শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৫২:৩২ পিএম

বেআইনিভাবেই চলছে সব কোচিং সেন্টার: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় | বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮ | ০২:৪৫:৫৫ পিএম

দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বেআইনি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমরা হয়তো আইন প্রয়োগ করে নিজেরা বন্ধ করতে পারি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (কোচিং সেন্টার) বন্ধ করে। কোনো ধরনের কোচিং সেন্টারই আইনগত অ্যালাউড না।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে রেখে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পরীক্ষা শেষ না হওয়া সারা দেশে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে।

কোচিং সেন্টার বন্ধ করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাই কোর্টের রায় আছে কোচিং সেন্টার, গাইড বই, নোট বই- এগুলো বেআইনি। কিন্তু তার পরেও আমাদের দেশে অনেক অপরাধ হচ্ছে, বেআইনি কাজ হচ্ছে। ইচ্ছে করলেই সব বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নাহিদ বলেন, আমাদের হাতে আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা বা শক্তি নাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট আছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে।

এবারের এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সমাপনী পরীক্ষায় এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে; যা গতবারের চেয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন বেশি।

‘আগের অভিজ্ঞতা’ কাজে লাগিয়ে এবার ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ায় এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস হবে না বলেই আশা করছেন শিক্ষামন্ত্রী।

কিছু সঙ্কট আমরা মোকোবেলা করছি। আগের থেকে আরও বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছি, অনেক বেশি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, অনেক বেশি পদ্ধতি আমরা অ্যাপ্লাই করছি। এবং অনেক বেশি কৌশল অবলম্বন করছি। সেদিক থেকে আমরা আশা করতে পারি…।

গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবার এসএসসিতে প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার দিন সকালে ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে এইচএসসিতে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া এসএসসির মত এইচএসসিতেও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষার হলে বসতে হবে।

পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস বহনে নিষেধাজ্ঞাও আগের মতই বহাল থাকছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ৫২টি মামলায় ১৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মন্ত্রী।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন