বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ০৮:৩১:১৭ পিএম

রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব : মতিয়া চৌধুরী

রাজনীতি | মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮ | ১২:২০:২৫ পিএম

আন্দোলনের নামে মুখোশ-হেলমেট পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে বর্বরোচিত হামলার কঠোর সমালোচনা করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা হামলাকারীদের জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট দাবি করে বলেন, এ ঘটনা ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল শিক্ষার্থীদের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়। যারা ভণ্ড, প্রতারক ও ষড়যন্ত্রকারী তারাই মুখোশ পরে হামলা করে। এদের ব্যাপারে ন্যুনতম শৈথিলতা দেখানো ঠিক হবে না। এদের কোনো ক্ষমা নেই, ক্ষমা পেতে পারে না। তিনি আরো বলেন, রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে এক অনির্ধারিত বিতর্কে অংশ নিয়ে সদস্যরা এসব দাবি জানান। বিতর্কের সূত্রপাত করেন স্বতন্ত্র এমপি ডা. রুস্তম আলম ফরাজী। আলোচনায় অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, বিএনএফে’র সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় সূচিত হয়েছে। ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হয়ে মোনায়েম খানের বিরুদ্ধেও আমরা তীব্র আন্দোলন করেছি। কিন্তু উপাচার্যের গায়ে হাত দেওয়া, রাতের অন্ধকার বাড়িতে ভয়াবহভাবে হামলা-ভাংচুর করার ঘটনা কখনো কোন শিক্ষার্থী চিন্তাও করেনি। যেটি এবার হয়েছে। এই ঘটনা ঢাবি’র সকল শিক্ষার্থীর জন্য কলঙ্কের ব্যাপার। প্রতিবাদ করতে হলে মুখোশ পড়তে হবে কেন? যারা ভন্ড, প্রতারক, ষড়যন্ত্রকারী তারাই মুখোশ পড়ে। ইতর হওয়ার একটা সীমা আছে। মুখ দেখাতে এতো ভয় কিসের? যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে ওই সময় বগুড়া যে স্টাইলে হামলা এবং আগুন দিয়েছিল, একই স্টাইলে ঢাবি’র উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ফেসবুক, ইন্টারনেট ও সারা পৃথিবীকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনার সুযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফেসবুকে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বানিয়ে উস্কানি প্রদানকারীকে অবশ্যই জাতির সামনে সঠিক জবাব দিতে হবে। কাপুরুষরা মুখ দেখাতে সাহস পায় না বলেই মুখোশ পরে।


কোটা প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে পড়া এবং মফস্বলে পড়া এক নয়। সমান সুযোগ দিয়েই মেধার বিচার করতে হবে। আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান গাত্রদাহই হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। রাজধানী কেন্দ্রীক এলিট শ্রেণীর চক্রান্ত থেকেই জামায়াত-শিবিরের এজেন্টরা ঢাবিতে এ মহড়া দেখিয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব। তাদের ব্যাপারে ন্যুনতম শৈথিলতা দেখানো হবে না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করে বলেন, এদের কোন ক্ষমা নেই, ক্ষমা হতে পারে না।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিমও ন্যাক্কারজনক এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হঠাৎ করে দেখলাম একজন ফেসবুক পেইজে লিখেছে পুলিশের গুলিতে নিহত ঢাবির শিক্ষার্থী মারা গেছেন! সেই সংবাদটি ৩৫ মিনিট ধরে প্রচারের পর কথিত মৃত ব্যক্তি স্ট্যাটাস দিলেন আমি মরি নাই। এধরণের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশকারী ও ছাত্র নামধারী এই মুখোশধারি হামলাকারী কারা? আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রদের আন্দোলনের ভাষণা কখনো এটা হতে পারে না। সহিংসতা কখনো যৌক্তিকতা হতে পারে না, গ্রহণযোগ্যও নয়। সহিংস পথে আর যাই-ই হোক দাবি আদায় করা যায় না। তিনি বলেন, দাবি সকলের থাকতেই পারে। যৌক্তিক দাবি আদায়ে কন্ঠস্বর উচ্চকিত করা এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার নিয়ে রাতের আধাঁরে উপাচার্যের মতো একজন শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর, তছনছ, খুবই পার্সনালি জিনিস আলমারি, ভেনিটিব্যাগ খোলা, স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজা, জাতির পিতার প্রতিকৃতি ভাঙ্গা এটা কোনভাবেই আন্দোলনের আদায়ের পথ বলতে পারি না। অধিকার আদায়ের পথ এটা হতে পারে না। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।

আলোচনার সূত্রপাত করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতার পর ৩০ শতাংশ চাকুরিতে কোটা নির্ধারণ করেছিলেন। এখন সেই কোটা বেড়ে ৫৬ শতাংশ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোটা কমানোর দাবিতে আন্দোলনের পক্ষে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে যে নারকীয় ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। প্রয়োজনে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করে এ দাবির ন্যায্য সমাধান করা যেতে পারে।

বিএনএফে’র সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ঢাবি ভিসির বাসভবনে মুখোশ পড়ে ন্যাক্কারজনক হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবী জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের সামনে রেখে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। সাবিনা আক্তার তুহিন ফেসবুকে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে উস্কানীদাতা গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ছাত্র সমাজের নামে স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। এভাবে চললে আমরা বসে থাকবো না, শুধু প্রতিবাদ নয় প্রয়োজন হলে রাজপথে থেকেই প্রতিরোধ করবো।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন