া ও বিতর্কিত পরিস্থিতিতে স্বাগতিকরা মাঠে এসেছিল ভারতকে সমর্থন দিতে।

মুখোমুখি লড়াইয়ে দর্শকদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মধ্যে আবার ফিরে আসবে সেই উত্তেজনা। তবে আপাতত সব বন্ধ। মাহমুদউল্লাহ-পেরেরা এখন পরম বন্ধু। দুজনের লক্ষ্য এখন কোয়েটার জয়। সব বিতর্ক, উত্তাপ, কথার লড়াই এক পাশে ঠেলে দিয়ে যাতে জয় হয় ২২ গজের। কালকের শত্রু আজ পরিণত হয় বন্ধুতে। এটাই ক্রিকেট, এটাই ক্রীড়াঙ্গনের সৌন্দর্য।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন