সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ১২:০৫:০৯ পিএম

মাদক ছেড়ে নতুন পেশায় ‘রাখাইনরা’

জেলার খবর | পটুয়াখালী | শুক্রবার, ২৩ মার্চ ২০১৮ | ০৭:১৯:১৮ পিএম

জন্মগত পেশা মাদক ব্যবসা ছেড়ে কৃষি ও তাঁতের কাজ করছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সাগর পারের আদিবাসী সংখ্যালঘু রাখাইন সম্প্রদায়। আরাকান থেকে বাংলাদেশে আগমনের শুরু থেকেই এদের মূখ্য পেশা ছিল চোলাই মদ ও গাঁজা। এখন তারা মদ ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করে কৃষি ও তাঁতের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পুরুষরা ক্ষেত খামারে কৃষি কাজ ও মাছ, কুচে, কাকরার ব্যবসা করছেন। আর মহিলারা হস্ত চালিত তাঁতে লুঙ্গি চাদর তৈরী করছেন। এতে যে আয় হবে তা দিয়ে তাদের সংসার চালানো সম্ভব হবে বলে জানান দলনেতা চোহামং।

জানাগেছে, ১৭৮৪ সালে শীতের এক রাতে আরাকান থেকে ১৫০ রাখাইন পরিবার বর্মিজদের অত্যাচার থেকে জান মাল রক্ষা করার জন্য ৫০ নৌকায় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে তিনদিন তিনরাত পরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এসে পৌঁছায়। এবং জন মানবহীন গভীর অরণ্য কেটে পরিষ্কার করে বসবাস করেন। কালের বিবর্তনে রাঙ্গাবালী থেকে রাখাইনরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করলেও বর্তমানে উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে- তুলাতলী, কাটাখালী ও উন্নিশ নং পাড়ায়, ৪০/৫০ রাখাইন পরিবার এখনো বসবাস করছে।

পেশা হিসেবে হাতে তৈরী চোলাই মদ ও বাহির থেকে আনা গাঁজা বিক্রি করাই ছিল তাদের অন্যতম ব্যবসা। যুগ যুগ তারা এ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি রাঙ্গাবালী থানায় পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে রাখাইনরা তাদের আদি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা মদ ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করে কৃষি ও তাঁতের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তবে বন্ধের নামে আপাতত স্থগিত রেখেছে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ পোষন করছেন অনেকে। তবে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) মিলন কৃষ্ণ মিত্র বদলি হয়ে অনত্র চলে গেলে রাখাইনরা তাদের ব্যবসা আবার শুরু করতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারনা।

দেশের প্রচলিত নিয়মে উপজাতি হিসেবে রাখাইনরা নিজেদের তৈরী চোলাই মদ পান করতে পারবে। এমন নিয়মকে পুঁজি করে নিজেদের তৈরী চোলাই মদ ও বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে আনা গাঁজাকে বিক্রিও করছিল তারা। স্থানীয় কিছু যুবকরা তাদের সাথে মিলে চোলাই মদ ও গাঁজা বিক্রি শুরু করে।

এমনকি পরে ইয়াবার মত ঘৃন্যতম মাদক ব্যবসায় জরিয়ে পরেন। পুলিশের চলমান অভিযানে ধরা পরছে ওইসব ব্যবসায়ীরা। সোপার্দ হচ্ছে আদালতে। আবার কেউ কেউ সেচ্ছায় আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশের কাছে। স্থানীয়রা জানান, মাদক বিরোধী এ অভিযান অব্যহত থাকলে সগর উপকূলীয় এই রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

রাঙ্গাবালী থানা অফিসার ইনচার্য (ওসি) মিলন কৃষ্ণ মিত্র জানান, মাদক বিরোধী অভিযান চলছে এবং তা অব্যহত থাকবে। রাখাইনরা বর্তমানে কৃষি ও তাঁত শিল্পে নিয়োজিত হয়েছে। এ ভাবে চলতে থাকলে প্রশাসনের দিক থেকে তাদের সব রকমের সহযোগিতা দেয়া হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন