বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:৩৯:১৬ পিএম

মেসেঞ্জারেও ফেসবুকের নজরদারি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | শুক্রবার, ৬ এপ্রিল ২০১৮ | ০৬:০২:০১ পিএম


ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীদের একে অপরকে পাঠানো মেসেজগুলোয় ফেসবুকের নজরদারিতে থাকে এবং কোনো কিছু নীতিমালার সঙ্গে না গেলে তা ব্লক করে দেওয়া হয়- মেসেজে নজরদারির এই বিষয়টি স্বীকার করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য অপব্যবহারে কেলেঙ্কারিতে বর্তমানে আস্থার সংকটে থাকা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইনবক্সের মাধ্যমে কোনো ম্যালওয়ার বা শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়াচ্ছে কিনা তা নজরদারি করতে তারা স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে। এছাড়া কোনো মেসেজ নিয়ে যদি রিপোর্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে তা ম্যানুয়ালিও মডারেটরা যাচাই করে থাকেন।
ফেসবুকের এই নজরদারি ভালো উদ্দেশ্যের জন্য শোনালেও, নতুন এই খবরটি ব্যবহারকারীদের মনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে- মেসেঞ্জারের মতো একান্ত প্লাটফর্মে তাদের গোপনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সাইটটি কতটুকু জানছে।

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী কাজে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ঘটনা সম্প্রতি ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে ফেসবুক। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কল এবং মেসেজের তালিকা সংরক্ষণের ঘটনাতেও সমালোচিত সোশ্যাল জায়ান্ট সাইটটি।
মেসেঞ্জারে নজরদারি প্রসঙ্গে সম্পর্কে সম্প্রতি ভক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মেসেজগুলো তাদের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ব্লক করে দিয়েছিল। ৩৩ বছর বয়সি এই বিলিয়নিয়ার বলেন, মেসেঞ্জারে নজরদারি করা হয় সন্দেহজনক বা নীতিমালা বহির্ভূত কোনো কর্মকান্ড শণাক্ত ও প্রতিরোধ করার জন্য।

এদিকে এই খবরে সোশ্যাল মিডিয়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেসেঞ্জারে ব্যবহারকারীদের মেসেজগুলোতে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে নিয়ে নজরদারি করা হয় না। ফেসবুকের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কনটেন্ট শনাক্তে ফেসবুকে যেসব টুল রয়েছে, একই ধরনের টুল মেসেঞ্জারে নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া কোনো পোস্ট বা মেসেজ নিয়মবর্হিভূত মনে হলে ব্যবহারকারীরা রিপোর্ট করতে পারে। অর্থাৎ ম্যানুয়ালি এবং স্বয়ংক্রিয় উভয়ভাবেই নীতিমালা রক্ষা করা হয়ে থাকে।
ফেসবুক মেসেঞ্জারের একজন মুখপাত্র ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ব্যবহারকারীর মেসেজের গোপনীয়তা আমাদের দায়িত্ব। প্লাটফর্মটিকে নিরাপদ রাখতে ইনবক্সের মাধ্যমে কোনো ম্যালওয়ার বা শিশু পর্নোগ্রাফি ছড়ানো হচ্ছে কিনা তা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়ে থাকে। কোনো মানুষের মাধ্যমে মেসেজগুলো দেখা হয়ে থাকে না। এছাড়া আমরা ব্যবহারকারীদের ভিডিও কল বা অডিও কল শুনি না।’
কিন্তু ফেসবুকের এই বিবৃতিতে ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তা প্রসঙ্গে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। টুইটারে কেভিন চ্যাস্টাইন নামের একজন টুইটে জানান, ‘আমি আমার স্ত্রীকে রাতে ডিনারের জন্য মেসেঞ্জারে একটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানিয়েছিলাম, এর কিছুক্ষণ পরই আমার মেসেঞ্জারে ওই রেস্টুরেন্টে একটি বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। তার মানে তারা ব্যক্তিগত মেসেজে নজরদারি করে। বিষয়টি সত্যিই ভয়ঙ্কর।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন