রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ০৮:৫০:৫৬ পিএম

‘সিন্ডিকেটের কারণে রডের দাম বাড়েনি’

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮ | ০৪:৫৮:২৯ পিএম

সম্প্রতি রডের যে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তা কোনো সিন্ডিকেটের কারণে নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনগুলোর পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্ব বাজারে রডের প্রতি টন কাঁচামালের মূল্য বেড়ে ৩১২ ডলার হতে ৪২৭ ডলার হয়েছে। এতে মূল্য টন প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৯,৮৯২ টাকা। বৃদ্ধির হার ৩৭ শতাংশ। এছাড়া কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ডলারের মূল্য ৮০ টাকা থেকে ৮৪ টাকা অর্থাৎ ৪ টাকা প্রতি ডলারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি টনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭০৮ টাকা। অন্যদিকে ক্যামিকেল (স্পঞ্জ আয়রন ও ফেরো অ্যালয়েজ) মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে প্রতি টনে যথাক্রমে ১৫১৯ টাকা ও ৪৭০ টাকা।

এসময় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রডের মূল্য বৃদ্ধির বেশ কিছু কারণ তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

পোর্ট অপারেশন ব্যয় বৃদ্ধি : অফডকে স্থানান্তর জনিত ব্যয় প্রভৃতি। চট্রগ্রাম পোর্টে ভ্যাসেল হতে সরাসরি ডেলিভারি প্রদান না করে পণ্য অফডকে স্থানান্তরের কারণে চার্জ ৩২০ টাকা হতে ১০০৮ টাকা হয়েছে। এখানে প্রতি টনে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮৮ টাকা। বৃদ্ধির হার ২১৫ শতাংশ।

পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি : পরিবহণ খরচ (কন্টেইনার জনিত) প্রয়োজনীয় ট্রেইলার না থাকায় কন্টেইনার ফেরতে বিলম্বের কারণে ব্যয় ৩০০ টাকা। সরকার কর্তৃক এক্সেল লোড আইনের প্রবর্তনের কারণে প্রতি টনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮০ টাকা, গত জুলাই মাসে প্রতিটি ট্রেইলারের ভাড়া ছিল ২৬,০০০ টাকা যা বর্তমানে ৩৮ হাজার টাকা সেখানে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে প্রতি টনে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৮৮ টাকা যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস জনিত ব্যয় বৃদ্ধি : বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্যাসের চাপ কম জনিত ব্যয় ৩১৬৫ টাকা হতে ৪১৩১ টাকা হয়েছে, সেখানে প্রতি টনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৬৬ টাকা যা বৃদ্ধির হার ৩১ শতাংশ। এছাড়া প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের মূল্য ৭.৫৭ টাকা হতে ৮.১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রতি কিলোওয়াটে ০.৫৮ টাকা ব্যয় বেড়েছে। ফলে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০৮ টাকা।

ব্যাংক সুদের হার : ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশ হতে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রতি টন রড উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০০ টাকা।

সার্বিকভাবে বর্তমানে প্রতি টন রড উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮,৪১৯ টাকা। বর্তমানে প্রতি টন রডের মূল্য ৭০,০০০ টাকা যা পূর্বে ছিল ৫৪,০০০ টাকা (প্রায়)। রডের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ হাজার টাকা অর্থাৎ ৩০ শতাংশ। তাই উৎপাদন ব্যয় যে হারে বেড়েছে সে হারে রডের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি।

এসময় রডের মূল্য বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানের স্বল্প মেয়াদে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে অ্যাসোসিয়েশনগুলোর পক্ষে বলা হয়, সরকার কর্তৃক এক্সেল লোড আদেশ স্টিল শিল্পের ক্ষেত্রে শিথিল করা, অফডকে স্টিল পণ্য প্রেরণ না করে সরাসরি পোর্ট হতে ডেলিভারি প্রদান করা।

কাঁচামালের স্ক্র্যাপের ওপর আরোপিত সিডি ১৫০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা এবং এআইটি ৮০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা, ক্যামিকেল ফেরো অ্যালয়েজ এর ওপর আরোপিত এআইটি ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১২০০ টাকা এবং আরডি ১৫ শতাংশ প্রত্যাহার করা।

এছাড়া মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়- এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আদেশটি ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করে এই সময়ের মধ্যে সামর্থ্য গড়ে তোলার সুযোগ প্রদান করা। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনকে আরও গতিময় ও আকর্ষণীয় করার জন্য এই খাত হতে সকল ধরণের প্রতিবন্ধকতা দূর করণে ট্যাক্স বিরতি প্রদান করাসহ অন্যান্য সুযোগ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মুহম্মাদ শহিদউল্লাহ, আয়োজক অ্যাসোসিয়েশনর পক্ষে মোনয়ার হোসেন, সুমন চৌধুরী, মোহম্মাদ শাজাহান, জাকিরুল চৌধুরী প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন