শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ ০২:৪৪:১১ পিএম

সৌদি আরবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই চালু হচ্ছে সিনেমা হল

আন্তর্জাতিক | বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮ | ০৭:১৫:৫০ পিএম

সৌদি আরবের মানুষজন হলে গিয়ে সর্বশেষ সিনেমা দেখেছে ১৯৭০ এর দশকে। এর পর দেশটির কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের চাপে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ৩৫ বছর ধরে সেখানে কোনো সিনেমা হল ছিল না।

কিন্তু সম্প্রতি সিনেমা হলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাজ পরিবার। এই দীর্ঘ বিরতির পর এ মাসের ১৮ তারিখ রিয়াদে চালু হচ্ছে দেশটির প্রথম সিনেমা হল। আর আগামী ৫ বছরে ১৫ টি সৌদি শহরে ৪০ টি সিনেমা হল চালু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সেজন্য বিশ্বের সবচাইতে বড় সিনেমা হল চেইন অ্যামেরিকান মুভি ক্লাসিকস বা এএমসির সাথে চুক্তি হয়েছে দেশটির। এএমসি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমার সবচেয়ে বড় বাজার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেইনও বটে। সারা পৃথিবীতে সংস্থাটির ২,২০০ সিনেমা হল রয়েছে। এর মধ্যে, শুধু ইউরোপেই রয়েছে ২৪৪টি হল।

বিনোদন ক্ষেত্রে উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেশটিতে একটি সাংস্কৃতিক শহরও গড়ে তোলা হবে। “আল কাদেয়া” নামের এই প্রকল্পের জন্যে সিক্স ফ্লাগস এন্টারটেনমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি সাক্ষরের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এর ফলে, আরব আমিরাতের ভক্স সিনেমাস, যুক্তরাজ্যের ভু, যুক্তরাষ্ট্রের এএমসি এবং কানাাডার আইএমএএক্স সৌদি আবরে ব্যবসা করতে পারবে।

বিনোদনের নানা উৎসে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। বহু দিনের কট্টরপন্থী নিয়ম কানুনে সম্প্রতি শিথিল হতে শুরু করেছে সৌদি আরব।

কাছাকাছি সময়ে আরো অনেক বিষয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে দেশটি। তার মধ্যে একটি হল মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি। এছাড়া সম্প্রতি দেশটির একজন শীর্ষ ধর্মীয় গুরু বলেছেন সৌদি মেয়েদের বোরকার মতো পোশাক আবায়া পরিধানে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

কিন্তু কেন সৌদি আরব তার নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে? বলা হচ্ছে সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের প্রভাবে এসব হচ্ছে। তার ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী দেশটি সামাজিক সংস্কারের দিকে এগুচ্ছে সৌদি আরব। তার মাধ্যমে সৌদি আরবকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চান যুবরাজ সালমান। যে পথে আরো বেশি করে পশ্চিমা বিশ্বের স্বীকৃতি মিলবে।

সৌদি আরবের কিছু নীতিমালায় পশ্চিমা বিশ্বে অনেকদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। নারী অধিকার তার একটি। বিনোদনের কেন্দ্র চালু করার মাধ্যমে রক্ষণশীল সমাজ থেকে সরে আসার এক ধরনের নমুনা সম্ভবত দাঁড় করাতে চাইছে সৌদি আরব। আর সে উদ্দেশ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন যুবরাজ সালমান। মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

আগামী ১০ বছরে দেশটির বিনোদন ক্ষেত্রে ৬৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়াও, সৌদি নারীদের কনসার্টে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে সৌদি আরবে ৫,০০০ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন