সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ১০:৩৪:৩৯ এএম

কোটা পুনর্মূল্যায়ন সময়ের দাবি

জাতীয় | সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮ | ১২:০৫:২৩ পিএম

বেশ কিছু দিন ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কোটা পদ্ধতির সংস্কার। ইতোমধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহার নির্দেশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলকারীদের দাবি, কোটা পদ্ধতি একেবারে বাতিল নয়, সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন দুই উপাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে যারা যোগ্য, যারা মেধাবী তাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে। কোন দেশে কোটার নামে এ বৈষম্য আছে? কিছু দিনের জন্য হয়তো কোটা পদ্ধতি রাখা যেতে পারে। কিন্ত যুগ যুগ ধরে ছেলে মেয়ে, নাতি-পুতিদের জন্য বংশ পরম্পরা এ রকম ব্যবস্থা চালু রাখা সম্পূর্ণ অর্থহীন ও অযৌক্তিক।

তিনি বলেন, এক সময় এটির ব্যাপক দরকার ছিল। এখন তেমন প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে নাতি-নাতনি কোটার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কেউ কোনো সুযোগ-সুবিধা লাভ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে যায়নি। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে গেছেন নিজের প্রয়োজনে। দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে। সুতরাং এর জন্য তাদের ছেলেমেয়েদের পুরস্কৃত করতে হবে এ ধরনের চিন্তা ভাবনা যেন কারো মাথায় না আসে।

তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য দিক সমস্যা নেই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তবে কেউ যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। সোজা কথা হচ্ছে, কোটা প্রথাটার একটা যৌক্তিক সংস্কার দরকার। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে একটি কমিটি করা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাখা যেতে পারে। নদী ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের জন্য দেওয়া যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে এখন কোটার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আর মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে নাতি-নাতনি বাদ দিতে হবে।’

কোটা সংস্কারের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্ব প্রথম পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর জন্য কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক প্রেক্ষাপটের আলোকে সেটি বাড়ানো-কমানো হয়েছে। তবে তখনকার বাস্তবতা আর এখনকার বাস্তবতা এক বিষয় নয়। মেধাবীদের সুযোগদানের জন্য এ পদ্ধতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন আছে। একেবারে বাদ দেওয়া যাবে না। তবে ধারাবাহিকভাবে তথ্যভিত্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এটি সংস্কার করা যেতে পারে। মেধাবীদের বাদ দিয়ে কোটা পদ্ধতিতে প্রশাসনিক নিয়োগ দেশের জন্য আরো ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোটার প্রয়োজন আছে। তবে সেটি মেধাবীদের বাদ দিয়ে নয়। মেধাবীদের প্রাধান্য দিয়েই কোটা প্রথা চালু রাখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, মূলত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে তুলে আনার জন্য কোটা পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। সময়ে সময়ে সমাজের একটি অংশ এগিয়ে আসে। আবার অন্য অংশ পিছিয়ে পড়ে। এখন সময় এসেছে সেটি পুনর্মূল্যায়নের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন