রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ ০৭:০২:২৩ এএম

প্রেম করে বিয়ে : দিনমজুরের পুত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

জেলার খবর | রংপুর | বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮ | ০৫:৩৩:৫৮ পিএম

প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে রংপুরের তারাগঞ্জে এক দিনমজুরের পুত্রকে গাছে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে প্রভাবশালী মেয়ের পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানেও প্রভাব খাটাচ্ছে মেয়ের পরিবার। ফলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতনের শিকার যুবকের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের সর্দারপাড়ার দিনমজুর আনছার আলীর পুত্র নুরন্নবীর (১৮) সঙ্গে একই এলাকার ধনাঢ্য জয়নাল আবেদীনের কন্যা জোহরা খাতুনের (১৬) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে না নেয়ায় জোহরা খাতুন নুরনবীর সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে রংপুর মহানগরীর গনেশপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

কৌশলে জোহরার পরিবার বিয়ে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ১৫ মার্চ উভয়কে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর জোহরার পিতা জয়নাল আবেদীন, মামা খায়রুল ইসলাম, খরু দেওয়ানী, রঞ্জুশাহ, হালিম মিয়া, আব্দুল হামিদ মিয়া, আউয়াল শাহ, বিপুল শাহ সবাই মিলে নুরনবীকে গাছের সাথে বেঁধে অমানুষিকভাবে নির্যাতন চালায়। এসময় তারা নুরনবীর গোপনাঙ্গেও লাঠি ও ইট দিয়ে পিটান এবং গলা রশি পেচিয়ে রাখে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরনবীর পিতা আনছার আলী তাকে উদ্ধার করে প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিন্তু প্রভাবশালী জোহরার পরিবার হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে দেয়নি নুরনবীকে। তাদের ভয়ে নুরনবীকে নগরীর পাঠানপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নুরন্নবীর পিতা আনছার আলী জানান, ছেলের প্রেমের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। তারা ছোট মানুষ ভুল করতে পারে। তাই বলে মেরে ফেলার মতো কোনো কাজ করা যাবে না। বর্তমান ছেলের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছেলে মারধর করছে। আমাকে হাসপাতালেও থাকতে দেয় নি। তারা আমাকে চাপের মুখে রেখেছে। যেনো বিষয়টি আমি কাউকে না বলি। বললে মেরে ফেলবে। সেকারণে আমি এজহার লিখেছি, কিন্তু থানায় দেয়ার সাহস পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বাবলু মিয়া জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
তারাগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত ফরিদ আহমেদ জানান, বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে কোনো এজহার এখনো পাইনি।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন