শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ০৪:৪৭:০৩ এএম

শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে আরও ১০ জনের মৃত্যু

জাতীয় | রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮ | ০৩:৫৭:৩৬ পিএম


ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে আরও ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাবনার সুজানগরে বজ্রপাতে নিহত একই পরিবারের তিন কৃষকের লাশ গতকাল শনিবার ফসলের মাঠ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শেরপুরের নকলা, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও বরগুনার আমতলীতে বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও তিনজন। এদিকে আহত সিলেটের যুবলীগ নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন। এ ছাড়া সিলেটের এক ব্যবসায়ী ও মাগুরায় আরও দু'জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত দু'দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে। শুক্রবার মারা গেছেন ৮ জন। সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ক্ষতচিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন জনপদে। ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে একাকার। ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টিতে শত শত টিনের ঘর ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। ফসলের ক্ষতি অবর্ণনীয়। সহায়-সম্বল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ব্যুরো, আঞ্চলিক অফিস, জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো আরও খবর : সিলেট :কালবৈশাখীর কবলে পড়ে সিলেট নগরীর আহত যুবলীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মুসা গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। মোটরসাইকেলে করে নগরীর কাজীরবাজার সেতু পার হওয়ার সময় ঝড়ে একটি চটপটির গাড়ি উড়ে এসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের হাটখোলায় ঝড়ের কবলে পড়ে সোহেল আহমদ নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। তিনি স্থানীয় পুরান কালারুকা গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং নগরীতে পানি সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ায় নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বরিশাল :বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে জেলার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা। গতকাল পর্যন্ত হিজলা, মুলাদী, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা বিদ্যুৎহীন রয়েছে। এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাসুদুর রহমান জানান, বরিশাল নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।

পাবনা :শুক্রবার সন্ধ্যায় সুজানগর উপজেলার গাজনার বিলে পেঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বিক্রমাদিত্য গ্রামের মুক্তার শেখের ছেলে দুলাল হোসেন (৪০), আবদুল আজিজ মোল্লার ছেলে আবদুল আলিম (৩২) ও মোতাহার আলীর ছেলে লইম উদ্দিন (৫০)। নিহত পরিবারের লোকজন জানান, শুক্রবার সকালে জমিতে পেঁয়াজ তুলতে যান ওই তিন কৃষক। রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। গতকাল সকালে ওই মাঠে পেঁয়াজ তুলতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে শুক্রবারের ঝড়ে উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প, চর-চিনাখড়াসহ একাধিক ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

মাগুরা :শুক্রবারের ঝড়ে মহম্মদপুর উপজেলার রাজপাট গ্রামে রোহান নামে পাঁচ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে সদর উপজেলার ডহরসিংড়া গ্রামের আকরাম হোসেন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়া গাছের ডালচাপায় আহত শহরতলির মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা আলী মোল্লা গতকাল সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে মাগুরায় ঝড়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।

শুক্রবার বিকেলে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সদর উপজেলার মঘি, জগদল, শুক্রজিৎপুর, মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর, পলাশবাড়িয়া ও রাজাপুর ইউনিয়নের বোরো ধান, ভুট্টা, পেঁপে, কলা, পেঁয়াজ, আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শেরপুর :নকলা উপজেলার কুর্শাবিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আসমত আলী (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি কলাপাড়া গ্রামের মোজাকান্দা এলাকার আবেদ আলীর ছেলে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আসমত আলী প্রতিদিনের মতো ভোরে কুর্শাবিলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যান। সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় আসমত আলীর নৌকায় প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মী জেলেরা তাকে উদ্ধার করে বিলের পাড়ে নিয়ে এলে সেখানেই তিনি মারা যান।

আমতলী (বরগুনা) :গতকাল বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে উপজেলার সকিনা বাজারে আসছিলেন মো. সজল (২৮)। হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত সজল উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামের মো. সুলতানের ছেলে।

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) :উপজেলার বয়রাকান্দিতে বজ্রপাতে মোজাফফর রহমান প্রামাণিক (৫০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে কুতুবপুর ইউনিয়নের বয়রাকান্দি এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও :শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই শিলাবৃষ্টি হয়। এতে তরমুজ, আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফসল ও ফলের ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার শিবগঞ্জের বিশ্বাসপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যতগুলো ফল এসেছিল সবই নষ্ট হয়ে যাবে।

সীমান্ত অঞ্চল :শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার গোজাকুড়া ও কাউয়াকুড়ি গ্রামের কৃষকদের বাড়িঘর, বোরো আবাদ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, মাথায় শিলার আঘাত নিয়ে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহত বেলাল হোসেনের ছেলে মকবুল হোসেন জানান, তিনি এর আগে এত বড় শিলা দেখেননি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিটি শিলার ওজন ৫ থেকে ৬০০ গ্রাম হবে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) :উপজেলায় দুই দফা কালবৈশাখীর কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার কালারুকা, ছাতক সদর, নোয়ারাই, ইসলামপুর, চরমহলা, ভাতগাঁও, খুরমা দক্ষিণসহ ইউনিয়নের কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের চাল উড়ে গেছে।

রাউজান (চট্টগ্রাম) :উপজেলার সোনাইরহাট এলাকায় জগৎ ধর সড়কের পাশে শত বছরের পুরনো বটগাছটি ঝড়ে ভেঙে একটি দোকানের ওপর পড়ে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পায় দোকানের টুলে বসে থাকে ৫-৬ জন। সোনাইরহাট এলাকার বিকাশ স্টোরের মালিক তাপশ বড়ূয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর প্রচণ্ড তাণ্ডব শুরু হয়। হঠাৎ বটগাছটি ভেঙে দোকানের চালার ওপর পড়ে। বটগাছটির ছায়ায় বসে এলাকার লোকজন আড্ডা দিত।

খুশি রাজশাহীর আমচাষিরা :রাজশাহী ব্যুরো জানায়, চৈত্র মাসের খরায় পুড়ছিল গাছপালা। অবশেষে একপশলা বৃষ্টি এনে দিয়েছে স্বস্তি। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা। ফলে তারা বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক খুশি। পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি সিরাজুল ইসলাম জানান, হালকা বাতাসের পর ভোরে বেশ ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এতে তার বাগানের ৪০০ আমগাছে আর সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। একই সঙ্গে আম ঝরে যাওয়া কমবে বলেও জানান তিনি। আরেক চাষি মহিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় আফসোস হচ্ছিল আরেকটু কেন হলো না। তবে গতকাল ভোরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বেশ আনন্দ লাগছে।খবর সমকালের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন