মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৩১:৩৯ পিএম

নিখোঁজ আইনজীবীকে উদ্ধারের দাবিতে উত্তাল রংপুর

জেলার খবর | সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮ | ০১:৫৮:৫৫ এএম

দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি আওয়ামী লীগ নেতা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো ক্লু বের করতে পারেনি।

পুলিশ প্রশাসন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুরে স্টেশন বাবুপাড়াস্থ রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার বাড়িতে যান রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার
গোলাম ফারুক।

তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাড়ি থেকে কাজে বের হন। সারাদিন তার খোঁজ না মেলায় শুক্রবার রাতে তার পরিবার থানায় বিষয়টি জানায়। তখন আমরা জানতে পারলাম তিনি সকালে বের হয়ে আর ফেরেননি।

তারপর থেকে পরিবারের লোকজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই খোঁজ করছে। তিনি নিখোঁজ হলেন, না অপহরণ হলেন তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা তদন্তটা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে দেখছি। উনি যেহেতু সম্মানিত নাগরিক, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে পেশাগত জীবনে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করেন এবং সবগুলো দায়িত্বই উনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই এই সবগুলো বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিখোঁজের রহস্য খুঁজছি।

তিনি কি কারণে নিখোঁজ হয়েছেন এর পেছনে কারো হাত আছে কি-না তা তদন্তসহ পুলিশ বাহিনী সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে। অধিকতর তদন্তের জন্য আমরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখান থেকে তথ্য পেয়েছি যা আমাদের তদন্ত করতে সহায়তা করবে। জঙ্গি না অজঙ্গি এ ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। উনি যেহেতু দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজার খাদেম রহমত আলী মামলায় সরকার পক্ষে থেকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

তাই এই কথাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি, আবার শুধু সেই বিষয় নিয়েই আমরা তদন্ত করছি না। আপনারা জানেন জঙ্গিদের কাজের একটি ধরন আছে, সেই ধরনের সঙ্গে এ ঘটনার একটু ভিন্নতা আছে। জঙ্গিরা সাধারণ তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যায় কিন্তু উনি হলেন নিখোঁজ। আমরা দু’একজনকে সন্দেহ করেছি, তদন্তের স্বার্থে তা গণমাধ্যমে বলছি না। তথ্য প্রমাণ হাতে আসার পরই বিষয়টি জানানো হবে।

ঘটনাটি নিয়ে র‌্যাব, পিবিআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত উদ্ঘাটনসহ তাকে উদ্ধার করতে আমাদের একটু সময় লাগবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। আমরা ফুটেজগুলো নিয়ে চেক করে দেখছি। এদিকে নিখোঁজ অ্যাড. রথিশের পরিবারের সদস্যদের থামছে না কান্না। তারা স্তব্ধ-নির্বাক। স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজনরা প্রহর গুনছেন কখন সংবাদ আসবে খুঁজে পাবার।

পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রেজাউল করিম রাজু, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাড়িতে যান।

ওদিকে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজার খাদেম রহতম আলী হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর। গতকাল বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সমাবেশ, কর্মবিরতি ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে রংপুরের বিভিন্ন সংগঠন।

রথিশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ হওয়ার প্রতিবাদে আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সকল আইনজীবীরা কোর্ট বর্জন করে মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করেছে আদালতপাড়ায়। কাছারি বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী আব্দুল মালেক, জাহাঙ্গীর আলম তুহিন, রেজাউল করিম রাজুসহ অন্যরা।

সমাবেশে অবিলম্বে রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে উদ্ধারে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। এছাড়া সকালে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আফজাল, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হাক্কানি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, ক্ষত্রিয় সমিতির নৃপেন চন্দ্র, হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের স্বপ্না বিশ্বাস, বনমালি পাল প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অ্যাড. রথিশ চন্দ্র ভৌমিক দেশের চাঞ্চল্যকর দুটি মামলা জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজার খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলা পরিচালনা করেছেন।

ওই মামলায় অনেক জঙ্গির ফাঁসির রায়ও দিয়েছে আদালত। রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে কয়েক দফা প্রাণনাশের হুমকি এসেছে। তবু তিনি মামলা পরিচালনা করতে পিছুপা হননি। দেশকে অস্থিতিশীল করতে যে অপশক্তি দেশে মাথাচাড়া হয়ে উঠেছিল তারাই রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে গুম করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।

পুলিশ প্রশাসন যদি চেষ্টা করে তবে অবশ্যই তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। সমাবেশে বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে খুঁজে বের করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় তারা।

এ সময় টাউন হলের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সেখানে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাখাওয়াত রাঙ্গা, সাবেক সভাপতি কাজী মো. জুন্নুন, ডা. মফিজুল ইসলাম মন্টুসহ অন্যরা। এমজমিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন