বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:৩৭:১৫ এএম

রাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিভক্তি, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

মো: নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮ | ০৩:৪৮:১৫ পিএম

দেশব্যাপী চলমান কোটা বৈষম্য সংস্কার আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষন পরিষদের আহ্বানে আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও আজ মঙ্গলবার ফের আন্দোলন করেছে একপক্ষ।

এতে করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ ‘ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্ত পেলেই পেটানো হবে’ বলে স্লোগান দিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, রাবিতে এই আজ আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। গতকাল (সোমবার) রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফের আন্দোলনে নামার জন্য আহ্বান জানায় তারা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি প্যারিস রেড হয়ে সিনেট ভবনের দিকে অগ্রসর হয়।

এ সময় বামসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের আন্দোলনে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বরে জড়ো হয়। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখা কমিটি আন্দোলন স্থগিত রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানায়। একই স্থানে কয়েকটি বাম রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একাংশ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। পরে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে সেখানে ছাত্রলীগের নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ফিরিয়ে আনে। কিন্তু বামপন্থীরা শিক্ষার্থীদের একাংশকে নিয়ে সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা আন্দোলন স্থগিত করবে না বলে ঘোষণা দেয়। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্র্থী এবং বামসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই অংশ জানায়, সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের আলোচনার পর আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসলেও, আমরা তা মানতে রাজি না। তাই আমরা আজও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছি। তারা বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের আশ্বাসে আমরা আন্দোলন স্থগিত করবো না। কোটা সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার সমন্বয়ক মাসুদ মুন্নাফ জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এক মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছি।

কিন্তু আজ সকালে একাংশ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং নিজেদের ক্রেডিট নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী রাবি শাখার সভাপতি ফিদেল মনির বলেন, ‘সকলেই আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু আস্থা কেউ দেয়নি। সেই জায়গা থেকে সরকার সবসময় চেয়েছে এটাকে প্রতিহত করার। এ অবস্থায় আমরা চাই অবিলম্বে কোটা সংস্কার হোক।’

এদিকে, বামপন্থীদের নেতৃত্বে একটি অংশ এবং সংস্কার আন্দোলন রাবি শাখার কমিটি পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় গ্রন্থাগারের সামনে সংস্কার আন্দোলনের রাবি শাখার কমিটি ও পরিবহন মার্কেটের সামনে বামপন্থীদের সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলন করে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন