সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০৭:৫২:৩৫ এএম

ভোটের হাওয়ায় সরগরম দুই সিটি

জাতীয় | বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮ | ০৪:১৬:৪৮ পিএম

গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী ৩১ মার্চ। এর আগেই ভোটের হাওয়ায় সরগরম হয়ে ওঠেছে দুই সিটি। উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই  রাজনৈতিক  দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও চলছে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। দুই সিটিতেই উভয় দলের রয়েছে একাধিক প্রার্থী। যার ফলে  মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি কোনো দলই। প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকলেও নেতাকর্মীদের নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ  উদ্দীপনার কমতি নেই।

গাজীপুর
গাজীপুর সিটির মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ।আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও রয়েছেন- গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সিটির প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মো. কামরুল আহসান সরকার রাসেল। বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা হাসানউদ্দিন সরকারের নাম।

এরই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন প্রচার। সিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এরই মধ্যে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা। একেকজন কাউন্সিলর প্রার্থী তার পছন্দের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। চলছে জেলা ও মহানগর কমিটির সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা। গাজীপুরে বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান আছে। তবে গত নির্বাচনে এখানে মেয়র পেয়েছে বিএনপি। জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবারও বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের পছন্দ।

মামলায় জর্জরিত বর্তমান মেয়র বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এমএ মান্নান আবারও মেয়র পদে প্রার্থিতা হওয়ার ব্যাপারে অনেক ভেবেচিন্তে এগোবেন বলে জানাচ্ছেন তার সমর্থকরা। দীর্ঘদিন কারাবাস, ত্রিশ মামলায় আসামি হওয়াসহ নানা কারণে দলে আগের চেয়ে অনেক শক্ত অবস্থানে রয়েছে বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান। নির্বাচিত হওয়ার পর গত চার বছরের প্রায় দুই বছর মেয়র মান্নানকে থাকতে হয়েছে কারাগারে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, চাঁদাবাজি, নাশকতায় অর্থ জোগান ও উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টি মামলা করা হয়েছে। কয়েকটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনবার সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অবশ্য তিনবারই সাময়িক বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি মেয়রের চেয়ারে বসেন। তার সমর্থক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে কারাভোগের কারণে মেয়র মান্নান তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সেক্ষেত্রে ভোটের মাঠে তিনি জনগণের সহানুভূতি পাবেন।

গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আসছে। এখানে আমাকে মনোনয়ন দেবে কি দেবে না সেটি নির্ধারণ করবে আমার দল বিএনপি। যদি দলীয় সিদ্ধান্ত হয় আমাকে নির্বাচন করার জন্য, তবে আমি নির্বাচন করব। নানা কারণে গত নির্বাচনের অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জয়ী হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে জনগণের সেবা করব। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। তাই নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা ও নানা রকম সন্দেহ রয়েছে।

সিটি নির্বাচনে এবার মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করবেন সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা হাসানউদ্দিন সরকার। নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে তার কিছুটা প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। এরই মধ্যে হাসানউদ্দিন সরকার বিভিন্ন আলোচনাসভায় বৃহত্তম এই সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করে দুটি সিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।

সাবেক এমপি হাসানউদ্দিন সরকার জানান, রাজনীতি করি জনগণের সেবা করতে। আর এই সেবার জন্য সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে কাজ করে যাচ্ছি। দল মনোনয়ন দিলে জয় আমাদের নিশ্চিত।

এ ছাড়া বর্তমান মেয়র এমএ মান্নান কোনো কারণে নির্বাচনে প্রার্থী না হলে আরও কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।

মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খানের সমর্থকরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং টঙ্গী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। দলে তার অবস্থান ও ত্যাগ-তিতিক্ষা, দুঃসময়ে দলকে সুসংহত করা, অভিজ্ঞতা, দলীয় সিদ্ধান্তে দলের প্রতি অনুগত ছিলেন। টঙ্গী পৌরসভায় বারবার নির্বাচিত মেয়র আজমতউল্লাহ খানকেই এবারও মূল্যায়ন করা হবে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে। গত নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি হেরে গেলেও দলকে আরও সুসংহত করতে নির্বাচনের পর সব সময়ই রাজনীতির মাঠে ছিলেন শক্ত অবস্থান নিয়ে।

দলীয় সূত্র মতে, গাজীপুরে আজমতউল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম দুজনই আওয়ামী লীগের সম্ভাবনাময় মেয়র প্রার্থী। এদের একজন দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে কে পাবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। সব কিছু নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর।এ বিষয়ে আজমতউল্লাহ খান সাংবাদিকদের জানান, এত বড় সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মেয়রের প্রয়োজন। এসব চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই মনোনয়ন দেবেন।

গত নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও দলের স্বার্থে ও দলের শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এবার মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পাবেন এমন আশা নিয়েই কয়েক মাস আগ থেকে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে কাজ শুরু করেছেন জাহাঙ্গীর। তিনি নগরে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক নিজস্ব বলয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। শহরের যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নে তারই ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় দুই শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সহকারী মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছেন। তাদের বেতনভাতা তিনি এককভাবে পরিশোধ করছেন। এ ছাড়া নিজ নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করে মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাজীপুর একটি বৃহৎ সিটি করপোরেশন। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, যারা এখানে নির্বাচিত হয়েছেন, তারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। এখানে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে হয়নি। গত নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কথায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষ হয়ে কাজ করেছি। এবার জনগণ তরুণ নেতৃত্ব আশা করছে। আমি জনগণ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এতে দলমত নির্বিশেষে সাড়া পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে নির্দেশ দেন এবং দল যদি চায় তবে এখানে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

আসাদুর রহমান কিরণও আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মেয়র পদে জয়ী হয়ে নগরবাসীর সেবা করতে চান বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ জানান, তিনি আর কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান না। দলীয় মনোনয়ন পেলে এবার মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান। মহাজোটের শরিক মহানগর জাসদ নেতা রাশেদুল হাসান রানাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান মর্মে তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে তোরণ স্থাপন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে অলিগলিতে। আরেক মেয়র প্রার্থী গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান সরকার রাসেল জানান, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে এবং যুবলীগের কর্মী হিসেবে আমি জনগণের সেবা করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমি কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে আমি আশাবাদী, এখানে হারানো ঐতিহ্য আমরা ফিরে পাব।

নির্বাচনী প্রচারে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও রয়েছেন মাঠে। এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নূরুল ইসলাম নূরু জানান, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর হয়েছি। এবারও দলের সমর্থন চাই। তবে মেয়র পদে নমিনেশনে ভুল হলে নির্বাচনী ফল ঘরে না আসার সম্ভাবনা বেশি। আর এর প্রভাব পড়বে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় এলাকায়।

সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনের পর ২২ মাস কারাগারে ছিলেন নির্বাচিত মেয়র। মেয়র চেয়ারে বসতে পারেননি ২৮ মাস। আরও বেশ কয়েক মাস কেটেছে সাময়িক বরখাস্তের পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র আর নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে টানাটানিসহ নানা কারণে। মেয়র এমএ মান্নান কারাগারে ও সাময়িক বরখাস্ত থাকার সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করলেও নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় নাজেহাল নবগঠিত এ নগরবাসী। মেয়র বলছেন, নির্বাচনে জেতার পর পরিকল্পনাসহ মেয়রের দায়িত্ব তিনি শান্তিতে পালন করতে পারেননি এক বছরও। তাই তার আশানুরূপ উন্নয়নের কাছেও যেতে পারেননি। পরিকল্পিত নগর হিসেবে গাজীপুরকে দেখার আগ্রহ ছিল নগরবাসীর। নির্বাচনের চার বছর পূর্ণ হলেও নগরের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৩০ লাখ লোকের প্রত্যাশা পূরণের জায়গা একেবারেই ফাঁকা।

খুলনা 

আগামী ৩১ মার্চ খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা এই নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং-গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন। আর বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিলেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় আছেন। জাতীয় পার্টি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

২০১৩ সালের ১৫ জুন কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি (আনারস প্রতীক) এক লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি পেয়েছিলেন এক লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। জাতীয় পার্টি সমর্থিত শফিকুল ইসলাম মধু (দোয়াত-কলম প্রতীক) জামানত হারিয়েছিলেন। তখন  খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে তিন জন, সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনে ৪৫ জন ও ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজেদের দুর্গ হিসেবে খ্যাত কেসিসিতে এখন বিএনপি অনেকটাই অগোছালো। ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরসহ প্রায় সব অঙ্গসংগঠনে রয়েছে বিরোধ। রাজনৈতিক মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতে রিট করে এক বছর ১৯ দিন পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান তিনি। কিন্তু ক্ষমতা ফিরে পেলেও রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপে বিভিন্ন প্রকল্প দাখিল করলেও মন্ত্রণালয় একটিও অনুমোদন করেনি। ফলে নির্বাচনি ইশতিহারে প্রতিশ্রুত ২১ দফা বাস্তবায়নে সফল হননি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি।

কেসিসি নির্বাচনের পরের বছর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবারও তিনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তালুকদার আব্দুল খালেক ছাড়াও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সরদার আনিসুর রহমান পপলু ও দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী।

খুলনা জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী মুশফিকুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউসে কেক কেটে নির্বাচনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মুশফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী খুলনা মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল মহানগরীর বাবরী চত্বরে সমাবেশ থেকে মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘গত নির্বাচনে ৬২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। গত নির্বাচনে ৪১ কাউন্সিলরের মধ্যে বিএনপি পায় ২৪টি। বিজয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপির পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু এবার ষড়যন্ত্র করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচরি বৈতরণী পার করতে চায় এ অবৈধ সরকার, যা খুলনা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।’

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি বলেন, ‘আমি নৌকার পক্ষের সৈনিক। নৌকার পক্ষেই আমার কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনে যার হাতে নৌকা তুলে দেবেন, আমি তার পক্ষেই অবস্থান নেবো।’

খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কেসিসির মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন পেতে আবেদন জানানো হবে। সভাপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মাথায় নিয়ে নৌকার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবো।’

খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সরদার আনিসুর রহমান পপলু বলেন, ‘মেয়র নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।’

প্রসঙ্গত: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর এবং খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে।-পূর্বপশ্চিমবিডি।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন