সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০২:১৭:৩৯ এএম

বৃদ্ধা মায়ের গল্প নিয়ে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের খেলা!

খোলা কলাম | সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮ | ০৫:১৫:০৮ পিএম

একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও থেকে সংগৃহীত বৃদ্ধা মায়ের এই ছবিটি।

কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পরে। ‘বৃদ্ধা মাকে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছেন বিসিএস কর্মকর্তা।’ ঘটনাটি প্রথমে একজন তার ফেসবুকে লিখে শেয়ার করেন। মানুষ সেই খবর সত্য কি মিথ্যা যাচাই না করেই শেয়ার করে ভাইরাল করে তোলে। আরও অবাক করার বিষয় হলো, কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাও তাদের অনলাইন সংস্করণে সেই ব্যাপারটি নিউজ করে ছড়িয়ে দিয়েছে।

কাহিনির সত্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। যিনি এটা লিখেছেন তিনি বলেছেন ঘটনাটি গতমাসের হলেও তিনি ২৯ মার্চে লিখেছেন। কারণ তাকে নাকি এই ঘটনা পীড়া দিচ্ছে। এখানে প্রশ্ন থেকেই যায়, তাহলে তিনি তাৎক্ষণিক সে ব্যাপারে না লিখে এতদিন পর কেন লিখলেন? একজন বিসিএস ক্যাডার যার স্ত্রীও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তারা চাইলে তাদের মাকে বৃদ্ধাশ্রমেও দিতে পারতেন। তারা সেটা না করে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে যাবে এটা মানতে অবশ্যই কষ্ট হবে সচেতন মহলের। তাই ঘটনার সত্যতা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে।

তিনি আরও লিখেছেন তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি চাইলেই ওই বিসিএস কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি মায়ের কথামতো। এখন কথা হলো তাহলে মাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অপরাধে কেন তিনি আইনি ব্যবস্থা নিলেন না? উনি নিজেও কি তাহলে ঠিক কাজ করেছে? উনি আরও লিখেছেন পরবর্তী সময়ে উনি ঐ বৃদ্ধা মাকে একটি বৃদ্ধাশ্রমে রেখেছিলেন। এরপর ওই বৃদ্ধা মা মারা যান।

ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে উনি ঐ মায়ের ছেলের হাতে লেখা একটি চিঠিও প্রকাশ করেছেন। সেই চিঠি পড়লে বোঝা যায়, চিঠিতে কিছু ভুল রয়েছে। অনেকেই বলছে ফেসবুকে জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই এই ঘটনাটি লিখে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টা মা নিয়ে তাই এটা দ্রুত ছড়িয়েও পরে।

এই ঘটনার সঙ্গে যে বৃদ্ধা মায়ের ছবিটি সংযুক্ত করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সেটা মূলত ভারতের একটা বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ২০১৫ সালের একজন মায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিওর ছবি। কেউ কেউ বলছেন এটা প্রতীকী ছবি। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই কেন একই প্রতীকী ছবি ব্যবহার করলো? আসলে আমরা যেটা আগে একবার পড়ে ফেলি পরবর্তী সময়ে তা মিথ্যা প্রমাণ করা গেলেও মেনে নিতে পারি না।

এই ঘটনাকে কেউ সত্য বলছে আবার কেউ মিথ্যা বলছে। এই বিশ্বাস-অবিশ্বাস এর অবসান ঘটনোর একমাত্র দায়িত্ব ঐ ব্যক্তির যিনি প্রথমে ঘটনাটি শেয়ার করেছে। তবেই অবসান ঘটবে এই লাইক,কমেন্ট, শেয়ার শেয়ার খেলার। জয় হোক সত্যের।

উৎস: প্রিয়.ডটকম।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন