রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ ০৯:৫৯:০০ এএম

লিপস্টিক লাগালে ধর্ষিত হতে হবে!

আন্তর্জাতিক | রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১৮ | ০৪:৩৪:৪৯ পিএম

ভারতের একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার মন্তব্য নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে৷ ক্লাসে শিক্ষিকা বলেছেন, খোলামেলা পোশাক পরলে কিংবা লিপস্টিক লাগালে ধর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়৷

‘লিপস্টিক লাগানো যাবে না৷ পরা যাবে না ‘স্কিন টাইট' পোশাক কিংবা ডেনিম৷ এ সব পরলে নির্ভয়ার মতো অবস্থা হতে পারে৷’ মন্তব্যকারী স্কুলের জীববিজ্ঞান শিক্ষিকা৷

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়পুরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে৷ ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, স্নেহলতা শঙ্খওয়ার নামে ওই শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকে আচমকাই ‘নির্ভয়া'-র প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন৷

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে একটি বাসে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করা হয় এক যুবতীকে৷ পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়৷ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নামে নাগরিক সমাজ৷ নাগরিক সমাজের তরফ থেকেই যুবতীর নাম দেওয়া হয় ‘নির্ভয়া'৷

কিন্তু ঘটনার এত বছর পর রায়পুরের ওই শিক্ষিকা কেন হঠাৎ নির্ভয়ার প্রসঙ্গ তুললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র-ছাত্রীরাই৷

তাদের অভিযোগ, শিক্ষিকা ক্লাসে ঢুকে আচমকাই বলতে শুরু করেন, নির্ভয়ার ঘটনায় আসলে দোষ ছিল মেয়েটিরই৷ অত রাতে এক যুবকের সঙ্গে কেন বেরিয়েছিল সে? তার পোশাক নিশ্চয়ই ‘সঠিক' ছিল না৷ সে কারণেই তার দিকে আকৃষ্ট হয় ধর্ষণকারীরা৷

মূলত ধর্ষণের জন্য এরপর মেয়েদেরকেই দায়ী করেন ওই শিক্ষিকা৷ ক্লাসে ছাত্রদের উপস্থিতিতেই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘শালীন পোশাক না পরলে, কিংবা লিপস্টিক লাগালে পুরুষেরা মেয়েদের ভোগ করতে চাইবেই৷ কারণ, খোলামেলা পোশাক পরা মেয়েদের চরিত্র সকলেই বুঝতে পারে৷ পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই তারা ওই ধরনের পোশাক পরে৷’

একাদশ শ্রেণির ক’জন ছাত্র ওই শিক্ষিকার সম্পূর্ণ বক্তব্য গোপনে রেকর্ড করে৷ এরপর বাড়িতে গিয়ে সেই রেকর্ডিং শোনালে অভিভাবকেরা স্কুলের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন৷ অধ্যক্ষ অভিযোগের কথা মেনে নিয়েছেন৷ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে৷

কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র৷ একজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কি মেয়েদের সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে? গের কয়েক বছরে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা বার বার মেয়েদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন৷

বিজেপি নেতা সাক্ষী মহারাজ থেকে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত, খাপ পঞ্চায়েত থেকে গ্রামের মোরল, মেয়েদের সম্পর্কে একের পর এক তীর্যক মন্তব্য করা হয়েছে৷ তাদের মন্তব্য খবরের শিরোনাম হয়েছে৷ সাময়িক আলোড়ন হয়েছে৷ তারপর সবকিছু ধামাচাপা পড়ে গেছে৷

মনোবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানের বক্তব্য, এমন মন্তব্য চলতেই থাকবে৷ কারণ, আমাদের সমাজ এখনো বহু যুগ পিছনে পড়ে আছে৷ সামাজিক বদল না ঘটলে এই সমস্যার সমাধান হবে না৷ তবে একই সঙ্গে তাদের আক্ষেপ, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের মতো নাম করা স্কুলেও শিক্ষকদের মানসিকতা এমন হলে সাধারণ গ্রামীণ স্কুলগুলোর অবস্থা কী?

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন