বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৪৩:৩৫ এএম

স্বীকৃতি প্রয়োজন নেই, ইতিহাস আমাদের ধারণ করছে: কল-রেডি

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮ | ১১:০২:০৮ পিএম

ডাক পাঠানো মাত্রই প্রস্তুত। এই ব্যবসায়িক নীতি মাথায় রেখে স্বত্বাধিকারী দয়াল ঘোষ নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছিলেন কল-রেডি। অর্থাৎ কল করলেই রেডি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ভাষণ দিয়েছিলেন তৎকালীন মাইক সার্ভিস কল-রেডিতেই। দেশের অবদানের ক্ষেত্রে যে সকল মহান ব্যক্তিত্বের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে তারা প্রত্যেকেই কল-রেডির কথা স্বীকার করেছেন।

এক কথায় বাংলার ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী ‘কল-রেডি’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সভা-সমাবেশেও কল-রেডির মাইকে বক্তব্য দিয়েছেন নেতারা।


পৈতৃকসূত্রে ‘কল-রেডি’ মাইক সার্ভিসের বর্তমান কর্ণধার দুইভাই সাগর ও বিশু। দুই ভাই’র মধ্যে বিশু বড়, সাগর ছোট।

কথা হয় তাদের দুজনের সঙ্গেই।

তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বায়ান্ন থেকে একাত্তর কল-রেডির ভূমিকা কেবল ব্যবসায়েই ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র অর্জনের পেছনেও নিঃস্বার্থ ভূমিকা পালন করেছে।

তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবছর ৭ মার্চ, ২৬ মার্চ এলেই দেশের সকল মিডিয়া একযোগে কল-রেডির অবদানের কথা তুলে ধরে। দেশের জন্য আমাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেণ। ’

‘দুঃখজনক হলেও সত্য, দিবসের পরদিনই সকলে তা ভুলে যায়। কল-রেডি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করলেও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা কোনো সাড়া পায় না। বরাবর অবহেলিত থেকে যাই। তাই পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা আর কোনো মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলব না। আমরা (কল-রেডি) রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি আশা করতাম। এখন আর আশা করি না।’

বিশু বলেন, ‘স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, ইতিহাস আমাদের ধারণ করছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া কী হতে পারে। এতেই আমরা ধন্য।’

প্রসঙ্গত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ কল-রেডির মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এ ছাড়া কল-রেডি মাইকে বক্তব্য দিয়েছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিদেশের নেতাদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ভারতের ইন্দিরা গান্ধী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি কল-রেডি মাইক্রোফোনে ভাষণ দেন।

তথ্যসূত্র: সারাবাংলা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন