শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ০৪:৫২:২২ এএম

রামপুরায় ভুয়া চিকিৎসক আটক

নগর জীবন | সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:৫৫:৫৩ পিএম

পড়ালেখা মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। পাস করেছেন এইচএসসি। এতেই তিনি ডিগ্রিধারী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। টানা ছয় বছর একজন শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কয়েক হাজার রোগীও দেখেছেন তিনি।

এতদিন বিষয়টি ধরতে পারেনি কেউই। তবে সম্প্রতি র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধরা পড়েছেন ওই ভুয়া চিকিৎসক। ওয়ালী উর রেজা (৩৩) নামের ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

র‍্যাব জানায়, ১ এপ্রিল, রবিবার রাতে রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার যশোর মেডিসিন কর্ণারে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ দল। সে সময় তার ব্যবহৃত প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ও ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে রামপুরার ওই এলাকার লোকজন জড়ো হতে থাকেন এবং বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হন। অভিযানের পরই বেরিয়ে আসে ওই ভুয়া চিকিৎসক ওয়ালির উর রহমানের আসল পরিচয়। র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি একজন ভুয়া চিকিৎসক এবং দীর্ঘদিন ধরে একজন ডিগ্রিধারী চিকিৎসক সেজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। আর এই ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে তিনি প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা উপার্জন করেছেন।

এই ভুয়া চিকিৎসক র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, ২০০০ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। এরপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। ২০১১ সালের শেষের দিকে তার মাথায় একটি বুদ্ধি আসে বাড়তি আয়ে দ্রুত ধনী হওয়ার। সেই থেকেই তিনি শুরু করেন কাজ।

চিকিৎসক সাজার জন্য ঢাকার কোনো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি চিকিৎসার ওপর লেখা বিভিন্ন বইপত্র পড়ে একজন শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বনে যান। এর পর তার পরিচয় হয় তিনি একজন এফসিপিএস ও ডিগ্রিধারী চিকিৎসক।

তিনি রাজধানীর রামপুরার ১২৪ ওয়াপদা রোডের একটি ফার্মেসিতে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখা শুরু করেন। প্রতিদিন শতাধিক রোগী দেখতেন।

ভুয়া চিকিৎসক ওয়ালীর রেজা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হাতিয়া আব্দেলপুর গ্রামের মৃত রিয়াজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পূর্ব রামপুরা এলাকায় থাকতেন। আর ওই এলাকার যশোর মেডিসিন কর্নার নামের একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখতেন।

র‌্যাব জানায়, রেজা তার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্যাডে এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), শিশু বিশেষজ্ঞ লিখতেন। এছাড়াও মেডিসিন বিষয়ে ডিগ্রির জন্য এফসিপিএস (শেষ পর্ব) পড়াশোনাও করছেন। অবশ্য কোন মেডিকেল কলেজে তিনি পড়াশোনা করছেন, তা উল্লেখ করতেন না। পূর্ব রামপুরা এলাকার লোকজন তাকে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক হিসেবে চিনতেন এবং জানতেন তিনি মহাখালীতে একটি হাসপাতালের চিকিৎসক।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘অভিযানের সময় তার কাছে আমরা বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অন্য একজনের নম্বর দিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজেই সব স্বীকার করেন। তার চাহনী ও আচার-ব্যবহার দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, তিনি একজন ভুয়া চিকিৎসক।’

‘রাজধানীর দুটি হাসপাতালে তিনি প্রেসক্রিপশন লিখে টেস্টের জন্য পাঠাতেন এবং সেখান থেকে তিনি কমিশনও পেতেন। দীর্ঘ ছয় বছর তিনি এই পেশায় যুক্ত আছেন বলে স্বীকার করেছেন। তার প্রতি মাসে আয় হতো আড়াই থেকে ‍তিন লাখ টাকা। ঢাকার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার একটি ক্লিনিকেও তিনি চিকিৎসক হিসেবে বসতেন’, যোগ করেন তিনি।

এলাকাবাসীর বরাতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ দল জানায়, যে ফার্মেসিতে রেজা বসতেন, ওই ফার্মেসির মালিকও বিষয়টি জানতেন না। কোনো একটি ফার্মেসিতে রেজার সঙ্গে ফার্মেসির মালিকের পরিচয় হয়। এরপর তিনি রেজাকে তার ফার্মেসিতে বসার প্রস্তাব দিলে রেজা রাজি হন। সেই থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে পূর্ব রামপুরার তার ফার্মেসিতে ভুয়া চিকিৎসক ওয়ালী উর রেজা রোগী দেখার জন্য বসতেন।

এ ঘটনায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওয়ালী উর রেজাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বর্তমানে এই ভুয়া চিকিৎসকের ঠাঁই হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন