শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:০৫:৩৪ এএম

৫৬ শতাংশ কোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক: জাবি উপাচার্য

জাবি প্রতিনিধি | শিক্ষাঙ্গন | সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮ | ০৮:১৪:২৩ পিএম

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ কোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। সোমবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন রাস্তায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা।

তিনি বলেন, ‘৫৬ শতাংশ কোটা আসলেই একটি জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে, আমরা তোমাদের পাশে আছি। প্রয়োজন হলে তোমাদের সাথে আমরা একসাথে আন্দোলন করব।’

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমির হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ যতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি তাদের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তাদের বলেছি, এটা এভাবে সমাধান করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হতে পারে। তার জন্য টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, লাঠিপেটা করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। আমরা কেন এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়লাম। আমি এর জবাব চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি যৌক্তিক দাবি। পুলিশি হামলা চালিয়ে এ আন্দোলন দমানো যাবে না। এ দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু সরকার তা না করে শিক্ষার্থীদের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। আমরা আর রক্তপাত চাই না। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর কবির নানককে বিষয়টি জানিয়েছি। কেন আমার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ হামলা করে রক্তাক্ত করল, আমি তার জবাব চেয়েছি।’

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় হাজার খানেক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও জলকামান মেরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় ৭০ জনকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জন চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন