শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:৫২:৪০ এএম

গডফাদারদের মধ্যে আমিই টিকে আছি : শামীম ওসমান

রাজনীতি | নারায়ণগঞ্জ | শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮ | ০৮:৩৯:৫৮ পিএম

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকজন এমপি সমালোচিত হয়েছিল। তাদের অনেকেই গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। তাদের মধ্যে ছিলেন ফেনীর জয়নাল হাজারী, ঢাকার মকবুল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান।

এদের মধ্যে জয়নাল হাজারী, মকবুল রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেলেও রাজনীতিতে বহাল রয়েছেন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা এমপি শামীম ওসমান। তাকে কেন গডফাদার বলা হতো এবার সেসব বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান।

শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের আমির গোলাম আজমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেয়া, খালেদা জিয়ার লংমার্চ আটকে দেয়ার কারণেই আমাকে গডফাদার উপাধি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এসব কারণে আমি গডফাদার হলাম। জামায়াত, বিএনপি আর কিছু মিডিয়া আমাকে গডফাদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। তখনও আমাকে গডফাদার বলা হয়েছে, এখনও বলা হয়। আর টিকে থাকা গডফাদারদের মধ্যে কেবল আমিই টিকে আছি।

শামীম ওসমান বলেন, রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে হাইব্রিড বেড়ে যায়। সুবিধাবাদী লোক চলে আসে। তখন গিভ অ্যান্ড টেক বেড়ে যায়। কিন্তু রাজনীতি গিভ অ্যান্ড টেক না। এটা একটি ইবাদত।

আওয়ামী লীগের এই দাপুটে এমপি আরও বলেন, যখন ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ি ১৯৭৯ সালে। তখন একবার জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জে আসলেন। আমরা কয়েকজন মিলে সেই গাড়িবহর আটকে দিয়েছিলাম। আমাকে প্রচণ্ড মারধর করা হলো। আমি সেদিন জিয়াউর রহমানের গাড়ি থেকে পতাকা ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। আমাদের বাধার কারণে সেদিন জিয়া প্রবেশ করতে পারেনি।

শামীম ওসমান বলেন, গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জের মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম। সে কারণে গোলাম আজম আমিরগিরি ছেড়ে দেয়। আমি জামায়াত ও গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। কারণ একাত্তরে জামায়াতের রাজাকাররা পাক-বাহিনীকে নারীদের চিনিয়ে দেয়। পরে তাদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। একটু চিন্তা করেন চোখ বন্ধ করে আপনার চোখের সামনে গাছে বেঁধে রেখে আপনার মা বোনকে নির্যাতন করা হচ্ছে। বাবাকে জীবন্ত কবর দেয়া হচ্ছে। অনুভব করেন কেমন লাগে। এ কারণেই জামায়াতকে অপছন্দ করি।

শামীম ওসমান বলেন, চট্টগ্রামে লংমার্চ ঘোষণা করা হলো। আমি একজনের নির্দেশ শুনি। দুইজনের নির্দেশ মানি না। আমি সৎ থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহকে বিশ্বাস করি। খালেদা জিয়া জানতেন কিনা জানি না তবে সেই লংমার্চের বহরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকাসহ অনেকেই ছিলেন না।

ওই লংমার্চে দুটি বাসে ৬৫ জন মাটিকাটার শ্রমিক ছিল যাদের ভাড়া করা হয়েছিল। টার্গেট ছিল জয়নাল হাজারীর ফেনীকে। ওই সময়ে আমি তাদের টার্গেটে ছিলাম না। টার্গেট ও পরিকল্পনা ছিল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বোমাহামলা হবে। আর ওই দুটি বাসে বোমা হামলা হবে। এতে ৬৫ জন মারা যাবে।

শামীম ওসমান বলেন, আমি কিন্তু খালেদা জিয়ার লংমার্চ আটকে দেইনি। তিনি কিন্তু লংমার্চে গিয়েছিল। ৪ ঘণ্টা সময়ক্ষেপণ করেছিলাম। তারা সর্বশক্তি নিয়ে এসেছিল। আমি জনগণকে নিয়ে গাড়িবহর আটকে পড়ে সময়ক্ষেপণ করিয়েছিলাম। ৪ ঘণ্টা সময়ক্ষেপণের কারণে গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা জোরদার করেছিল।

তিনি বলেন, আমি রাজনীতি একটু বুঝেশুনে করি। এ কারণে আমার ওপর বিপদ আসে বেশি। আমি সেই রাজনীতি করি, যদি শেখ হাসিনার ওপর কোনো হাত যেতে চায় তাহলে আমাদের ওপর দিয়ে যেতে হবে। সেই হাত চেষ্টা করবো ভেঙে দিতে। শকুনের হাত বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার ওপর পড়তে দেব না।

শামীম ওসমান সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হবে ফাইনাল খেলা। দেশি-বিদেশি সব খেলা হবে। যদিও আন্তর্জাতিক খেলা অনেক কমে গেছে। সেপ্টেম্বরে দেখবেন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা থাকবে না। কিন্তু আমরা থাকবো। হয়তো এ খেলাতে আগামীতে আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা নাও হতে পারে। তবে সামনের পথচলা অনেক কঠিন হবে।

সিঙ্গাপুর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন রানার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন- সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সুমন ভুইয়া, তুহিন বেপারী, মহসিন মালাহার, আব্দুল মালেক হীরা, রোকন মিয়া, কেএইচ আল আমিন ও ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন