সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ০৫:১৫:০৯ এএম

কোরআনের খুদে হাফেজদের ওপর কেন এমন বর্বরতা!

আন্তর্জাতিক | শুক্রবার, ৬ এপ্রিল ২০১৮ | ০৫:০৬:৩৩ পিএম

অক্লান্ত পরিশ্রম ও দীর্ঘদিনের সাধনায় পবিত্র কোরআন শরিফের পুরো ৩০ পারা মুখস্থ করেছে একদল শিশু। তাদের এ কীর্তিতে খুশি শিক্ষকরা। গর্বিত তাদের বাবা-মায়েরাও।

রীতি অনুযায়ী, হাফেজ হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ মাথায় শিশুদের পাগড়ি পরিয়ে দিতে আয়োজন করা হয়েছিল এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পায়নি ১১-১২ বছরের শিশুগুলো। বরং হাসিমুখে অনুষ্ঠানে এসে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত হয়ে প্রাণহীন দেহে ফিরতে হয়েছে তাদের। পাগড়ির বদলে তাদের পরানো হয়েছে কাফনের কাপড়।

আফগানিস্তানের কুন্দুজপ্রদেশের একটি মাদ্রাসায় এমন বর্বরোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত সোমবার সংবর্ধনাস্থলে শিশুদের ওপর বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে প্রায় ১৫০ খুদে হাফেজ নিহত হয়েছে। লাশের সারিতে তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও রয়েছেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছে- নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০০ হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাজি গুলাম নামে একজন বলেন, আমি আমার খামারে কাজ করছিলাম। আমি যুদ্ধবিমান দিয়ে মাদ্রাসায় হামলার শব্দ শুনতে পেয়েছি। তালেবান ওই অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও ওই সনদপ্রদান অনুষ্ঠানে কোরআনে হাফেজ শিশুসহ কিশোররা উপস্থিত ছিল।

তিনি বলেন, মাদ্রাসার কাছে গিয়ে দেখি বহু কোরআনে হাফেজের লাশ পড়ে আছে। আহতদের দেখতে পেয়েছি। এটি ছিল বিপর্যয়। সব জায়গায় ছিল রক্ত। বহুলোক হামলায় নিহত হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে আফগান সিনেটর আব্দুল্লাহ কারলক বলেন, কোরআনে হাফেজদের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। তখন সেখানে কয়েকশ লোক উপস্থিত ছিলেন। আমি যা শুনেছি, তাতে দুই শতাধিক লোক সেখানে নিহত হয়েছেন। নিহতরা সেখানকার শিক্ষক, ছাত্র ও বেসামরিক লোক ছিল।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মোহাম্মদ রাদমানিশ বলেন, তারা তালেবানের একটি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছেন। দাস্তি আর্চি জেলার ওই স্থানটিকে তালেবান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে আসা বিদেশি যোদ্ধারা সেখানে নিহত হয়েছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন